ঢাকা ০৫:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
চীনের হুমকি মোকাবিলায়

জাপানের নিজ ভূখণ্ডে প্রথম ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১২:৪৭:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ জুন ২০২৫
  • / 258

জাপানের নিজ ভূখণ্ডে প্রথম ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা

চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক উপস্থিতি ও আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে নিজ ভূখণ্ডে প্রথমবারের মতো ভূমি-থেকে-জাহাজ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে জাপান। মঙ্গলবার (২৪ জুন) দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় হোক্কাইডো দ্বীপের প্রশিক্ষণ এলাকায় টাইপ-৮৮ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করে জাপানের স্থল আত্মরক্ষা বাহিনী।

জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের বর্তমান ‘গম্ভীর নিরাপত্তা পরিস্থিতি’র প্রেক্ষাপটে এ ধরনের বাস্তব মহড়া অত্যন্ত জরুরি। পূর্বে এই ধরনের মহড়া সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতে সীমিত পরিসরে পরিচালিত হতো, যা ব্যয়সাপেক্ষও ছিল।

সরকারের মুখপাত্র ইয়োশিমাসা হায়াশি বলেন, “এই প্রশিক্ষণ অভ্যন্তরীণভাবে পরিচালিত হওয়ায় অধিকসংখ্যক সেনা এতে অংশ নিতে পারছে। দ্বীপ রক্ষাসহ অন্যান্য এলাকা সুরক্ষায় সক্ষমতা বজায় রাখতে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

যদিও এই মহড়াকে সরাসরি কোনো দেশের বিরুদ্ধে নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে, তবুও জাপান বহুবার চীনকে তাদের প্রধান নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। কারণ বেইজিং ধারাবাহিকভাবে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করছে, বিশেষ করে দক্ষিণ ও পূর্ব চীন সাগর এবং তাইওয়ান প্রণালীতে।

জাপান বর্তমানে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় রয়েছে, যাতে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ২ শতাংশ এই খাতে বরাদ্দ দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—যা ন্যাটো মানদণ্ডের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।

বিশ্লেষকরা বলছেন, চীনের সম্ভাব্য আগ্রাসনের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র-জাপান সামরিক জোটকে আরও দ্রুত ও নমনীয় করার উদ্যোগই এই মহড়ার অন্যতম উদ্দেশ্য। পাশাপাশি, ইয়েনের মান দুর্বল হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে মহড়া চালানো এখন আরও ব্যয়বহুল হয়ে পড়ায় জাপান নিজেই এমন আয়োজন করছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

চীনের হুমকি মোকাবিলায়

জাপানের নিজ ভূখণ্ডে প্রথম ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা

সর্বশেষ আপডেট ১২:৪৭:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ জুন ২০২৫

চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক উপস্থিতি ও আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে নিজ ভূখণ্ডে প্রথমবারের মতো ভূমি-থেকে-জাহাজ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে জাপান। মঙ্গলবার (২৪ জুন) দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় হোক্কাইডো দ্বীপের প্রশিক্ষণ এলাকায় টাইপ-৮৮ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করে জাপানের স্থল আত্মরক্ষা বাহিনী।

জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের বর্তমান ‘গম্ভীর নিরাপত্তা পরিস্থিতি’র প্রেক্ষাপটে এ ধরনের বাস্তব মহড়া অত্যন্ত জরুরি। পূর্বে এই ধরনের মহড়া সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতে সীমিত পরিসরে পরিচালিত হতো, যা ব্যয়সাপেক্ষও ছিল।

সরকারের মুখপাত্র ইয়োশিমাসা হায়াশি বলেন, “এই প্রশিক্ষণ অভ্যন্তরীণভাবে পরিচালিত হওয়ায় অধিকসংখ্যক সেনা এতে অংশ নিতে পারছে। দ্বীপ রক্ষাসহ অন্যান্য এলাকা সুরক্ষায় সক্ষমতা বজায় রাখতে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

যদিও এই মহড়াকে সরাসরি কোনো দেশের বিরুদ্ধে নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে, তবুও জাপান বহুবার চীনকে তাদের প্রধান নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। কারণ বেইজিং ধারাবাহিকভাবে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করছে, বিশেষ করে দক্ষিণ ও পূর্ব চীন সাগর এবং তাইওয়ান প্রণালীতে।

জাপান বর্তমানে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় রয়েছে, যাতে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ২ শতাংশ এই খাতে বরাদ্দ দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—যা ন্যাটো মানদণ্ডের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।

বিশ্লেষকরা বলছেন, চীনের সম্ভাব্য আগ্রাসনের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র-জাপান সামরিক জোটকে আরও দ্রুত ও নমনীয় করার উদ্যোগই এই মহড়ার অন্যতম উদ্দেশ্য। পাশাপাশি, ইয়েনের মান দুর্বল হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে মহড়া চালানো এখন আরও ব্যয়বহুল হয়ে পড়ায় জাপান নিজেই এমন আয়োজন করছে।