ঢাকা ১০:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জাতীয় পার্টির ভূমিকা ও চরিত্র নিয়ে রিজভীর প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৭:৪৩:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 127

জাতীয় পার্টির ভূমিকা ও চরিত্র নিয়ে রিজভীর প্রশ্ন

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জাতীয় পার্টির রাজনৈতিক অবস্থান ও চরিত্র নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদকে সহায়তা করেছে এবং ভারতের সঙ্গে অতিরিক্ত নির্ভরশীলতায় নিজেদের স্বাতন্ত্র্য হারিয়েছে।

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে উত্তরাঞ্চল ছাত্র ফোরামের আয়োজিত আলোচনা সভায় রিজভী বলেন, ২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের ভারতের সফর শেষে সাংবাদিকদের জানান, তিনি ভারতের অনুমতি ছাড়া কিছু বলতে পারবেন না। এ প্রসঙ্গে রিজভীর প্রশ্ন. “আপনারা কি বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল, নাকি ভারতের দল? এটাই কি আপনাদের নীতি-আদর্শ ও চরিত্র?”

রিজভী অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের দীর্ঘ মেয়াদি স্বৈরশাসন টিকিয়ে রাখতে জাতীয় পার্টি সহযোগিতা করেছে। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে দুই বছরের ‘কুলিং টাইম’ দেওয়ার পর দমননীতি চালান, আর তাতে জাতীয় পার্টির ভূমিকা ছিল সহায়ক। অথচ বিএনপি কখনো নির্যাতন বা টর্চারের রাজনীতি করেনি।

বিএনপির নেতা আরও বলেন, “আমরা সবাই মামলার ভুক্তভোগী। তবু আমরা চাই না অন্যরা অন্যায়ভাবে লাঞ্ছিত হোক। কিন্তু যারা ফ্যাসিবাদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, তাদের আইনের মুখোমুখি হতে হবে।”

জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারীর সাম্প্রতিক বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন রিজভী। তিনি বলেন, জাতীয় পার্টির মহাসচিব বলেছেন বিএনপিকেই তাদের দায় নিতে হবে। কিন্তু বিএনপি এখন ক্ষমতায় নেই, নির্বাচনের পরিবেশও তৈরি হয়নি; তাহলে এ দায়ের কথা কেন বলা হচ্ছে?

ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলমসহ বহু নেতার গুম ও দমনপীড়নের সময় জাতীয় পার্টি নীরব ছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। রিজভীর ভাষায়, ২০১৪ সালের ভোটারশূন্য নির্বাচন ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীদের গ্রেপ্তারের সময়ও জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের স্বার্থে ভূমিকা রেখেছে।

গণমাধ্যম নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নামের আগে অনেক গণমাধ্যমে এখনও “শহীদ” না লিখে “প্রয়াত” শব্দ ব্যবহার করা হয়। অথচ তিনিই বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং স্বাধীনতার ঘোষক ছিলেন। রিজভীর দাবি, শেখ হাসিনার আমলে গণমাধ্যমগুলো স্বাধীনভাবে জিয়াউর রহমানের অবদান তুলে ধরতে পারছে না।

তিনি যোগ করেন, “মত প্রকাশের কিছুটা স্বাধীনতা থাকলেও গণমাধ্যমের আচরণে দেশের মানুষের হৃদয়ে আঘাত লাগছে, যা কোনোদিন ভোলা যাবে না।”

সভায় সভাপতিত্ব করেন উত্তরাঞ্চল ছাত্র ফোরামের প্রধান উপদেষ্টা সাংবাদিক আতিকুর রহমান রুমন। বক্তব্য রাখেন বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, ব্যারিস্টার মীর হেলাল, বিএফইউজের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরীসহ আরও অনেকে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

জাতীয় পার্টির ভূমিকা ও চরিত্র নিয়ে রিজভীর প্রশ্ন

সর্বশেষ আপডেট ০৭:৪৩:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৫

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জাতীয় পার্টির রাজনৈতিক অবস্থান ও চরিত্র নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদকে সহায়তা করেছে এবং ভারতের সঙ্গে অতিরিক্ত নির্ভরশীলতায় নিজেদের স্বাতন্ত্র্য হারিয়েছে।

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে উত্তরাঞ্চল ছাত্র ফোরামের আয়োজিত আলোচনা সভায় রিজভী বলেন, ২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের ভারতের সফর শেষে সাংবাদিকদের জানান, তিনি ভারতের অনুমতি ছাড়া কিছু বলতে পারবেন না। এ প্রসঙ্গে রিজভীর প্রশ্ন. “আপনারা কি বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল, নাকি ভারতের দল? এটাই কি আপনাদের নীতি-আদর্শ ও চরিত্র?”

রিজভী অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের দীর্ঘ মেয়াদি স্বৈরশাসন টিকিয়ে রাখতে জাতীয় পার্টি সহযোগিতা করেছে। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে দুই বছরের ‘কুলিং টাইম’ দেওয়ার পর দমননীতি চালান, আর তাতে জাতীয় পার্টির ভূমিকা ছিল সহায়ক। অথচ বিএনপি কখনো নির্যাতন বা টর্চারের রাজনীতি করেনি।

বিএনপির নেতা আরও বলেন, “আমরা সবাই মামলার ভুক্তভোগী। তবু আমরা চাই না অন্যরা অন্যায়ভাবে লাঞ্ছিত হোক। কিন্তু যারা ফ্যাসিবাদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, তাদের আইনের মুখোমুখি হতে হবে।”

জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারীর সাম্প্রতিক বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন রিজভী। তিনি বলেন, জাতীয় পার্টির মহাসচিব বলেছেন বিএনপিকেই তাদের দায় নিতে হবে। কিন্তু বিএনপি এখন ক্ষমতায় নেই, নির্বাচনের পরিবেশও তৈরি হয়নি; তাহলে এ দায়ের কথা কেন বলা হচ্ছে?

ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলমসহ বহু নেতার গুম ও দমনপীড়নের সময় জাতীয় পার্টি নীরব ছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। রিজভীর ভাষায়, ২০১৪ সালের ভোটারশূন্য নির্বাচন ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীদের গ্রেপ্তারের সময়ও জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের স্বার্থে ভূমিকা রেখেছে।

গণমাধ্যম নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নামের আগে অনেক গণমাধ্যমে এখনও “শহীদ” না লিখে “প্রয়াত” শব্দ ব্যবহার করা হয়। অথচ তিনিই বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং স্বাধীনতার ঘোষক ছিলেন। রিজভীর দাবি, শেখ হাসিনার আমলে গণমাধ্যমগুলো স্বাধীনভাবে জিয়াউর রহমানের অবদান তুলে ধরতে পারছে না।

তিনি যোগ করেন, “মত প্রকাশের কিছুটা স্বাধীনতা থাকলেও গণমাধ্যমের আচরণে দেশের মানুষের হৃদয়ে আঘাত লাগছে, যা কোনোদিন ভোলা যাবে না।”

সভায় সভাপতিত্ব করেন উত্তরাঞ্চল ছাত্র ফোরামের প্রধান উপদেষ্টা সাংবাদিক আতিকুর রহমান রুমন। বক্তব্য রাখেন বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, ব্যারিস্টার মীর হেলাল, বিএফইউজের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরীসহ আরও অনেকে।