ঢাকা ০১:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জাহাজজট নিয়ে সমালোচনার মুখে চট্টগ্রাম বন্দর

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ১০:০৯:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ অগাস্ট ২০২৫
  • / 297

জাহাজজট নিয়ে সমালোচনার মুখে চট্টগ্রাম বন্দর

চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজজট কমাতে চলাচলরত জাহাজের সংখ্যা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ১৫টি জাহাজ কমানোর প্রস্তাব দিয়ে শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনকে চিঠি দিয়েছে তারা। তবে এই উদ্যোগকে ঘিরে সমালোচনা উঠেছে দেশি-বিদেশি শিপিং খাতসংশ্লিষ্টদের মধ্যে।

শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দুর্যোগ বা বিশেষ পরিস্থিতি ছাড়া কোনও দেশের বন্দরে চলাচলরত জাহাজ কমানোর নজির নেই। বরং অধিকাংশ দেশ শিপিং কোম্পানিগুলোকে আরও বেশি জাহাজ ভেড়াতে উৎসাহ দেয়। তারা বলছে, চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ সংখ্যা কমালে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটবে, বহির্নোঙরে অপেক্ষমাণ জাহাজের সংখ্যা বাড়বে এবং এতে শিপিং খাতের ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

চট্টগ্রাম বন্দরের এক কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে ১১৮টি কনটেইনারবাহী জাহাজ নিয়মিতভাবে চট্টগ্রাম বন্দরে চলাচল করে। এসব জাহাজ সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, শ্রীলঙ্কা, চীনসহ বিভিন্ন দেশের বন্দরে যাতায়াত করে। কিন্তু বন্দরের টার্মিনাল ও ইয়ার্ডে কনটেইনার স্থান সংকুলানের ঘাটতির কারণে দীর্ঘ সময় ধরে বন্দরে জাহাজজট লেগে থাকছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তির ওপর প্রভাব ফেলছে।

জাহাজজট নিয়ে সমালোচনার মুখে চট্টগ্রাম বন্দর
জাহাজজট নিয়ে সমালোচনার মুখে চট্টগ্রাম বন্দর

এই প্রেক্ষাপটে গত ২০ জুলাই বন্দরের এক বৈঠকে ১৫টি জাহাজ কমানোর প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং সেই তালিকা শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়নকে নিজ উদ্যোগে দেওয়ার জন্য বলা হয়।

তবে শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক খায়রুল আলম সুজন বলেন, “হঠাৎ করে জাহাজ সংখ্যা কমানোর এই প্রস্তাব যৌক্তিক নয়। বন্দরে জাহাজ কমানো হলে আমদানি-রপ্তানি প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটবে, শিপিং খাতের ওপর চাপ বাড়বে। বরং কনটেইনার ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত করে এই সমস্যা সমাধানের পথ খুঁজে বের করা উচিত।”

এদিকে চট্টগ্রাম বন্দর সচিব মো. ওমর ফারুক জানিয়েছেন, এটি জাহাজ সংখ্যা কমানোর কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। বরং চলাচলকারী জাহাজের সংখ্যা যৌক্তিক পর্যায়ে আনতে একটি প্রস্তাব করা হয়েছে। ছোট আকারের জাহাজ ও অ্যাডহক ভিত্তিক যাতায়াতের ফলে কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে, তা সামাল দিতেই এ পদক্ষেপের চিন্তা করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, সবার সাথে আলোচনার ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

শিপিং ও লজিস্টিকস খাতের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের আধুনিকায়ন ও পোর্ট ম্যানেজমেন্টে প্রযুক্তি ব্যবহার বাড়ালেই জাহাজজট কমানো সম্ভব। কেবল জাহাজ কমিয়ে এই সমস্যা সমাধান হবে না, বরং তা পুরো শিপিং ইকোসিস্টেমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে তাদের আশঙ্কা।

এই প্রেক্ষাপটে জাহাজ সংখ্যা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা চললেও, বাস্তবায়নের আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মতামত ও বাজার বিশ্লেষণ অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

জাহাজজট নিয়ে সমালোচনার মুখে চট্টগ্রাম বন্দর

সর্বশেষ আপডেট ১০:০৯:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ অগাস্ট ২০২৫

চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজজট কমাতে চলাচলরত জাহাজের সংখ্যা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ১৫টি জাহাজ কমানোর প্রস্তাব দিয়ে শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনকে চিঠি দিয়েছে তারা। তবে এই উদ্যোগকে ঘিরে সমালোচনা উঠেছে দেশি-বিদেশি শিপিং খাতসংশ্লিষ্টদের মধ্যে।

শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দুর্যোগ বা বিশেষ পরিস্থিতি ছাড়া কোনও দেশের বন্দরে চলাচলরত জাহাজ কমানোর নজির নেই। বরং অধিকাংশ দেশ শিপিং কোম্পানিগুলোকে আরও বেশি জাহাজ ভেড়াতে উৎসাহ দেয়। তারা বলছে, চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ সংখ্যা কমালে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটবে, বহির্নোঙরে অপেক্ষমাণ জাহাজের সংখ্যা বাড়বে এবং এতে শিপিং খাতের ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

চট্টগ্রাম বন্দরের এক কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে ১১৮টি কনটেইনারবাহী জাহাজ নিয়মিতভাবে চট্টগ্রাম বন্দরে চলাচল করে। এসব জাহাজ সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, শ্রীলঙ্কা, চীনসহ বিভিন্ন দেশের বন্দরে যাতায়াত করে। কিন্তু বন্দরের টার্মিনাল ও ইয়ার্ডে কনটেইনার স্থান সংকুলানের ঘাটতির কারণে দীর্ঘ সময় ধরে বন্দরে জাহাজজট লেগে থাকছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তির ওপর প্রভাব ফেলছে।

জাহাজজট নিয়ে সমালোচনার মুখে চট্টগ্রাম বন্দর
জাহাজজট নিয়ে সমালোচনার মুখে চট্টগ্রাম বন্দর

এই প্রেক্ষাপটে গত ২০ জুলাই বন্দরের এক বৈঠকে ১৫টি জাহাজ কমানোর প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং সেই তালিকা শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়নকে নিজ উদ্যোগে দেওয়ার জন্য বলা হয়।

তবে শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক খায়রুল আলম সুজন বলেন, “হঠাৎ করে জাহাজ সংখ্যা কমানোর এই প্রস্তাব যৌক্তিক নয়। বন্দরে জাহাজ কমানো হলে আমদানি-রপ্তানি প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটবে, শিপিং খাতের ওপর চাপ বাড়বে। বরং কনটেইনার ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত করে এই সমস্যা সমাধানের পথ খুঁজে বের করা উচিত।”

এদিকে চট্টগ্রাম বন্দর সচিব মো. ওমর ফারুক জানিয়েছেন, এটি জাহাজ সংখ্যা কমানোর কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। বরং চলাচলকারী জাহাজের সংখ্যা যৌক্তিক পর্যায়ে আনতে একটি প্রস্তাব করা হয়েছে। ছোট আকারের জাহাজ ও অ্যাডহক ভিত্তিক যাতায়াতের ফলে কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে, তা সামাল দিতেই এ পদক্ষেপের চিন্তা করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, সবার সাথে আলোচনার ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

শিপিং ও লজিস্টিকস খাতের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের আধুনিকায়ন ও পোর্ট ম্যানেজমেন্টে প্রযুক্তি ব্যবহার বাড়ালেই জাহাজজট কমানো সম্ভব। কেবল জাহাজ কমিয়ে এই সমস্যা সমাধান হবে না, বরং তা পুরো শিপিং ইকোসিস্টেমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে তাদের আশঙ্কা।

এই প্রেক্ষাপটে জাহাজ সংখ্যা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা চললেও, বাস্তবায়নের আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মতামত ও বাজার বিশ্লেষণ অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।