ঢাকা ০৬:৩৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জামিন হয়নি, ১২ দিনের শিশুসহ কারাগারে মা

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা
  • সর্বশেষ আপডেট ০৭:৩২:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 123

জামিন হয়নি, ১২ দিনের শিশুসহ কারাগারে মা

খুলনার কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়ায় মা শাহজাদী ও তার ১২ দিন বয়সী শিশু মেয়েকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রিজন সেলে পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসকদের পরামর্শে রোববার রাতে কারা কর্তৃপক্ষ তাদের হাসপাতালে নিয়ে যান এবং পৃথক কেবিনে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

সোমবার সকালে খুলনা অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে মা শাহজাদী ও তার মা নার্গিস বেগমের জামিন আবেদন করা হয়। আদালতের বিচারক মো. আনিসুর রহমান জামিন নামঞ্জুর করেন।

আইনজীবী শেখ রফিকুজ্জামান জানান, মঙ্গলবার আদালতের আদেশের অনুলিপি পাওয়া গেলে মহানগর দায়রা জজ আদালতে পুনরায় জামিন আবেদন করা হবে। মূলত মামলাটি মানব পাচারের অভিযোগে হওয়ায় নিম্ন আদালতে জামিনের এখতিয়ার নেই।

ঘটনার পটভূমি জানা গেছে, বাগেরহাটের রামপালের বাসিন্দা সিরাজুল ইসলামের স্ত্রী শাহজাদী ১১ সেপ্টেম্বর রাতে সিজারিয়ানের মাধ্যমে মেয়েকে জন্ম দেন। গর্ভাবস্থায় পরিবারের চাপ ও সন্তানের লিঙ্গ সংক্রান্ত প্রত্যাশায় শাহজাদী মানসিক চাপে ছিলেন। ১৫ সেপ্টেম্বর তিনি একটি অন্য রোগীর ছেলে নবজাতক চুরি করেন।

সিসি ক্যামেরা ও পুলিশের তৎপরতায় চুরি যাওয়া ছেলে নবজাতক উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শাহজাদী ও তার মা নার্গিস বেগমকে আসামি করে মানব পাচার আইনে মামলা করা হয়। নার্গিস বেগম গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। শাহজাদীও ২১ সেপ্টেম্বর কারাগারে পাঠানো হয়, সঙ্গে ছিল তার ১২ দিনের শিশু মেয়ে।

খুলনা জেলা কারাগারের জেল সুপার নাসির উদ্দিন জানান, শাহজাদী অসুস্থ ও শিশু হওয়ায় সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শে তাদের প্রিজন সেলে পাঠানো হয়েছে।

চুরি যাওয়া শিশুর বাবা মির্জা সুমন বলেন, “মেয়ের জন্মের পর আমার ছেলে বুকের দুধ পাচ্ছিল না। তখন শাহজাদী তার মেয়েকে ও আমার ছেলেকে একসঙ্গে দুধ খাওয়েছিলেন। ভুল বোঝাবুঝির কারণে আমি মামলা করেছি, এখন চাই না এই মামলা চালাতে।”

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহীন কবির জানান, বিষয়টি এখন আদালতের এখতিয়ারাধীন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

জামিন হয়নি, ১২ দিনের শিশুসহ কারাগারে মা

সর্বশেষ আপডেট ০৭:৩২:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫

খুলনার কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়ায় মা শাহজাদী ও তার ১২ দিন বয়সী শিশু মেয়েকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রিজন সেলে পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসকদের পরামর্শে রোববার রাতে কারা কর্তৃপক্ষ তাদের হাসপাতালে নিয়ে যান এবং পৃথক কেবিনে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

সোমবার সকালে খুলনা অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে মা শাহজাদী ও তার মা নার্গিস বেগমের জামিন আবেদন করা হয়। আদালতের বিচারক মো. আনিসুর রহমান জামিন নামঞ্জুর করেন।

আইনজীবী শেখ রফিকুজ্জামান জানান, মঙ্গলবার আদালতের আদেশের অনুলিপি পাওয়া গেলে মহানগর দায়রা জজ আদালতে পুনরায় জামিন আবেদন করা হবে। মূলত মামলাটি মানব পাচারের অভিযোগে হওয়ায় নিম্ন আদালতে জামিনের এখতিয়ার নেই।

ঘটনার পটভূমি জানা গেছে, বাগেরহাটের রামপালের বাসিন্দা সিরাজুল ইসলামের স্ত্রী শাহজাদী ১১ সেপ্টেম্বর রাতে সিজারিয়ানের মাধ্যমে মেয়েকে জন্ম দেন। গর্ভাবস্থায় পরিবারের চাপ ও সন্তানের লিঙ্গ সংক্রান্ত প্রত্যাশায় শাহজাদী মানসিক চাপে ছিলেন। ১৫ সেপ্টেম্বর তিনি একটি অন্য রোগীর ছেলে নবজাতক চুরি করেন।

সিসি ক্যামেরা ও পুলিশের তৎপরতায় চুরি যাওয়া ছেলে নবজাতক উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শাহজাদী ও তার মা নার্গিস বেগমকে আসামি করে মানব পাচার আইনে মামলা করা হয়। নার্গিস বেগম গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। শাহজাদীও ২১ সেপ্টেম্বর কারাগারে পাঠানো হয়, সঙ্গে ছিল তার ১২ দিনের শিশু মেয়ে।

খুলনা জেলা কারাগারের জেল সুপার নাসির উদ্দিন জানান, শাহজাদী অসুস্থ ও শিশু হওয়ায় সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শে তাদের প্রিজন সেলে পাঠানো হয়েছে।

চুরি যাওয়া শিশুর বাবা মির্জা সুমন বলেন, “মেয়ের জন্মের পর আমার ছেলে বুকের দুধ পাচ্ছিল না। তখন শাহজাদী তার মেয়েকে ও আমার ছেলেকে একসঙ্গে দুধ খাওয়েছিলেন। ভুল বোঝাবুঝির কারণে আমি মামলা করেছি, এখন চাই না এই মামলা চালাতে।”

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহীন কবির জানান, বিষয়টি এখন আদালতের এখতিয়ারাধীন।