জুলাই সনদের খসড়া নিয়ে ডেভিড বার্গম্যান
- সর্বশেষ আপডেট ০৮:০৪:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৫
- / 219
জাতীয় ঐকমত্য কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে জুলাই জাতীয় সনদের সমন্বিত খসড়া পাঠিয়েছে। এ খসড়া নিয়ে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। শনিবার (১৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় দলগুলোর কাছে খসড়া পাঠানো হয়, যেখানে সনদ বাস্তবায়নের অঙ্গীকারনামা উল্লেখ থাকলেও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া স্পষ্ট করে বলা হয়নি।
রোববার (১৭ আগস্ট) ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে বার্গম্যান খসড়াটির বিভিন্ন দিক তুলে ধরে সমালোচনা ও পর্যবেক্ষণ প্রকাশ করেন।
বার্গম্যানের পর্যবেক্ষণ
১. সাধারণ সংস্কারের প্রস্তাব
তার মতে, ২৭ পৃষ্ঠার এই খসড়া প্রথম দেখায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সাধারণ বুদ্ধিমত্তার প্রগতিশীল সংস্কার প্রস্তাব করছে। এর মাধ্যমে স্বাধীন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এবং প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা সীমিত করার চেষ্টা করা হয়েছে, যা অধিকাংশ সাংবিধানিক সংস্কারে আগ্রহী মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে।
২. ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ ইস্যুতে অস্পষ্টতা
খসড়ায় ‘রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি’ বিষয়ে একটি কৌশলগত অস্পষ্টতা রাখা হয়েছে। বর্তমানে যেখানে ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ রয়েছে, সেখানে নতুন প্রস্তাবে বলা হয়েছে—‘সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতি’। বার্গম্যানের মতে, এটি সরাসরি ধর্মনিরপেক্ষতা বাদ দেওয়ার প্রস্তাব নয়; বরং নতুন শব্দ যোগ করার বিষয়। ভবিষ্যতে নির্বাচিত সরকারের অধীনে এ নিয়ে বিতর্ক মীমাংসার সুযোগ থাকছে, যা ইতিবাচক দিক।
৩. উচ্চকক্ষ গঠনের প্রশ্ন
সনদে প্রস্তাবিত উচ্চকক্ষ হয়তো প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা করবে, তবে বাস্তবে এটি কতটা কার্যকর হবে তা নিয়ে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
৪. সনদের অবস্থান নিয়ে সমালোচনা
বার্গম্যান মনে করেন, খসড়ায় সনদটিকে সংবিধানের ওপরে স্থান দেওয়ার প্রচেষ্টা করা হয়েছে। যদিও এতে ইতিবাচক কিছু সংস্কার থাকতে পারে, তবে যেসব ছোট রাজনৈতিক দল দীর্ঘদিন অবাধ নির্বাচনে অংশ নেয়নি বা জনগণের পরীক্ষা উতরে আসেনি, তাদের সম্মতিকে জনগণের সর্বোচ্চ ইচ্ছার প্রতিফলন বলা হাস্যকর। সংবিধানের স্থানে সনদ বসবে—এ ধারণাও তিনি ভুল বলেছেন।
৫. ভাষা ও সংখ্যার অসঙ্গতি
তিনি খসড়ার শব্দচয়ন নিয়ে দুটি সমালোচনা করেন।
-
প্রথমত, এতে বলা হয়েছে ‘১ হাজার ৪০০ নিরস্ত্র নাগরিক নিহত’। অথচ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিশ্চিত তালিকায় নিহতের সংখ্যা প্রায় ৮৫০। জাতিসংঘও বলেছে ‘১৪০০ জনের মতো’ নিহত হতে পারে, ‘১৪০০ জনের বেশি’ নয়। তাই তিনি সংখ্যা বাড়িয়ে বলার সমালোচনা করেন।
-
দ্বিতীয়ত, খসড়ায় ২০০৯ সালের বিডিআর হত্যাকাণ্ডকে আওয়ামী লীগের ‘রাষ্ট্রীয় মদদে নৃশংসতা’র উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বার্গম্যানের মতে, এ ঘটনায় সরকারের ষড়যন্ত্রের প্রমাণ নেই, কেবল দুর্বলতা বা ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা থাকতে পারে। ফলে এটিকে সনদে অন্তর্ভুক্ত করা অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক সৃষ্টি করবে।
ডেভিড বার্গম্যানের মতে, জুলাই সনদে কিছু ইতিবাচক সংস্কার প্রস্তাব রয়েছে, যা ভবিষ্যতে বাস্তবায়িত হতে পারে। তবে খসড়াটিকে সংবিধানের ওপরে স্থান দেওয়া বা মৃত্যুর সংখ্যা বাড়িয়ে বলা অনুচিত। যাচাইযোগ্য উদাহরণ বাদ দিয়ে বিতর্কিত বিষয় অন্তর্ভুক্ত করাও সনদের বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে।
































