জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষর
- সর্বশেষ আপডেট ০৩:১৪:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৫
- / 90
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫’-এ স্বাক্ষর করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) দুপুরে রাষ্ট্রপতির দপ্তরের একজন কর্মকর্তা বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন। এই স্বাক্ষরের মাধ্যমে সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত প্রস্তাবগুলো এখন আনুষ্ঠানিকভাবে গণভোটে তোলার পথ সুগম হলো।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মধ্যস্থতায় রাজনৈতিক দলগুলোর আলোচনার ভিত্তিতে জুলাই সনদের যে সংস্কার প্রস্তাবগুলো চূড়ান্ত করা হয়েছিল, সেগুলোর ওপর জনগণের মতামত নেওয়া হবে আসন্ন গণভোটে।
একই দিনে বিকেল আড়াইটায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ধারণা করা হচ্ছে, এই ভাষণেই তিনি গণভোটের তারিখ ঘোষণা করবেন। ভাষণটি বাংলাদেশ টেলিভিশন, বিটিভি নিউজ ও বিটিভি ওয়ার্ল্ডে সরাসরি সম্প্রচার হবে।
এর আগে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
গত ২৮ অক্টোবর জাতীয় ঐকমত্য কমিশন অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দুটি বিকল্প প্রস্তাব জমা দেয়। উভয় বিকল্পেই সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য গণভোট আয়োজন এবং একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
বিকল্প প্রস্তাব–১
১. সরকার ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫’ শিরোনামে একটি আদেশ জারি করবে।
২. আদেশ ও এর তফসিল–১–এ অন্তর্ভুক্ত প্রস্তাবিত সংবিধান সংস্কার বিল গণভোটে উপস্থাপন করা হবে।
৩. জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে, যা সংবিধান সংস্কার বিষয়ে কার্যকর ক্ষমতা প্রয়োগ করবে।
৪. গণভোটে ইতিবাচক ফলাফল পেলে সংস্কার বিলটি পরিষদের কাজের সহায়ক হিসেবে বিবেচিত হবে। পরিষদ ২৭০ দিনের মধ্যে কাজ শেষ না করলে গণভোটে অনুমোদিত বিলটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হবে।
বিকল্প প্রস্তাব–২
১. সরকার একই শিরোনামে একটি বাস্তবায়ন আদেশ জারি করবে, যার খসড়া কমিশনের প্রস্তাবে সংযুক্ত থাকবে।
২. ওই আদেশের তফসিল–১–এ অন্তর্ভুক্ত জুলাই সনদের প্রস্তাবগুলো জনগণের সার্বভৌম মতামতের জন্য গণভোটে উপস্থাপন করা হবে।
৩. জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে, যা ২৭০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কার কার্য সম্পন্ন করবে।
৪. সংস্কার সম্পন্ন হওয়ার পর পরিষদের কার্যক্রম স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমাপ্ত হবে।
গণভোটে জনগণের কাছে যে প্রশ্নটি উপস্থাপন করা হবে, সেটি কমিশনের প্রস্তাবে নির্ধারিত রয়েছে:
“আপনি কি ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ এবং উহার তফসিল–১–এ অন্তর্ভুক্ত সংবিধান সংস্কার প্রস্তাবসমূহের প্রতি আপনার সম্মতি জ্ঞাপন করিতেছেন?”
এই আদেশ ও গণভোট বাংলাদেশের সংবিধানিক কাঠামোয় এক নতুন অধ্যায় সূচনা করবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
































