ঢাকা ০৬:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জামায়াতের সমাবেশের প্রথম পর্ব শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ১২:০৯:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ জুলাই ২০২৫
  • / 140

সকাল ১০টার আগেই লোকে লোকারণ্য জামায়াতের সমাবেশ

সাত দফা দাবি আদায়ে জামায়াতের ডাকা জাতীয় সমাবেশ সফল করতে সারাদেশ থেকে দলটির নেতা-কর্মীরা ঢাকায় জড়ো হয়েছেন। রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দুপুর ২টা থেকে সমাবেশ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে গতকাল শুক্রবার (১৮ জুলাই) সন্ধ্যা থেকেই উদ্যানে জড়ো হয়েছেন দলটির নেতা-কর্মীরা। তবে আজ ভোর থেকে রাজধানীতে ঢল নামে দলটির নেতা-কর্মীদের। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তারা ঢাকায় পৌঁছাতে শুরু করেছেন।

দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বাস, ট্রেন ও লঞ্চে করে রাজধানীতে এসে মিছিল সহকারে নেতা-কর্মীরা সমাবেশস্থলে প্রবেশ করছেন। দাঁড়িপাল্লা ও দলীয় মনোগ্রাম সম্বলিত টি-শার্ট,পাঞ্জাবি পরে এসেছে হাজার নেতাকর্মী, অনেকের হাতে দলীয় প্রতীক দাাঁড়িপাল্লা শোভা পাচ্ছে।

পাশাপাশি, জাতীয় সমাবেশে যোগদানের জন্য জামায়াতকে রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ রুটে দুটি স্পেশাল ট্রেন বরাদ্দ দিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া, চট্টগ্রাম থেকেও একটি স্পেশাল ট্রেন ভাড়া করেছে দলটি।

জামায়াত সূত্র জানিয়েছে, স্পেশাল ট্রেন ছাড়াও চট্টগ্রামের কুমিল্লা, ফেনী, নোয়াখালী, চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা থেকেও ভাড়ায় চালিত অসংখ্য বাসে নেতা-কর্মী ঢাকায় যাবেন। সমাবেশে তাদের ১০ লাখ লোকের জমায়েতের পরিকল্পণা নিয়েছে দলটি।

শনিবার সকাল ১০টার পর কোরআন তেলাওয়াত ও ইসলামি সংগীতের মাধ্যমে সমাবেশ শুরু হয়। মূল কর্মসূচি শুরু হবে দুপুর ২টায়।

জামায়েতের সমাবেশকে ঘিরে রাজধানীর বিভিন্ন প্রবেশমুখ দিয়ে তাদের নেতাকর্মীরা প্রবেশ করছেন। শাহবাগ, মৎস্য ভবন মোড়, বাংলামোটর, কারওয়ান বাজারসহ আশপাশের এলাকায় রাস্তায় নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে যানবাহন ধীর গতিতে চলাচল করছে। তবে অধিকাংশ রাস্তাতেই রাস্তার একটি অংশ যানচলাচলের জন্য ছেড়ে দিয়ে মিছিল নিয়ে প্রবেশ করছেন নেতা-কর্মীরা।

নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান নিয়ে সমাবেশ স্থলে যাচ্ছেন। স্লোগানের মধ্যে রয়েছে: ‘কে বলেরে রাজাকার, সাঈদী মোদের অহংকার’; ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’; ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ’; ‘মুজিদবাদ মুজিদবাদ, মুর্দাবাদ মুর্দাবাদ’; ‘জামায়েত ইসলামীর বাংলায়, মুজিববাদের ঠাই নাই’ ইত্যাদি।

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নেতাকর্মীদের বহন করে নিয়ে আসা বাসগুলো মানিক মিয়া এভিনিউ, খামারবাড়ি, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, ইস্কাটন এলাকায় পার্কিং করা দেখা গেছে

ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং শৃঙ্খলার জন্য রাস্তায় রয়েছেন জামায়াতের স্বেচ্ছাসেবকরা। তারা জানিয়েছেন সমাবেশ সফল করতে রাস্তায় কয়েক হাজার স্বেচ্ছাসেবক রয়েছেন। প্রতিটি পয়েন্টে শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক কাজ করছে।

রমনা ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার রুমানা আক্তার বলেন, ‘রমনা এলাকায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে আছে। বাসগুলো নির্দিষ্ট স্থানে রাখা হয়েছে, আর ছোট গাড়িগুলোর চলাচল স্বাভাবিক। যানজট এড়াতে বিকল্প সড়ক ও বিভিন্ন স্থানে ডাইভারশনও চালু করা হয়েছে।’

সাত দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এককভাবে সমাবেশ করছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

দাবিগুলো হল: অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিতকরণ; সব গণহত্যার বিচার; প্রয়োজনীয় মৌলিক সংস্কার; ‘জুলাই সনদ’ ও ঘোষণাপত্র বাস্তবায়ন; জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবারের পুনর্বাসন; সংখ্যানুপাতিক (পিআর) পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচন এবং এক কোটিরও বেশি প্রবাসী ভোটারদের ভোটাধিকার নিশ্চিতকরণ।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

জামায়াতের সমাবেশের প্রথম পর্ব শুরু

সর্বশেষ আপডেট ১২:০৯:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ জুলাই ২০২৫

সাত দফা দাবি আদায়ে জামায়াতের ডাকা জাতীয় সমাবেশ সফল করতে সারাদেশ থেকে দলটির নেতা-কর্মীরা ঢাকায় জড়ো হয়েছেন। রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দুপুর ২টা থেকে সমাবেশ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে গতকাল শুক্রবার (১৮ জুলাই) সন্ধ্যা থেকেই উদ্যানে জড়ো হয়েছেন দলটির নেতা-কর্মীরা। তবে আজ ভোর থেকে রাজধানীতে ঢল নামে দলটির নেতা-কর্মীদের। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তারা ঢাকায় পৌঁছাতে শুরু করেছেন।

দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বাস, ট্রেন ও লঞ্চে করে রাজধানীতে এসে মিছিল সহকারে নেতা-কর্মীরা সমাবেশস্থলে প্রবেশ করছেন। দাঁড়িপাল্লা ও দলীয় মনোগ্রাম সম্বলিত টি-শার্ট,পাঞ্জাবি পরে এসেছে হাজার নেতাকর্মী, অনেকের হাতে দলীয় প্রতীক দাাঁড়িপাল্লা শোভা পাচ্ছে।

পাশাপাশি, জাতীয় সমাবেশে যোগদানের জন্য জামায়াতকে রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ রুটে দুটি স্পেশাল ট্রেন বরাদ্দ দিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া, চট্টগ্রাম থেকেও একটি স্পেশাল ট্রেন ভাড়া করেছে দলটি।

জামায়াত সূত্র জানিয়েছে, স্পেশাল ট্রেন ছাড়াও চট্টগ্রামের কুমিল্লা, ফেনী, নোয়াখালী, চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা থেকেও ভাড়ায় চালিত অসংখ্য বাসে নেতা-কর্মী ঢাকায় যাবেন। সমাবেশে তাদের ১০ লাখ লোকের জমায়েতের পরিকল্পণা নিয়েছে দলটি।

শনিবার সকাল ১০টার পর কোরআন তেলাওয়াত ও ইসলামি সংগীতের মাধ্যমে সমাবেশ শুরু হয়। মূল কর্মসূচি শুরু হবে দুপুর ২টায়।

জামায়েতের সমাবেশকে ঘিরে রাজধানীর বিভিন্ন প্রবেশমুখ দিয়ে তাদের নেতাকর্মীরা প্রবেশ করছেন। শাহবাগ, মৎস্য ভবন মোড়, বাংলামোটর, কারওয়ান বাজারসহ আশপাশের এলাকায় রাস্তায় নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে যানবাহন ধীর গতিতে চলাচল করছে। তবে অধিকাংশ রাস্তাতেই রাস্তার একটি অংশ যানচলাচলের জন্য ছেড়ে দিয়ে মিছিল নিয়ে প্রবেশ করছেন নেতা-কর্মীরা।

নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান নিয়ে সমাবেশ স্থলে যাচ্ছেন। স্লোগানের মধ্যে রয়েছে: ‘কে বলেরে রাজাকার, সাঈদী মোদের অহংকার’; ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’; ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ’; ‘মুজিদবাদ মুজিদবাদ, মুর্দাবাদ মুর্দাবাদ’; ‘জামায়েত ইসলামীর বাংলায়, মুজিববাদের ঠাই নাই’ ইত্যাদি।

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নেতাকর্মীদের বহন করে নিয়ে আসা বাসগুলো মানিক মিয়া এভিনিউ, খামারবাড়ি, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, ইস্কাটন এলাকায় পার্কিং করা দেখা গেছে

ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং শৃঙ্খলার জন্য রাস্তায় রয়েছেন জামায়াতের স্বেচ্ছাসেবকরা। তারা জানিয়েছেন সমাবেশ সফল করতে রাস্তায় কয়েক হাজার স্বেচ্ছাসেবক রয়েছেন। প্রতিটি পয়েন্টে শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক কাজ করছে।

রমনা ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার রুমানা আক্তার বলেন, ‘রমনা এলাকায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে আছে। বাসগুলো নির্দিষ্ট স্থানে রাখা হয়েছে, আর ছোট গাড়িগুলোর চলাচল স্বাভাবিক। যানজট এড়াতে বিকল্প সড়ক ও বিভিন্ন স্থানে ডাইভারশনও চালু করা হয়েছে।’

সাত দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এককভাবে সমাবেশ করছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

দাবিগুলো হল: অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিতকরণ; সব গণহত্যার বিচার; প্রয়োজনীয় মৌলিক সংস্কার; ‘জুলাই সনদ’ ও ঘোষণাপত্র বাস্তবায়ন; জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবারের পুনর্বাসন; সংখ্যানুপাতিক (পিআর) পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচন এবং এক কোটিরও বেশি প্রবাসী ভোটারদের ভোটাধিকার নিশ্চিতকরণ।