ঢাকা ০৩:৪৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
নাহিদ ইসলামের হুঁশিয়ারি

জীবিত থাকলে মুজিববাদকে দাফন করব

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০১:০৬:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ জুলাই ২০২৫
  • / 149

নাহিদ ইসলামের হুঁশিয়ারি

“আমরা আবারও গোপালগঞ্জে যাবো”—এমন মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, “আমরা জীবিত থাকলে গোপালগঞ্জের প্রতিটি উপজেলায়, প্রতিটি গ্রামে কর্মসূচি করব। গোপালগঞ্জের প্রতিটি ঘরে ঘরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পতাকা উড়বে। গোপালগঞ্জ মুজিববাদীদের হবে না, বাংলাদেশপন্থীদের হবে।”

বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, “গোপালগঞ্জ ও পুরো বাংলাদেশকে আমরা মুজিববাদী সন্ত্রাস ও ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্ত করব। আওয়ামী লীগ যুগের পর যুগ ধরে গোপালগঞ্জের মানুষের জীবন বিপন্ন করেছে, মুক্তিযুদ্ধকে কলুষিত করেছে এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে বেইনসাফি করেছে। আমরা বলেছি—এই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটাব।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা যুদ্ধের আহ্বান নিয়ে যাইনি। আমাদের পূর্বঘোষিত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি ছিল। মুজিববাদী সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে আমাদের ওপর—যেমনটা হয়েছিল জুলাই গণঅভ্যুত্থানেও। আওয়ামী লীগ সবসময় একটা গৃহযুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি করতে চায়। গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের এত হত্যাযজ্ঞের পরও ৫ আগস্টের পরে অনেকে ‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ’ আনতে চেয়েছিল। তাদের মনে রাখা উচিত, আওয়ামী লীগ এখন আর কোনো রাজনৈতিক দল নয়—এটা একটি সন্ত্রাসবাদী সংগঠন।”

নাহিদ ইসলাম বলেন, “৫ আগস্টের পর আমরা বহুবার বলেছি, আমরা আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় জুলাই গণহত্যার বিচার চাই। কিন্তু ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের লোকদের ব্যাপকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়নি। গ্রেপ্তার হলেও কোর্ট থেকে জামিন নিচ্ছে, থানার হেফাজত থেকেও পালিয়ে যাচ্ছে।”

নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে ফ্যাসিবাদের দোসর এবং দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা ঘাপটি মেরে আছে—যাদের টাকা দিয়ে কিনে ফেলা যায়। নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে গোপালগঞ্জে এসেছিল। প্রশাসন ও নিরাপত্তাবাহিনী যেভাবে ইনস্ট্রাকশন দিয়েছে, সকালের নাশকতার পরও আমরা সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স পেয়েই গোপালগঞ্জে প্রবেশ করেছি। পদযাত্রা করিনি, শুধু পথসভা করেছি। গোপালগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলা থেকে আমাদের লোকজনকে আসতে দেওয়া হয়নি, বিভিন্ন জায়গায় বাস আটকে দেওয়া হয়েছে।”

তিনি বলেন, “তার পরও আমরা শান্তিপূর্ণভাবে পথসভা শেষ করেছি। যাওয়ার পথে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা সশস্ত্র আক্রমণ চালায়। নিরাপত্তাবাহিনী যেভাবে নির্দেশনা দিয়েছে, আমরা সেভাবেই সেখান থেকে বের হয়েছি।”

চারজনের মৃত্যুর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা চারজনের মৃত্যুর কথা শুনেছি। কোনো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে আমরা সমর্থন করি না, প্রত্যাশাও করি না। সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে বিচারিক প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থা যদি সঠিক সময়ে পদক্ষেপ নিত, তাহলে এই পরিস্থিতি তৈরি হতো না।”

নাহিদ ইসলাম বলেন, “এ দায়ভার সরকার ও প্রশাসনের। আমরা পুরো ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও সন্ত্রাসীদের বিচার দাবি করছি। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করতে হবে। শুধু গোপালগঞ্জ নয়, সারা দেশেই এই গ্রেপ্তার অভিযান চালাতে হবে।”

শেষে তিনি বলেন, “আমরা প্রতিজ্ঞা করেছিলাম, আমরা গোপালগঞ্জে যাব। আমরা গেছি এবং শহীদের রক্তের শপথ নিয়ে ঘোষণা করছি—মুজিববাদকে গোপালগঞ্জ ও বাংলাদেশের মাটিতে দাঁড়াতে দেব না। শহীদ বাবু মোল্লার গোপালগঞ্জ, শহীদ রথীন বিশ্বাসের গোপালগঞ্জকে আমরা পুনরুদ্ধার করব। মকসুদপুরে ও কোটালীপাড়ায় আমাদের শহীদদের কবর রয়েছে। এই মাটি মুজিববাদীদের হতে দেব না। বাংলাদেশের এক ইঞ্চি মাটিও মুজিববাদীদের হবে না ইনশাআল্লাহ।”

তিনি আরও বলেন, “যারা গতকালের হামলার প্রতিবাদ জানিয়েছেন, রাস্তায় নেমেছেন—তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা।”

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

নাহিদ ইসলামের হুঁশিয়ারি

জীবিত থাকলে মুজিববাদকে দাফন করব

সর্বশেষ আপডেট ০১:০৬:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ জুলাই ২০২৫

“আমরা আবারও গোপালগঞ্জে যাবো”—এমন মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, “আমরা জীবিত থাকলে গোপালগঞ্জের প্রতিটি উপজেলায়, প্রতিটি গ্রামে কর্মসূচি করব। গোপালগঞ্জের প্রতিটি ঘরে ঘরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পতাকা উড়বে। গোপালগঞ্জ মুজিববাদীদের হবে না, বাংলাদেশপন্থীদের হবে।”

বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, “গোপালগঞ্জ ও পুরো বাংলাদেশকে আমরা মুজিববাদী সন্ত্রাস ও ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্ত করব। আওয়ামী লীগ যুগের পর যুগ ধরে গোপালগঞ্জের মানুষের জীবন বিপন্ন করেছে, মুক্তিযুদ্ধকে কলুষিত করেছে এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে বেইনসাফি করেছে। আমরা বলেছি—এই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটাব।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা যুদ্ধের আহ্বান নিয়ে যাইনি। আমাদের পূর্বঘোষিত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি ছিল। মুজিববাদী সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে আমাদের ওপর—যেমনটা হয়েছিল জুলাই গণঅভ্যুত্থানেও। আওয়ামী লীগ সবসময় একটা গৃহযুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি করতে চায়। গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের এত হত্যাযজ্ঞের পরও ৫ আগস্টের পরে অনেকে ‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ’ আনতে চেয়েছিল। তাদের মনে রাখা উচিত, আওয়ামী লীগ এখন আর কোনো রাজনৈতিক দল নয়—এটা একটি সন্ত্রাসবাদী সংগঠন।”

নাহিদ ইসলাম বলেন, “৫ আগস্টের পর আমরা বহুবার বলেছি, আমরা আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় জুলাই গণহত্যার বিচার চাই। কিন্তু ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের লোকদের ব্যাপকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়নি। গ্রেপ্তার হলেও কোর্ট থেকে জামিন নিচ্ছে, থানার হেফাজত থেকেও পালিয়ে যাচ্ছে।”

নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে ফ্যাসিবাদের দোসর এবং দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা ঘাপটি মেরে আছে—যাদের টাকা দিয়ে কিনে ফেলা যায়। নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে গোপালগঞ্জে এসেছিল। প্রশাসন ও নিরাপত্তাবাহিনী যেভাবে ইনস্ট্রাকশন দিয়েছে, সকালের নাশকতার পরও আমরা সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স পেয়েই গোপালগঞ্জে প্রবেশ করেছি। পদযাত্রা করিনি, শুধু পথসভা করেছি। গোপালগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলা থেকে আমাদের লোকজনকে আসতে দেওয়া হয়নি, বিভিন্ন জায়গায় বাস আটকে দেওয়া হয়েছে।”

তিনি বলেন, “তার পরও আমরা শান্তিপূর্ণভাবে পথসভা শেষ করেছি। যাওয়ার পথে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা সশস্ত্র আক্রমণ চালায়। নিরাপত্তাবাহিনী যেভাবে নির্দেশনা দিয়েছে, আমরা সেভাবেই সেখান থেকে বের হয়েছি।”

চারজনের মৃত্যুর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা চারজনের মৃত্যুর কথা শুনেছি। কোনো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে আমরা সমর্থন করি না, প্রত্যাশাও করি না। সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে বিচারিক প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থা যদি সঠিক সময়ে পদক্ষেপ নিত, তাহলে এই পরিস্থিতি তৈরি হতো না।”

নাহিদ ইসলাম বলেন, “এ দায়ভার সরকার ও প্রশাসনের। আমরা পুরো ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও সন্ত্রাসীদের বিচার দাবি করছি। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করতে হবে। শুধু গোপালগঞ্জ নয়, সারা দেশেই এই গ্রেপ্তার অভিযান চালাতে হবে।”

শেষে তিনি বলেন, “আমরা প্রতিজ্ঞা করেছিলাম, আমরা গোপালগঞ্জে যাব। আমরা গেছি এবং শহীদের রক্তের শপথ নিয়ে ঘোষণা করছি—মুজিববাদকে গোপালগঞ্জ ও বাংলাদেশের মাটিতে দাঁড়াতে দেব না। শহীদ বাবু মোল্লার গোপালগঞ্জ, শহীদ রথীন বিশ্বাসের গোপালগঞ্জকে আমরা পুনরুদ্ধার করব। মকসুদপুরে ও কোটালীপাড়ায় আমাদের শহীদদের কবর রয়েছে। এই মাটি মুজিববাদীদের হতে দেব না। বাংলাদেশের এক ইঞ্চি মাটিও মুজিববাদীদের হবে না ইনশাআল্লাহ।”

তিনি আরও বলেন, “যারা গতকালের হামলার প্রতিবাদ জানিয়েছেন, রাস্তায় নেমেছেন—তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা।”