ঢাকা ০৮:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জাহানারাকে যৌন হেনস্থা, বিসিবির তদন্ত কমিটি গঠন

ক্রীড়া প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ১০:৫৫:৫৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ নভেম্বর ২০২৫
  • / 98

জাহানারাকে যৌন হেনস্থা, বিসিবির তদন্ত কমিটি গঠন

বাংলাদেশ নারী ক্রিকেটে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে অভিজ্ঞ পেসার ও সাবেক অধিনায়ক জাহানারা আলমের বিস্ফোরক অভিযোগ। জাতীয় দলে জায়গা না পাওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশের পর এবার তিনি যৌন হেনস্তা, শারীরিক নির্যাতন, দলীয় রাজনীতি ও ক্যারিয়ার ধ্বংসের মতো গুরুতর অভিযোগ এনেছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি জানায়, সাবেক নারী দলের এক সদস্যের মাধ্যমে গণমাধ্যমে কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে অনিয়ম, অশালীন আচরণ ও নির্যাতনের অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। অভিযোগগুলোর সংবেদনশীলতা বিবেচনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে।

বিসিবি আরও জানায়, খেলোয়াড় ও কর্মীদের জন্য নিরাপদ, সম্মানজনক এবং পেশাদার পরিবেশ নিশ্চিত করতে তারা বদ্ধপরিকর। তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি তদন্তে প্রভাব এড়াতে অনুমানভিত্তিক সংবাদ প্রকাশ না করার আহ্বান জানানো হয়েছে গণমাধ্যমকে।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বর্তমান অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতির বিরুদ্ধে দলীয় রাজনীতি ও ক্যারিয়ার ধ্বংসের অভিযোগ তোলেন জাহানারা। এরপর আরেক সাক্ষাৎকারে তিনি আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে নতুন অভিযোগ প্রকাশ করেন।

তার অভিযোগের তালিকায় রয়েছেন সাবেক নির্বাচক মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জু, প্রয়াত নারী বিভাগের ইনচার্জ তৌহিদ মাহমুদ, ম্যানেজার ফাইয়াজ, কর্মকর্তা বাবু, কোচ ইমন এবং ক্রিকেটার নিগার সুলতানা জ্যোতি, পিংকি, নাহিদা ও রিতুমনি। জাহানারার দাবি, এদের কেউ কেউ তার সঙ্গে অশালীন আচরণ করেছেন, কেউ প্রভাব খাটিয়ে দলীয় রাজনীতি করেছেন, আবার কেউ তার ক্যারিয়ার নষ্টের চেষ্টা করেছেন।

এক পর্যায়ে তিনি আবেগঘনভাবে বলেন, “মঞ্জু একদিন আমার শারীরিক অবস্থা নিয়ে ব্যক্তিগত মন্তব্য করেন। বিশ্বকাপে কিছু ম্যাচে লাইনে দাঁড়িয়ে হ্যান্ডশেকের বদলে আলিঙ্গন করার ঘটনাও ঘটে, যা আমাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে।”

অভিযোগের বিষয়ে বিসিবির এক পরিচালক জানিয়েছেন, এতজনের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ অবশ্যই গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে। বিষয়টি বোর্ডসভায় তোলা হয়েছে এবং সভাপতি ও সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে।

এদিকে, ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াব জাহানারার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও নারী ক্রিকেটে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে।

নারী ক্রিকেটে এটাই প্রথমবার, যখন এত উচ্চপর্যায়ের যৌন ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ প্রকাশ্যে এসেছে। ক্রিকেট বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ঘটনা বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটের কাঠামো, সংস্কৃতি ও জবাবদিহিতার বিষয়গুলো নতুনভাবে আলোচনার জন্ম দেবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

জাহানারাকে যৌন হেনস্থা, বিসিবির তদন্ত কমিটি গঠন

সর্বশেষ আপডেট ১০:৫৫:৫৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ নভেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশ নারী ক্রিকেটে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে অভিজ্ঞ পেসার ও সাবেক অধিনায়ক জাহানারা আলমের বিস্ফোরক অভিযোগ। জাতীয় দলে জায়গা না পাওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশের পর এবার তিনি যৌন হেনস্তা, শারীরিক নির্যাতন, দলীয় রাজনীতি ও ক্যারিয়ার ধ্বংসের মতো গুরুতর অভিযোগ এনেছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি জানায়, সাবেক নারী দলের এক সদস্যের মাধ্যমে গণমাধ্যমে কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে অনিয়ম, অশালীন আচরণ ও নির্যাতনের অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। অভিযোগগুলোর সংবেদনশীলতা বিবেচনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে।

বিসিবি আরও জানায়, খেলোয়াড় ও কর্মীদের জন্য নিরাপদ, সম্মানজনক এবং পেশাদার পরিবেশ নিশ্চিত করতে তারা বদ্ধপরিকর। তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি তদন্তে প্রভাব এড়াতে অনুমানভিত্তিক সংবাদ প্রকাশ না করার আহ্বান জানানো হয়েছে গণমাধ্যমকে।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বর্তমান অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতির বিরুদ্ধে দলীয় রাজনীতি ও ক্যারিয়ার ধ্বংসের অভিযোগ তোলেন জাহানারা। এরপর আরেক সাক্ষাৎকারে তিনি আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে নতুন অভিযোগ প্রকাশ করেন।

তার অভিযোগের তালিকায় রয়েছেন সাবেক নির্বাচক মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জু, প্রয়াত নারী বিভাগের ইনচার্জ তৌহিদ মাহমুদ, ম্যানেজার ফাইয়াজ, কর্মকর্তা বাবু, কোচ ইমন এবং ক্রিকেটার নিগার সুলতানা জ্যোতি, পিংকি, নাহিদা ও রিতুমনি। জাহানারার দাবি, এদের কেউ কেউ তার সঙ্গে অশালীন আচরণ করেছেন, কেউ প্রভাব খাটিয়ে দলীয় রাজনীতি করেছেন, আবার কেউ তার ক্যারিয়ার নষ্টের চেষ্টা করেছেন।

এক পর্যায়ে তিনি আবেগঘনভাবে বলেন, “মঞ্জু একদিন আমার শারীরিক অবস্থা নিয়ে ব্যক্তিগত মন্তব্য করেন। বিশ্বকাপে কিছু ম্যাচে লাইনে দাঁড়িয়ে হ্যান্ডশেকের বদলে আলিঙ্গন করার ঘটনাও ঘটে, যা আমাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে।”

অভিযোগের বিষয়ে বিসিবির এক পরিচালক জানিয়েছেন, এতজনের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ অবশ্যই গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে। বিষয়টি বোর্ডসভায় তোলা হয়েছে এবং সভাপতি ও সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে।

এদিকে, ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াব জাহানারার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও নারী ক্রিকেটে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে।

নারী ক্রিকেটে এটাই প্রথমবার, যখন এত উচ্চপর্যায়ের যৌন ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ প্রকাশ্যে এসেছে। ক্রিকেট বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ঘটনা বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটের কাঠামো, সংস্কৃতি ও জবাবদিহিতার বিষয়গুলো নতুনভাবে আলোচনার জন্ম দেবে।