আ. লীগের সময়ও ছিল দাপট
জামালপুরে জামায়াত নেতা হারুনের বেপরোয়া কর্মকাণ্ড
- সর্বশেষ আপডেট ০৭:১০:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ অগাস্ট ২০২৫
- / 277
আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নেয়ার অভিযোগ উঠেছে জামায়াত নেতা মো. হারুনুর রশিদের বিরুদ্ধে। বাড়িঘরে হামলা, গরু লুট ও ক্লিনিক ব্যবসার অংশীদার করার কথা বলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এছাড়াও একটি সি.আর. মামলায় ৮ মাসের সাজাপ্রাপ্ত আসামী হয়ে থাকলেও তিনি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তিনি সেক্রেটারি পদ থেকে বহিস্কৃত হয়েছেন। অপরদিকে ইটভাটা নির্মাণে অন্যের জমি লীজ নিয়ে চুক্তি অনুযায়ী টাকা পরিশোধ না করেই জোরপূর্বক দখল করে রাখার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
জেলার মেলান্দহ উপজেলার পশ্চিম বুরুঙ্গা এলাকার বাসিন্দা মো. নবীন বলেন, “গেল ২০১৮ সালে বহিস্কৃত জামায়াত নেতা মো. হারুনুর রশিদ জোরপূর্বকভাবে ইটভাটা করার জন্য আমাদের কাছ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত লীজ নেন। চুক্তি অনুযায়ী মেয়াদ শেষে হয়ে গেলেও হারুন ওই জায়গা প্রকৃত মালিকদের ফেরত না দিয়ে অন্য একজনের কাছে লীজ দেন। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে আমি আমার জমিতে গেলে তৎকালীন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহমেদকে দিয়ে আমাকে ও আমার এক ভাতিজাকে পুলিশ দিয়ে গ্রেপ্তার করিয়ে জেল হাজাতে প্রেরণ করেন। দীঘদিন জেল খেটে বের হয়ে আমি আমার জায়গাটি ফিরিয়ে দিতে জামায়াত নেতা মো. হারুনুর রশিদকে অনুরোধ করতে থাকি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে হারুন তার সন্ত্রাসী বাহিনীর মাধ্যমে গত জানুয়ারীর ৯ তারিখে আমার অনুপস্থিতিতে বাড়িতে হামলা চালায় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে বাড়িঘর ভাঙচুর করে। এসময় তারা আমার নৈশ প্রহরীকে জিম্মি করে গোয়াল ঘরে থাকা আটটি গরু নিয়ে যায়। এঘটনায় মেলান্দহ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করি।”
জানা যায়, জামায়াত নেতা মো. হারুনুর রশিদ বিভিন্ন পন্থায় স্থানীয় লোকদের কাছ থেকে ব্যবসার অংশীদারের কথা বলে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেয়ারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়াও ২০২৪ সালের ২৩ এপ্রিল আদালত একটি সি.আর. মামলায় হারুনকে ৮ মাসের সাজা প্রদান করলেও তিনি এখনো প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
এব্যাপারে মেলান্দহ থানার ওসি মো. মাসুদুর রহমান বলেন, “তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি থাকলে তাকে দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করা হবে।”
অভিযুক্ত জামায়াত নেতা মো. হারুনুর রশিদ অভিযোগ প্রসঙ্গে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। আমি চুক্তি অনুযায়ী বৈধভাবে ইটভাটা নির্মাণ করেছি।”
জামালপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর মো. খলিলুর রহমান জানান, “দলীয় নীতি বহির্ভূত কাজের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে ইতিমধ্যেই সেক্রেটারি পদ থেকে নামিয়ে সদস্য পদে অবনমিত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আরও অনেক অভিযোগ রয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে এসব অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

































