ঢাকা ০৭:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জাকসু নির্বাচন: রাত ১১টায় ফল ঘোষণার আশা

নিজস্ব প্রতিবেদক, জাবি
  • সর্বশেষ আপডেট ০৫:৪১:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 122

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (জাকসু) নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শেষ হলেও আজ শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত ফল ঘোষণা করা সম্ভব হয়নি। ভোট গণনায় দেরি হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ১১ হাজার ৭৪৩ জন। এর মধ্যে প্রায় ৬৭-৬৮ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে জানা গেছে। কেন্দ্রীয় সংসদের ২৫টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ১৭৭ জন প্রার্থী। ভিপি পদে ৯ জন এবং জিএস পদে লড়েছেন ৮ জন। ছাত্রীদের ১০টি আবাসিক হলে ১৫০টি পদের মধ্যে ৫৯টিতে কোনো প্রার্থীই ছিলেন না। একজন করে প্রার্থী ছিলেন ৬৭টি পদে। ফলে শুধুমাত্র ২৪টি পদের জন্যই ভোট গ্রহণ হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১টি হলের মধ্যে দুটি হলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়েছেন।

ভোট গ্রহণ শেষ হয় বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টায়। তবে বিভিন্ন হলে ভোটগ্রহণ বিলম্বিত হওয়ায় নির্বাচন কমিশনের কাছে ব্যালট বাক্স পৌঁছাতে রাত ৯টার পরেও সময় লেগে যায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও নির্বাচন কমিশনের সদস্যসচিব এ কে এম রাশিদুল আলম জানান, “ভোট গণনায় দেরির বেশ কিছু কারণ রয়েছে। শুরুতে ওএমআর মেশিন ব্যবহার করার কথা থাকলেও কিছু প্রার্থীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে গণনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে স্বাভাবিকভাবেই সময় বেশি লাগছে।”

তিনি আরও বলেন, “দু-একটি হলে ভোট শুরু হতে কিছুটা দেরি হয়েছিল এবং মাঝপথে ভোটগ্রহণ সাময়িকভাবে স্থগিতও ছিল। বিশেষ করে যেসব হলে ১ হাজারের বেশি ভোটার রয়েছে, সেখানে ভোট কাস্টিং দুপুর পর্যন্ত খুবই কম ছিল। বিকেল ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে হঠাৎ করে ভোটার সংখ্যা বেড়ে যায়, ফলে সবার ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে গিয়ে গণনা বিলম্বিত হয়েছে।”

ভোট গণনা শুরু হয় বৃহস্পতিবার রাত ১০টা থেকে। শুরুতে সিনেট ভবনে ৫টি টেবিলে গণনার কাজ শুরু হয়। আজ শুক্রবার সকালে টেবিল সংখ্যা বাড়িয়ে ১০টি করা হয়। প্রতিটি টেবিলের পাশে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে, যাতে স্বচ্ছতা বজায় থাকে।

রাশিদুল আলম বলেন, “গতকাল রাতে অনেক হলের পোলিং কর্মকর্তা উপস্থিত থাকলেও অনেক পোলিং এজেন্ট উপস্থিত ছিলেন না। গণনা কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য তাদের উপস্থিতি প্রয়োজন ছিল। এছাড়া ভোট গণনার শুরুতে ম্যানুয়াল পদ্ধতি সম্পর্কে যথাযথ প্রস্তুতি না থাকায় কাজের গতি ধীর ছিল। পরে গতি কিছুটা বাড়ানো গেছে।”

তিনি আশা প্রকাশ করেন, “আজ বিকেল নাগাদ হলভিত্তিক ভোট গণনা শেষ হবে এবং রাত ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে বেসরকারিভাবে ফল প্রকাশ করা সম্ভব হবে।”

ভোট গণনা ও ফল প্রকাশে বিলম্ব হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। এক শিক্ষার্থী বলেন, “২১টি হলের মধ্যে ২টিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। বাকিগুলো গণনা করতে হলে প্রতিটি হলে এক ঘণ্টা করে সময় লাগছে। এরপর তো জাকসুর ২৫টি পদ গণনা করতে হবে, যা আরও বেশি সময় নেবে। যেসব প্যানেল এখনো নির্বাচন বর্জন করেনি, তাদের সম্মতিতে ওএমআর পদ্ধতিতে গণনা করা উচিত ছিল।”

পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, কেউই নিশ্চিত করে বলতে পারছে না, কখন ভোট গণনা শেষ হবে। এটা তো ঠিক না।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

জাকসু নির্বাচন: রাত ১১টায় ফল ঘোষণার আশা

সর্বশেষ আপডেট ০৫:৪১:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (জাকসু) নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শেষ হলেও আজ শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত ফল ঘোষণা করা সম্ভব হয়নি। ভোট গণনায় দেরি হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ১১ হাজার ৭৪৩ জন। এর মধ্যে প্রায় ৬৭-৬৮ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে জানা গেছে। কেন্দ্রীয় সংসদের ২৫টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ১৭৭ জন প্রার্থী। ভিপি পদে ৯ জন এবং জিএস পদে লড়েছেন ৮ জন। ছাত্রীদের ১০টি আবাসিক হলে ১৫০টি পদের মধ্যে ৫৯টিতে কোনো প্রার্থীই ছিলেন না। একজন করে প্রার্থী ছিলেন ৬৭টি পদে। ফলে শুধুমাত্র ২৪টি পদের জন্যই ভোট গ্রহণ হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১টি হলের মধ্যে দুটি হলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়েছেন।

ভোট গ্রহণ শেষ হয় বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টায়। তবে বিভিন্ন হলে ভোটগ্রহণ বিলম্বিত হওয়ায় নির্বাচন কমিশনের কাছে ব্যালট বাক্স পৌঁছাতে রাত ৯টার পরেও সময় লেগে যায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও নির্বাচন কমিশনের সদস্যসচিব এ কে এম রাশিদুল আলম জানান, “ভোট গণনায় দেরির বেশ কিছু কারণ রয়েছে। শুরুতে ওএমআর মেশিন ব্যবহার করার কথা থাকলেও কিছু প্রার্থীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে গণনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে স্বাভাবিকভাবেই সময় বেশি লাগছে।”

তিনি আরও বলেন, “দু-একটি হলে ভোট শুরু হতে কিছুটা দেরি হয়েছিল এবং মাঝপথে ভোটগ্রহণ সাময়িকভাবে স্থগিতও ছিল। বিশেষ করে যেসব হলে ১ হাজারের বেশি ভোটার রয়েছে, সেখানে ভোট কাস্টিং দুপুর পর্যন্ত খুবই কম ছিল। বিকেল ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে হঠাৎ করে ভোটার সংখ্যা বেড়ে যায়, ফলে সবার ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে গিয়ে গণনা বিলম্বিত হয়েছে।”

ভোট গণনা শুরু হয় বৃহস্পতিবার রাত ১০টা থেকে। শুরুতে সিনেট ভবনে ৫টি টেবিলে গণনার কাজ শুরু হয়। আজ শুক্রবার সকালে টেবিল সংখ্যা বাড়িয়ে ১০টি করা হয়। প্রতিটি টেবিলের পাশে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে, যাতে স্বচ্ছতা বজায় থাকে।

রাশিদুল আলম বলেন, “গতকাল রাতে অনেক হলের পোলিং কর্মকর্তা উপস্থিত থাকলেও অনেক পোলিং এজেন্ট উপস্থিত ছিলেন না। গণনা কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য তাদের উপস্থিতি প্রয়োজন ছিল। এছাড়া ভোট গণনার শুরুতে ম্যানুয়াল পদ্ধতি সম্পর্কে যথাযথ প্রস্তুতি না থাকায় কাজের গতি ধীর ছিল। পরে গতি কিছুটা বাড়ানো গেছে।”

তিনি আশা প্রকাশ করেন, “আজ বিকেল নাগাদ হলভিত্তিক ভোট গণনা শেষ হবে এবং রাত ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে বেসরকারিভাবে ফল প্রকাশ করা সম্ভব হবে।”

ভোট গণনা ও ফল প্রকাশে বিলম্ব হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। এক শিক্ষার্থী বলেন, “২১টি হলের মধ্যে ২টিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। বাকিগুলো গণনা করতে হলে প্রতিটি হলে এক ঘণ্টা করে সময় লাগছে। এরপর তো জাকসুর ২৫টি পদ গণনা করতে হবে, যা আরও বেশি সময় নেবে। যেসব প্যানেল এখনো নির্বাচন বর্জন করেনি, তাদের সম্মতিতে ওএমআর পদ্ধতিতে গণনা করা উচিত ছিল।”

পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, কেউই নিশ্চিত করে বলতে পারছে না, কখন ভোট গণনা শেষ হবে। এটা তো ঠিক না।