ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, জর্ডান নদী থেকে ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত পুরো ভূখণ্ডকে ইসরাইলের অংশ হিসেবেই দেখেন তিনি এবং কোনো অবস্থাতেই ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেবেন না। গাজা নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনে সর্বোচ্চ শক্তি ব্যবহারের ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি।
আরও পড়তে পারেন
মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) ইসরাইলি টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহু বলেন, গাজায় ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের অনুমতি দেওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না এবং ভবিষ্যতেও তা হবে না। তার ভাষায়, ইসরাইল পুরো অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখবে, যা গাজা উপত্যকার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
তিনি দাবি করেন, জর্ডান নদী থেকে সমুদ্র পর্যন্ত নিরাপত্তা কর্তৃত্ব ইসরাইলের হাতেই থাকবে এবং এটি দেশটির দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থের অংশ। এই অবস্থান পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই বলেও জানান তিনি।
নেতানিয়াহু বলেন, গাজায় হামাসকে সম্পূর্ণভাবে নিরস্ত্র করা এবং সামরিকভাবে অঞ্চলটিকে মুক্ত করাই ইসরাইলের প্রধান লক্ষ্য। প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগে সর্বোচ্চ মাত্রায় যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি জানান, হামাসের অস্ত্রভাণ্ডার ধ্বংস এবং ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, এসব লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত গাজায় কোনো পুনর্গঠন কার্যক্রমের অনুমতি দেওয়া হবে না। তার মতে, নিরাপত্তার বিষয়টি সবার আগে এবং সামরিকমুক্তকরণ ছাড়া পুনর্গঠন সম্ভব নয়।
গাজায় আন্তর্জাতিক বা বিদেশি সেনা মোতায়েনের সম্ভাবনাও সরাসরি নাকচ করে দেন নেতানিয়াহু। তুরস্ক বা কাতারের সেনা পাঠানোর গুঞ্জন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে না। কোনো আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বাহিনীও সেখানে মোতায়েন করা হবে না বলে জানান তিনি।
নেতানিয়াহুর বক্তব্যে স্পষ্ট, গাজা ও আশপাশের পুরো অঞ্চলে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখাই ইসরাইলের বর্তমান কৌশল। ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ধারণাকে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করে তিনি ভবিষ্যৎ শান্তি প্রক্রিয়ার পথ আরও সংকীর্ণ করে তুলেছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
এই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটকে আরও জটিল করতে পারে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরাইলের ওপর চাপ বাড়ানোর আশঙ্কাও তৈরি করেছে।




































