জানা গেল সাদ্দামকে প্যারোলে মুক্তি না দেওয়ার কারণ
- সর্বশেষ আপডেট ০৪:৫১:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬
- / 21
বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ ঘোষিত) সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের প্যারোলে মুক্তি না পাওয়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ও জনমনে সৃষ্টি হওয়া বিভ্রান্তি দূর করেছেন জেলা প্রশাসক। বাগেরহাট জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন দাবি করেন, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার সীমাবদ্ধতার কারণে তাকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া সম্ভব হয়নি।
জেলা প্রশাসক জানান, গত শুক্রবার সাদ্দামের প্যারোলে মুক্তির একটি আবেদন তার বাংলোয় পৌঁছায়। বিষয়টি জানার পর তিনি দ্রুত কারা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কিন্তু কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০১৬ সালের কারা আইন অনুযায়ী কোনো আসামি যদি নিজের জেলার বাইরে অন্য জেলায় বন্দি থাকে, তাহলে সেই জেলার প্রশাসনের পক্ষে তাকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া নিয়মবহির্ভূত। সাদ্দাম বর্তমানে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি থাকায় বাগেরহাট জেলা প্রশাসনের পক্ষে তাকে প্যারোল মুক্তি দেওয়া আইনি অধিকার নেই।
আবেদনকারীদের বিষয়টি ব্যাখ্যা করলে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং পরবর্তীতে আর কোনো যোগাযোগ করেননি।
অন্যদিকে, সাদ্দামের মামা মো. হেমায়েত উদ্দিন বলেন, ২৩ জানুয়ারি তারা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর প্যারোলে মুক্তির আবেদন করেছিলেন। জেলা প্রশাসক আবেদনটি বাগেরহাট জেল কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠালে সেখানে জানানো হয়, অন্য জেলার বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার ক্ষমতা তাদের নেই। আইন অনুযায়ী যে কারাগারে আসামি বন্দি, সেখানেই আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
প্যারোল না পেয়ে পরে যশোর কারাগারে মরদেহ নেওয়া হলে জেল কর্তৃপক্ষ সাদ্দামকে তার স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ দেখার সুযোগ মাত্র কয়েক মিনিট দেন।
এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, গত শুক্রবার বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামে ঘটে এক মর্মান্তিক ঘটনা। সাদ্দামের স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা (২২) তার ৯ মাসের শিশুকে পানিতে ডুবিয়ে হত্যা করে নিজে গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যা করেন। পুলিশ ওই দিন তার ঝুলন্ত মরদেহ ও ঘরের মেঝে থেকে শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে। রাত সাড়ে ১০টায় জানাজা শেষে রাত ১২টার দিকে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয় সাদ্দামকে। তিনি বর্তমানে একাধিক মামলায় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি আছেন। প্যারোলে মুক্তি না পাওয়া নিয়ে গত দুই দিন ধরে এলাকায় ও অনলাইনে নানা আলোচনা চলছিল, সেই বিতর্কের নেপথ্য কারণ এবার জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা করা হলো।































