ঢাকা ০১:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জাপানের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হলেন সানায়ে তাকাইচি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৭:৫৯:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর ২০২৫
  • / 95

প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। ছবি: সংগৃহীত

জাপানের রাজনীতিতে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হলো, যখন ৬৪ বছর বয়সী সানা তাকাইচি দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন। সোমবার ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)-এর নেতৃত্বে তিনি স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেন, নিম্নকক্ষে ২৩৭ ও উচ্চকক্ষে ১২৫টি ভোট পেয়ে। খবর বিবিসি।

রক্ষণশীল রাজনীতির প্রবক্তা এবং প্রয়াত ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচারের আদর্শ অনুসারী হিসেবে পরিচিত তাকাইচি এমন এক সময়ে ক্ষমতায় এলেন, যখন জাপান অর্থনৈতিক চাপে রয়েছে—ব্যয়বহুল জীবনযাত্রা, মুদ্রাস্ফীতি এবং অসন্তুষ্ট জনগণের চাপ স্পষ্ট।

বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি বর্তমানে এক অনিশ্চিত সময় অতিক্রম করছে। গত পাঁচ বছরে এটি দেশের চতুর্থ প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তন, যার পেছনে রয়েছে জনপ্রিয়তা হ্রাস ও রাজনৈতিক দুর্নীতি।

এলডিপি নেতৃত্বের দৌড়ে তিনি চারজন পুরুষ প্রার্থীকে পরাজিত করলেও, পার্টির দীর্ঘদিনের মিত্র কোমেইতো যখন সমর্থন প্রত্যাহার করে, তখন তার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথ কিছুটা জটিল হয়ে পড়ে। তবে ডানপন্থী জাপান ইনোভেশন পার্টি (ইশিন)-এর সঙ্গে শেষ মুহূর্তে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর ফলে, তাকাইচি সরকার গঠনের সুযোগ পান। এখন তাকাইচি ও তার দল ২০২৮ সালে পরবর্তী নির্বাচনের মুখোমুখি হবেন।

তাকাইচির জন্য শুধু অভ্যন্তরীণ সমস্যাই নয়, আন্তর্জাতিক সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ এক পরীক্ষার ক্ষেত্র। দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া চললেও, তার জাতীয়তাবাদী অবস্থান সে প্রচেষ্টাকে জটিল করে তুলতে পারে। চীনের ব্যাপারেও তার অবস্থান অনেকটা আক্রমণাত্মক, যা আবে সরকারের কৌশলেরই ধারাবাহিকতা।

রাজনীতির মাঠে নতুন নন সানা তাকাইচি। শিনজো আবে-র ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে তিনি একাধিক মন্ত্রীত্বের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং পূর্বেও প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে অংশ নিয়েছেন। এবারে এলডিপি নেতা শিগেরু ইশিবার পদত্যাগের পর দলের নেতৃত্বে আসেন তিনি।

তাকাইচির কট্টর রক্ষণশীল অবস্থান তার জনপ্রিয়তার দুই দিক তুলে ধরছে। ‘আয়রন লেডি’ নামে পরিচিত তাকাইচি সমলিঙ্গ বিবাহের বিরোধিতা করেন এবং বিবাহিত নারীদের স্বামীর পদবি ছাড়া নিজ পদবি রাখার অধিকারের বিরুদ্ধেও কথা বলেছেন। এই অবস্থান অনেক তরুণী ভোটারের মনে প্রশ্ন তুলেছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

জাপানের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হলেন সানায়ে তাকাইচি

সর্বশেষ আপডেট ০৭:৫৯:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর ২০২৫

জাপানের রাজনীতিতে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হলো, যখন ৬৪ বছর বয়সী সানা তাকাইচি দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন। সোমবার ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)-এর নেতৃত্বে তিনি স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেন, নিম্নকক্ষে ২৩৭ ও উচ্চকক্ষে ১২৫টি ভোট পেয়ে। খবর বিবিসি।

রক্ষণশীল রাজনীতির প্রবক্তা এবং প্রয়াত ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচারের আদর্শ অনুসারী হিসেবে পরিচিত তাকাইচি এমন এক সময়ে ক্ষমতায় এলেন, যখন জাপান অর্থনৈতিক চাপে রয়েছে—ব্যয়বহুল জীবনযাত্রা, মুদ্রাস্ফীতি এবং অসন্তুষ্ট জনগণের চাপ স্পষ্ট।

বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি বর্তমানে এক অনিশ্চিত সময় অতিক্রম করছে। গত পাঁচ বছরে এটি দেশের চতুর্থ প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তন, যার পেছনে রয়েছে জনপ্রিয়তা হ্রাস ও রাজনৈতিক দুর্নীতি।

এলডিপি নেতৃত্বের দৌড়ে তিনি চারজন পুরুষ প্রার্থীকে পরাজিত করলেও, পার্টির দীর্ঘদিনের মিত্র কোমেইতো যখন সমর্থন প্রত্যাহার করে, তখন তার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথ কিছুটা জটিল হয়ে পড়ে। তবে ডানপন্থী জাপান ইনোভেশন পার্টি (ইশিন)-এর সঙ্গে শেষ মুহূর্তে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর ফলে, তাকাইচি সরকার গঠনের সুযোগ পান। এখন তাকাইচি ও তার দল ২০২৮ সালে পরবর্তী নির্বাচনের মুখোমুখি হবেন।

তাকাইচির জন্য শুধু অভ্যন্তরীণ সমস্যাই নয়, আন্তর্জাতিক সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ এক পরীক্ষার ক্ষেত্র। দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া চললেও, তার জাতীয়তাবাদী অবস্থান সে প্রচেষ্টাকে জটিল করে তুলতে পারে। চীনের ব্যাপারেও তার অবস্থান অনেকটা আক্রমণাত্মক, যা আবে সরকারের কৌশলেরই ধারাবাহিকতা।

রাজনীতির মাঠে নতুন নন সানা তাকাইচি। শিনজো আবে-র ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে তিনি একাধিক মন্ত্রীত্বের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং পূর্বেও প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে অংশ নিয়েছেন। এবারে এলডিপি নেতা শিগেরু ইশিবার পদত্যাগের পর দলের নেতৃত্বে আসেন তিনি।

তাকাইচির কট্টর রক্ষণশীল অবস্থান তার জনপ্রিয়তার দুই দিক তুলে ধরছে। ‘আয়রন লেডি’ নামে পরিচিত তাকাইচি সমলিঙ্গ বিবাহের বিরোধিতা করেন এবং বিবাহিত নারীদের স্বামীর পদবি ছাড়া নিজ পদবি রাখার অধিকারের বিরুদ্ধেও কথা বলেছেন। এই অবস্থান অনেক তরুণী ভোটারের মনে প্রশ্ন তুলেছে।