ঢাকা ০৪:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জাপানি সংগঠনের শান্তিতে নোবেল পাওয়ার নেপথ্যে যে কারণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১০:৫৫:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৪
  • / 335

নোবেল

জাপান – বিশ্বের একমাত্র দেশ, যা পারমাণবিক বোমার ভয়াবহতার সাক্ষী। ১৯৪৫ সালের ৬ এবং ৯ আগস্ট হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে নিক্ষিপ্ত পারমাণবিক বোমা পুরো বিশ্বকে বদলে দিয়েছিল।

সেই ধ্বংসযজ্ঞের মাঝ থেকে জন্ম নিয়েছিল এক বিশেষ আন্দোলন, যাকে নেতৃত্ব দিয়েছিল পারমাণবিক হামলার ভুক্তভোগীরা। এ আন্দোলনের প্রধান সংগঠন ‘নিহন হিদানকিও’, যা পরিচিত ‘জাপান কনফেডারেশন অব এ-বোম্ব অ্যান্ড এইচ-বোম্ব সাফারার অর্গানাইজেশন’ নামে।

নিহন হিদানকিও প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৫৬ সালে। এটি এমন একটি সংগঠন, যেখানে ‘হিবাকুশা’ বা পারমাণবিক বোমা হামলার শিকাররা একত্রিত হয়ে বিশ্বকে পারমাণবিক অস্ত্রের বিরুদ্ধে সচেতন করার ব্রত নিয়েছে।

হিবাকুশারা নিজের জীবনের যন্ত্রণা এবং দুর্ভোগের কথা বিশ্বের সামনে তুলে ধরে মানবজাতিকে সতর্ক করতে চেয়েছে। এ সংগঠন শুধু জাপান নয়, পুরো বিশ্বের শান্তিকামী মানুষের জন্য এক উদাহরণ।

চলতি বছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছে জাপানের এই সংগঠন। পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত বিশ্ব অর্জনের লক্ষ্যে  কাজ করে এ পুরস্কার পেল সংগঠনটি। পুরস্কার পাওয়ার পর সংগঠনটি নিয়ে আগ্রহ জন্মেছে। কী কারণে নোবেল পেল এই সংগঠনটি তা নিয়ে চলছে আলোচনা।

চলতি বছর বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক বোমা নিয়ে উত্তেজনার মধ্যে এই সংগঠনটিকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দিল কমিটি। এ ব্যাপারে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি বলছে, ‘এই পুরস্কারের মাধ্যমে প্রমাণিত হচ্ছে যে, পারমাণবিক অস্ত্র আর কখনো ব্যবহার করা উচিত নয়।’

নিহন হিদানকিওর মূল কাজ হলো পারমাণবিক অস্ত্রবিরোধী আন্দোলনকে সামনে আনা, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করা এবং ভবিষ্যতে যেন এমন ধ্বংসযজ্ঞ আর না ঘটে, তা নিশ্চিত করা।

সংগঠনটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পারমাণবিক অস্ত্রবিরোধী সমাবেশ, সেমিনার এবং আলোচনার আয়োজন করে। এছাড়া, তারা জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার সাথে যোগাযোগ করে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।

নিহন হিদানকিও পারমাণবিক অস্ত্রের নিষেধাজ্ঞা এবং নিরস্ত্রীকরণের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে। তারা বারবার বিশ্ব নেতাদের আহ্বান জানিয়েছে পারমাণবিক অস্ত্র ধ্বংস করতে এবং পৃথিবীকে একটি নিরাপদ স্থানে পরিণত করতে।

২০১৭ সালে, যখন আইকান (ইন্টারন্যাশনাল ক্যাম্পেইন টু এবোলিশ নিউক্লিয়ার উইপনস) নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করে, তখন নিহন হিদানকিওর অবদানকে বিশেষভাবে  স্বীকৃতি দেয়া হয়।

এই সংগঠনটি শুধু আন্তর্জাতিক আন্দোলন নয়, নিজ দেশের ভুক্তভোগীদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনেও কাজ করে যাচ্ছে। পারমাণবিক বোমার শিকারদের স্বাস্থ্যের অবনতির কারণে তাদের জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসা সুবিধা দাবি করে আসছে নিহন হিদানকিও। তারা সরকারের সাথে যৌথভাবে এই বিষয় ̧লো সমাধানের চেষ্টা করছে।

নিহন হিদানকিও জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে পারমাণবিক অস্ত্রবিরোধী চুক্তি কার্যকর করতে। তারা মনে করে, পারমাণবিক অস্ত্রের অস্তিত্ব মানবজাতির জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি। এই হুমকি শুধু বর্তমান নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপরও গভীর প্রভাব ফেলবে।

নিহন হিদানকিওর কাজ কেবল জাপানকেন্দ্রিক নয়, তারা সারা বিশ্বে পারমাণবিক অস্ত্রের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি করে যাচ্ছে। তারা চায়, হিরোশিমা ও নাগাসাকির ভয়াবহ ঘটনা আর কখনো যেন কোনো দেশে না ঘটে। বিশ্বের সব মানুষকে নিয়ে গড়ে তোলা এক শান্তিময় ভবিষ্যৎই তাদের স্বপ্ন।

নিহন হিদানকিও একটি অনন্য উদাহরণ, যা দেখিয়েছে যে, ধ্বংসের মধ্য থেকে শান্তির এক নতুন স্বপ্ন বোনা সম্ভব।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

জাপানি সংগঠনের শান্তিতে নোবেল পাওয়ার নেপথ্যে যে কারণ

সর্বশেষ আপডেট ১০:৫৫:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৪

জাপান – বিশ্বের একমাত্র দেশ, যা পারমাণবিক বোমার ভয়াবহতার সাক্ষী। ১৯৪৫ সালের ৬ এবং ৯ আগস্ট হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে নিক্ষিপ্ত পারমাণবিক বোমা পুরো বিশ্বকে বদলে দিয়েছিল।

সেই ধ্বংসযজ্ঞের মাঝ থেকে জন্ম নিয়েছিল এক বিশেষ আন্দোলন, যাকে নেতৃত্ব দিয়েছিল পারমাণবিক হামলার ভুক্তভোগীরা। এ আন্দোলনের প্রধান সংগঠন ‘নিহন হিদানকিও’, যা পরিচিত ‘জাপান কনফেডারেশন অব এ-বোম্ব অ্যান্ড এইচ-বোম্ব সাফারার অর্গানাইজেশন’ নামে।

নিহন হিদানকিও প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৫৬ সালে। এটি এমন একটি সংগঠন, যেখানে ‘হিবাকুশা’ বা পারমাণবিক বোমা হামলার শিকাররা একত্রিত হয়ে বিশ্বকে পারমাণবিক অস্ত্রের বিরুদ্ধে সচেতন করার ব্রত নিয়েছে।

হিবাকুশারা নিজের জীবনের যন্ত্রণা এবং দুর্ভোগের কথা বিশ্বের সামনে তুলে ধরে মানবজাতিকে সতর্ক করতে চেয়েছে। এ সংগঠন শুধু জাপান নয়, পুরো বিশ্বের শান্তিকামী মানুষের জন্য এক উদাহরণ।

চলতি বছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছে জাপানের এই সংগঠন। পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত বিশ্ব অর্জনের লক্ষ্যে  কাজ করে এ পুরস্কার পেল সংগঠনটি। পুরস্কার পাওয়ার পর সংগঠনটি নিয়ে আগ্রহ জন্মেছে। কী কারণে নোবেল পেল এই সংগঠনটি তা নিয়ে চলছে আলোচনা।

চলতি বছর বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক বোমা নিয়ে উত্তেজনার মধ্যে এই সংগঠনটিকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দিল কমিটি। এ ব্যাপারে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি বলছে, ‘এই পুরস্কারের মাধ্যমে প্রমাণিত হচ্ছে যে, পারমাণবিক অস্ত্র আর কখনো ব্যবহার করা উচিত নয়।’

নিহন হিদানকিওর মূল কাজ হলো পারমাণবিক অস্ত্রবিরোধী আন্দোলনকে সামনে আনা, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করা এবং ভবিষ্যতে যেন এমন ধ্বংসযজ্ঞ আর না ঘটে, তা নিশ্চিত করা।

সংগঠনটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পারমাণবিক অস্ত্রবিরোধী সমাবেশ, সেমিনার এবং আলোচনার আয়োজন করে। এছাড়া, তারা জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার সাথে যোগাযোগ করে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।

নিহন হিদানকিও পারমাণবিক অস্ত্রের নিষেধাজ্ঞা এবং নিরস্ত্রীকরণের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে। তারা বারবার বিশ্ব নেতাদের আহ্বান জানিয়েছে পারমাণবিক অস্ত্র ধ্বংস করতে এবং পৃথিবীকে একটি নিরাপদ স্থানে পরিণত করতে।

২০১৭ সালে, যখন আইকান (ইন্টারন্যাশনাল ক্যাম্পেইন টু এবোলিশ নিউক্লিয়ার উইপনস) নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করে, তখন নিহন হিদানকিওর অবদানকে বিশেষভাবে  স্বীকৃতি দেয়া হয়।

এই সংগঠনটি শুধু আন্তর্জাতিক আন্দোলন নয়, নিজ দেশের ভুক্তভোগীদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনেও কাজ করে যাচ্ছে। পারমাণবিক বোমার শিকারদের স্বাস্থ্যের অবনতির কারণে তাদের জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসা সুবিধা দাবি করে আসছে নিহন হিদানকিও। তারা সরকারের সাথে যৌথভাবে এই বিষয় ̧লো সমাধানের চেষ্টা করছে।

নিহন হিদানকিও জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে পারমাণবিক অস্ত্রবিরোধী চুক্তি কার্যকর করতে। তারা মনে করে, পারমাণবিক অস্ত্রের অস্তিত্ব মানবজাতির জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি। এই হুমকি শুধু বর্তমান নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপরও গভীর প্রভাব ফেলবে।

নিহন হিদানকিওর কাজ কেবল জাপানকেন্দ্রিক নয়, তারা সারা বিশ্বে পারমাণবিক অস্ত্রের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি করে যাচ্ছে। তারা চায়, হিরোশিমা ও নাগাসাকির ভয়াবহ ঘটনা আর কখনো যেন কোনো দেশে না ঘটে। বিশ্বের সব মানুষকে নিয়ে গড়ে তোলা এক শান্তিময় ভবিষ্যৎই তাদের স্বপ্ন।

নিহন হিদানকিও একটি অনন্য উদাহরণ, যা দেখিয়েছে যে, ধ্বংসের মধ্য থেকে শান্তির এক নতুন স্বপ্ন বোনা সম্ভব।