ঢাকা ১০:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
৩০ শীর্ষ নেতার চিঠি ফাঁস

জামায়াত জোট নিয়ে এনসিপিতে বিদ্রোহ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:৪৬:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 124

এনসিপি-জামায়াত

জামায়াতে ইসলামীসহ ৮ দলীয় জোটের সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রাজনৈতিক জোট বা আসন সমঝোতার সম্ভাবনা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির ৩০ জন সদস্য। এ বিষয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়ে শনিবার দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের কাছে একটি চিঠি দিয়েছেন তাঁরা।

দলের যুগ্ম সদস্যসচিব মুশফিক উস সালেহীন চিঠির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

চিঠিতে নেতারা এনসিপির ঘোষিত আদর্শ, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান–পরবর্তী ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা এবং গণতান্ত্রিক নৈতিকতার আলোকে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক সমঝোতার বিরোধিতা করেন।

চিঠিতে বলা হয়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর গত এক বছরে জামায়াতে ইসলামী ও তাদের ছাত্র সংগঠন ছাত্রশিবির বিভাজনমূলক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিল। অন্যান্য রাজনৈতিক দলে গুপ্তচরবৃত্তি ও স্যাবোটেজ, এনসিপির ওপর বিভিন্ন অপকর্মের দায় চাপানোর চেষ্টা, ছাত্র সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ (বাগছাস) ও পরবর্তীতে ছাত্রশক্তি বিষয়ে অপপ্রচার, অনলাইন মাধ্যমে এনসিপি ও তাদের ছাত্র সংগঠনের নারী সদস্যদের চরিত্রহননের চেষ্টা এবং ধর্মকে কেন্দ্র করে সামাজিক ফ্যাসিবাদের উত্থানের আশঙ্কাকে দেশের ভবিষ্যতের জন্য অশনিসংকেত বলে উল্লেখ করা হয়।

চিঠিতে আরও বলা হয়, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াতে ইসলামীর স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকা, গণহত্যায় সহযোগিতা এবং সে সময় সংঘটিত অপরাধ বিষয়ে তাদের অবস্থান বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক চেতনা ও এনসিপির মূল্যবোধের সঙ্গে মৌলিকভাবে সাংঘর্ষিক।

নেতারা উল্লেখ করেন, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে কোনো ধরনের জোট এনসিপির নৈতিক অবস্থানকে দুর্বল করবে এবং দলের রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

চিঠিতে বলা হয়, এর আগে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ৩০০ আসনে প্রার্থী দিয়ে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। প্রায় দেড় হাজার মনোনয়নপত্র বিক্রি করে ১২৫ জন প্রার্থী ঘোষণার পর অল্প কয়েকটি আসনের জন্য জোটে যাওয়া জাতির সঙ্গে প্রতারণার শামিল বলে মনে করেন তাঁরা।

নেতারা আরও বলেন, জোটের সম্ভাবনার খবর প্রকাশের পরপরই দলের সমর্থক, কর্মী ও সংগঠকদের একটি বড় অংশ এনসিপি থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। এতে মধ্যপন্থী ও নতুন রাজনীতি প্রত্যাশী সমর্থকদের হারানোর ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

চিঠিতে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক জোটে না যাওয়ার বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। সেখানে বলা হয়, নীতিগত অবস্থানের ভিত্তিতেই কৌশল নির্ধারণ করা উচিত, কৌশলগত কারণে নীতিগত অবস্থান বিসর্জন দেওয়া উচিত নয়।

চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ, যুগ্ম সদস্যসচিব মুশফিক উস সালেহীন, কেন্দ্রীয় সংগঠক আরমান হোসাইন, যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুম, যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক খান মো. মুরসালীন, সংগঠক রফিকুল ইসলাম আইনীসহ আরও অনেকে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

৩০ শীর্ষ নেতার চিঠি ফাঁস

জামায়াত জোট নিয়ে এনসিপিতে বিদ্রোহ

সর্বশেষ আপডেট ০৮:৪৬:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫

জামায়াতে ইসলামীসহ ৮ দলীয় জোটের সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রাজনৈতিক জোট বা আসন সমঝোতার সম্ভাবনা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির ৩০ জন সদস্য। এ বিষয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়ে শনিবার দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের কাছে একটি চিঠি দিয়েছেন তাঁরা।

দলের যুগ্ম সদস্যসচিব মুশফিক উস সালেহীন চিঠির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

চিঠিতে নেতারা এনসিপির ঘোষিত আদর্শ, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান–পরবর্তী ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা এবং গণতান্ত্রিক নৈতিকতার আলোকে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক সমঝোতার বিরোধিতা করেন।

চিঠিতে বলা হয়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর গত এক বছরে জামায়াতে ইসলামী ও তাদের ছাত্র সংগঠন ছাত্রশিবির বিভাজনমূলক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিল। অন্যান্য রাজনৈতিক দলে গুপ্তচরবৃত্তি ও স্যাবোটেজ, এনসিপির ওপর বিভিন্ন অপকর্মের দায় চাপানোর চেষ্টা, ছাত্র সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ (বাগছাস) ও পরবর্তীতে ছাত্রশক্তি বিষয়ে অপপ্রচার, অনলাইন মাধ্যমে এনসিপি ও তাদের ছাত্র সংগঠনের নারী সদস্যদের চরিত্রহননের চেষ্টা এবং ধর্মকে কেন্দ্র করে সামাজিক ফ্যাসিবাদের উত্থানের আশঙ্কাকে দেশের ভবিষ্যতের জন্য অশনিসংকেত বলে উল্লেখ করা হয়।

চিঠিতে আরও বলা হয়, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াতে ইসলামীর স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকা, গণহত্যায় সহযোগিতা এবং সে সময় সংঘটিত অপরাধ বিষয়ে তাদের অবস্থান বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক চেতনা ও এনসিপির মূল্যবোধের সঙ্গে মৌলিকভাবে সাংঘর্ষিক।

নেতারা উল্লেখ করেন, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে কোনো ধরনের জোট এনসিপির নৈতিক অবস্থানকে দুর্বল করবে এবং দলের রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

চিঠিতে বলা হয়, এর আগে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ৩০০ আসনে প্রার্থী দিয়ে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। প্রায় দেড় হাজার মনোনয়নপত্র বিক্রি করে ১২৫ জন প্রার্থী ঘোষণার পর অল্প কয়েকটি আসনের জন্য জোটে যাওয়া জাতির সঙ্গে প্রতারণার শামিল বলে মনে করেন তাঁরা।

নেতারা আরও বলেন, জোটের সম্ভাবনার খবর প্রকাশের পরপরই দলের সমর্থক, কর্মী ও সংগঠকদের একটি বড় অংশ এনসিপি থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। এতে মধ্যপন্থী ও নতুন রাজনীতি প্রত্যাশী সমর্থকদের হারানোর ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

চিঠিতে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক জোটে না যাওয়ার বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। সেখানে বলা হয়, নীতিগত অবস্থানের ভিত্তিতেই কৌশল নির্ধারণ করা উচিত, কৌশলগত কারণে নীতিগত অবস্থান বিসর্জন দেওয়া উচিত নয়।

চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ, যুগ্ম সদস্যসচিব মুশফিক উস সালেহীন, কেন্দ্রীয় সংগঠক আরমান হোসাইন, যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুম, যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক খান মো. মুরসালীন, সংগঠক রফিকুল ইসলাম আইনীসহ আরও অনেকে।