ঢাকা ১১:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
মির্জা ফখরুলের কড়া সমালোচনা

জামায়াতের টিকিট নিলে নাকি জান্নাতের টিকিট কাটা হয়?

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৪:০৮:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ নভেম্বর ২০২৫
  • / 122

মির্জা ফখরুল ইসলাম

জামায়াত ইসলামী ধর্মীয় আবহ ব্যবহার করে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে—এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, “জামায়াতের টিকিট নিলে নাকি জান্নাতের টিকিট কাটা হয়ে যায়—এ ধরনের ধারণা ইসলাম কোথাও সমর্থন করে না। কেউ যদি তা প্রমাণ করতে পারে, দেখাক। ধর্মকে এভাবে রাজনীতির হাতিয়ার করা ঠিক নয়।”

শনিবার (২২ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর আইডিইবির মাল্টিপারপাস হলে ইসলামিক ফাউন্ডেশন কেয়ারটেকার কল্যাণ পরিষদ আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব মন্তব্য করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, একসময় জামায়াত রাজনীতিতে দুর্বল অবস্থায় ছিল, তখন জিয়াউর রহমান তাদের রাজনীতিতে টিকে থাকার সুযোগ করে দেন। পরবর্তী সময় বিএনপিও তাদের সঙ্গে কাজ করেছে। কিন্তু গত দশকে শেখ হাসিনার বিরোধী আন্দোলনে জামায়াত দৃশ্যমান ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি অভিযোগ করেন, এতদিন সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতি নিয়ে যে দল জোরালো বক্তব্য দিচ্ছিল, এখন তারা নরম সুরে কথা বলছে এবং নির্বাচনের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। পিআর ও গণভোট—এই ধারণাগুলো সাধারণ মানুষের কাছে পরিষ্কার নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সাবেক সরকারের কঠোর শাসন প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “গত ১৫–১৬ বছর আমরা দেখেছি কিভাবে ফ্যাসিস্ট হাসিনা মানুষের ভোটাধিকার, বাকস্বাধীনতা থেকে শুরু করে ধর্ম পালনের স্বাধীনতাও সীমিত করে ফেলেছেন। তারপরও দাবি করেছেন তিনি ইসলামের পক্ষে কাজ করেছেন। দুর্ভাগ্যজনক হলো—দেশের কিছু আলেম-ওলামা তাকে ‘কওমি জননী’ উপাধিও দিয়েছেন।”

ইন্দোনেশিয়ার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেখানে সরকার যেই হোক না কেন, শক্তিশালী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান অ্যাসোসিয়েশন অব উলামা ছাড়া রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত হয় না। কিন্তু বাংলাদেশে এরকম কোনো প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো নেই।

নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টা ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা বলেছেন। এর আগে সংস্কার কমিশন নয় মাস ধরে আলোচনা করে নানা প্রস্তাব দিলেও সেগুলো জনগণের কাছে বোঝা কঠিন বলে প্রতিবেদন দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য জাতীয় ঐক্য জরুরি। জনগণের ভোটে গঠিত সংসদেই দেশের বাস্তব সমস্যা সমাধান হতে পারে—এটাই হবে জনগণের প্রকৃত সিদ্ধান্ত।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

মির্জা ফখরুলের কড়া সমালোচনা

জামায়াতের টিকিট নিলে নাকি জান্নাতের টিকিট কাটা হয়?

সর্বশেষ আপডেট ০৪:০৮:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ নভেম্বর ২০২৫

জামায়াত ইসলামী ধর্মীয় আবহ ব্যবহার করে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে—এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, “জামায়াতের টিকিট নিলে নাকি জান্নাতের টিকিট কাটা হয়ে যায়—এ ধরনের ধারণা ইসলাম কোথাও সমর্থন করে না। কেউ যদি তা প্রমাণ করতে পারে, দেখাক। ধর্মকে এভাবে রাজনীতির হাতিয়ার করা ঠিক নয়।”

শনিবার (২২ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর আইডিইবির মাল্টিপারপাস হলে ইসলামিক ফাউন্ডেশন কেয়ারটেকার কল্যাণ পরিষদ আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব মন্তব্য করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, একসময় জামায়াত রাজনীতিতে দুর্বল অবস্থায় ছিল, তখন জিয়াউর রহমান তাদের রাজনীতিতে টিকে থাকার সুযোগ করে দেন। পরবর্তী সময় বিএনপিও তাদের সঙ্গে কাজ করেছে। কিন্তু গত দশকে শেখ হাসিনার বিরোধী আন্দোলনে জামায়াত দৃশ্যমান ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি অভিযোগ করেন, এতদিন সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতি নিয়ে যে দল জোরালো বক্তব্য দিচ্ছিল, এখন তারা নরম সুরে কথা বলছে এবং নির্বাচনের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। পিআর ও গণভোট—এই ধারণাগুলো সাধারণ মানুষের কাছে পরিষ্কার নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সাবেক সরকারের কঠোর শাসন প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “গত ১৫–১৬ বছর আমরা দেখেছি কিভাবে ফ্যাসিস্ট হাসিনা মানুষের ভোটাধিকার, বাকস্বাধীনতা থেকে শুরু করে ধর্ম পালনের স্বাধীনতাও সীমিত করে ফেলেছেন। তারপরও দাবি করেছেন তিনি ইসলামের পক্ষে কাজ করেছেন। দুর্ভাগ্যজনক হলো—দেশের কিছু আলেম-ওলামা তাকে ‘কওমি জননী’ উপাধিও দিয়েছেন।”

ইন্দোনেশিয়ার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেখানে সরকার যেই হোক না কেন, শক্তিশালী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান অ্যাসোসিয়েশন অব উলামা ছাড়া রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত হয় না। কিন্তু বাংলাদেশে এরকম কোনো প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো নেই।

নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টা ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা বলেছেন। এর আগে সংস্কার কমিশন নয় মাস ধরে আলোচনা করে নানা প্রস্তাব দিলেও সেগুলো জনগণের কাছে বোঝা কঠিন বলে প্রতিবেদন দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য জাতীয় ঐক্য জরুরি। জনগণের ভোটে গঠিত সংসদেই দেশের বাস্তব সমস্যা সমাধান হতে পারে—এটাই হবে জনগণের প্রকৃত সিদ্ধান্ত।