জুমার নামাজ আদায় না করলে কারাদণ্ড
- সর্বশেষ আপডেট ০৮:৫৭:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ অগাস্ট ২০২৫
- / 236
যথাযথ কারণ ছাড়া শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় না করলে পুরুষদের সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে মালয়েশিয়ার তেরেঙ্গানু রাজ্য সরকার। রাজ্যটির শরিয়া আইনের আওতায় এই নিয়ম কার্যকর হবে।
এতে বলা হয়েছে, জুমার নামাজ আদায় করেনি এমন কোনো পুরুষকে প্রথমবার শনাক্ত করার পর সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা তিন হাজার রিঙ্গিত জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে।
বুধবার দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত সোমবার রাজ্যের প্যান-মালয়েশিয়ান ইসলামিক পার্টি নতুন এই নিয়ম ঘোষণা করে। এর আগে টানা তিনটি জুমার নামাজ আদায় না করলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড বা এক হাজার রিঙ্গিত জরিমানা দেওয়ার বিধান ছিল।
তেরেঙ্গানু ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে যৌথভাবে একটি দল টহল দেবে। এছাড়া, জনসাধারণের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেও এই নিয়ম বাস্তবায়ন করা হবে।
এশিয়া হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড লেবার অ্যাডভোকেটস-এর পরিচালক ফিল রবার্টসন বলেন, এ ধরনের আইন ইসলামকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করে। ধর্ম ও বিশ্বাসের স্বাধীনতার অর্থ হলো এর বিপরীতে বিশ্বাস না করারও স্বাধীনতা থাকবে। তেরেঙ্গানু কর্তৃপক্ষ এমন কঠোর আইন চাপিয়ে দিয়ে স্পষ্টভাবে মানবাধিকার বাধাগ্রস্ত করছে।
তবে তেরেঙ্গানু রাজ্যের আইনসভার সদস্য মুহাম্মদ খালিল আবদুল হাদি স্থানীয় একটি গণমাধ্যমকে বলেছেন, এই শাস্তি শুধু শেষ বিকল্প হিসেবে আরোপ করা হবে। এর মাধ্যমে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হবে যে, জুমার নামাজ শুধু একটি ধর্মীয় প্রতীকই নয়, বরং মুসলমানদের আনুগত্যেরও প্রকাশ।
নিয়মটির ব্যাপারে বক্তব্য নিতে তেরেঙ্গানু রাজ্য সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল গার্ডিয়ান। তবে সরকারের কেউ সাড়া দেননি। গণমাধ্যমটি বলছে, এই আইন প্রথম প্রণীত হয় ২০০১ সালে। ২০১৬ সালে সংশোধন করে কঠোর শাস্তির বিধান যোগ করা হয়। তখন বলা হয়, রমজানের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন বা প্রকাশ্যে নারীদের হয়রানি করলে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।
মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ মালয়েশিয়ায় দ্বৈত আইনব্যবস্থা প্রচলিত। সেখানে ইসলাম রাষ্ট্রীয় ধর্ম হলেও দেওয়ানি আইন চালু আছে। শরিয়ত আদালত মুসলমানদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিষয়ে কর্তৃত্ব রাখে।
































