ঢাকা ০৭:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নার্স ও কেয়ারগিভার প্রশিক্ষণে বাংলাদেশ-জাপান সহযোগিতা জোরদার

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:০৯:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 41

ছবি সংগৃহীত

বাংলাদেশে জাপানের বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং আরও বেশি বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, বলেছেন অর্থনীতি, শ্রমবাজার ও পরিবেশ সুরক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে টোকিওর সঙ্গে সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করতে চায় ঢাকা।

সোমবার ((১২ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় জাপানের সাবেক ফার্স্ট লেডি আকিয়ে আবের নেতৃত্বে জাপানি উদ্যোক্তাদের একটি প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এ কথা বলেন।

অধ্যাপক ইউনূস জানান, বিশ্বের চতুর্থ বৃহৎ অর্থনীতি জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও গভীর করতে আগ্রহী সরকার। এ সময় আকিয়ে আবে দেশের স্থিতিশীলতা ফেরানো ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন এবং বর্তমান প্রেক্ষাপটে তাঁর ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

বৈঠকে বিনিয়োগ, সামুদ্রিক গবেষণা এবং নার্স ও কেয়ারগিভার নিয়োগে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। জাপানের বার্ধক্যজনিত জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে এসব পেশায় বিদেশি কর্মীর চাহিদা বাড়ছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

আকিয়ে আবে বঙ্গোপসাগরে বর্জ্য ফেলা বন্ধসহ সামুদ্রিক দূষণ রোধে যৌথ উদ্যোগের আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং এ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।

অধ্যাপক ইউনূস জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব শেষ করে তিনি মার্চের তৃতীয় সপ্তাহে টোকিও সফরে গিয়ে সাসাকাওয়া ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যৌথ সামুদ্রিক গবেষণা উদ্যোগে অংশ নিতে চান। একই সঙ্গে ফাউন্ডেশনটি মহেশখালী-মাতারবাড়ি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চুক্তি করে চট্টগ্রাম উপকূলে তিনটি মডেল মৎস্যগ্রাম স্থাপনের পরিকল্পনা করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, নার্স ও কেয়ারগিভারদের প্রশিক্ষণ জোরদার করা হয়েছে এবং জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ করা হয়েছে, পাশাপাশি বিদ্যমান চুক্তির আওতায় আগামী পাঁচ বছরে অন্তত এক লাখ বাংলাদেশি কর্মী জাপানে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।

বৈঠকে ইউগ্লেনার প্রতিষ্ঠাতা মিৎসুরু ইজুমো বাংলাদেশে সামাজিক ব্যবসায় সহায়তার আগ্রহের কথা জানান। অধ্যাপক ইউনূস বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনে সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং তার রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার কোনো ইচ্ছা নেই, বরং স্বাস্থ্যখাত সম্প্রসারণ, যুব উদ্যোক্তা তৈরি এবং শূন্য বেকারত্ব, শূন্য কার্বন নিঃসরণ ও সম্পদের শূন্য কেন্দ্রীকরণ এই তিন শূন্য দর্শন বাস্তবায়নে মনোযোগ দিতে চান।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

নার্স ও কেয়ারগিভার প্রশিক্ষণে বাংলাদেশ-জাপান সহযোগিতা জোরদার

সর্বশেষ আপডেট ০৮:০৯:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশে জাপানের বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং আরও বেশি বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, বলেছেন অর্থনীতি, শ্রমবাজার ও পরিবেশ সুরক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে টোকিওর সঙ্গে সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করতে চায় ঢাকা।

সোমবার ((১২ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় জাপানের সাবেক ফার্স্ট লেডি আকিয়ে আবের নেতৃত্বে জাপানি উদ্যোক্তাদের একটি প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এ কথা বলেন।

অধ্যাপক ইউনূস জানান, বিশ্বের চতুর্থ বৃহৎ অর্থনীতি জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও গভীর করতে আগ্রহী সরকার। এ সময় আকিয়ে আবে দেশের স্থিতিশীলতা ফেরানো ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন এবং বর্তমান প্রেক্ষাপটে তাঁর ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

বৈঠকে বিনিয়োগ, সামুদ্রিক গবেষণা এবং নার্স ও কেয়ারগিভার নিয়োগে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। জাপানের বার্ধক্যজনিত জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে এসব পেশায় বিদেশি কর্মীর চাহিদা বাড়ছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

আকিয়ে আবে বঙ্গোপসাগরে বর্জ্য ফেলা বন্ধসহ সামুদ্রিক দূষণ রোধে যৌথ উদ্যোগের আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং এ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।

অধ্যাপক ইউনূস জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব শেষ করে তিনি মার্চের তৃতীয় সপ্তাহে টোকিও সফরে গিয়ে সাসাকাওয়া ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যৌথ সামুদ্রিক গবেষণা উদ্যোগে অংশ নিতে চান। একই সঙ্গে ফাউন্ডেশনটি মহেশখালী-মাতারবাড়ি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চুক্তি করে চট্টগ্রাম উপকূলে তিনটি মডেল মৎস্যগ্রাম স্থাপনের পরিকল্পনা করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, নার্স ও কেয়ারগিভারদের প্রশিক্ষণ জোরদার করা হয়েছে এবং জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ করা হয়েছে, পাশাপাশি বিদ্যমান চুক্তির আওতায় আগামী পাঁচ বছরে অন্তত এক লাখ বাংলাদেশি কর্মী জাপানে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।

বৈঠকে ইউগ্লেনার প্রতিষ্ঠাতা মিৎসুরু ইজুমো বাংলাদেশে সামাজিক ব্যবসায় সহায়তার আগ্রহের কথা জানান। অধ্যাপক ইউনূস বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনে সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং তার রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার কোনো ইচ্ছা নেই, বরং স্বাস্থ্যখাত সম্প্রসারণ, যুব উদ্যোক্তা তৈরি এবং শূন্য বেকারত্ব, শূন্য কার্বন নিঃসরণ ও সম্পদের শূন্য কেন্দ্রীকরণ এই তিন শূন্য দর্শন বাস্তবায়নে মনোযোগ দিতে চান।