ঢাকা ০১:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জর্জ হ্যারিসনের ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’: ইতিহাস গড়া মানবতা

বিনোদন ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১২:০১:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ অগাস্ট ২০২৫
  • / 233

জর্জ হ্যারিসনের ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’: ইতিহাস গড়া মানবতা

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও শরণার্থী সংকট বিশ্বব্যাপী আলোড়ন তুলেছিল। সেই সংকটকালে বিশ্বসংগীতের অন্যতম কিংবদন্তি জর্জ হ্যারিসন এক অভূতপূর্ব উদ্যোগ নেন, ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ আয়োজন করে ইতিহাস গড়েন তিনি। সেতারশিল্পী পণ্ডিত রবিশঙ্করের অনুরোধে জর্জ এই আয়োজনকে বিশ্বমানের এক তহবিল সংগ্রহ উৎসবে রূপ দেন। উদ্দেশ্য ছিল যুদ্ধ ও দুর্যোগে বিপর্যস্ত বাংলাদেশি শরণার্থীদের সহায়তা করা।

১৯৭১ সালের ১ আগস্ট নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে অনুষ্ঠিত হয় এই কনসার্ট, যেখানে দুটি শো আয়োজিত হয়। এর মাধ্যমে শুরু হয় সংগীতজগতের দাতব্য কার্যক্রমের এক নতুন ধারা, যা পরবর্তী সময়ে ‘লাইভ এইড’ ও ‘লাইভ এইট’-এর মতো ঐতিহাসিক কনসার্টে অনুপ্রেরণা জোগায়।

এই আয়োজনে অংশ নেন রিংগো স্টার, এরিক ক্ল্যাপটন, বব ডিলান, বিলি প্রেস্টনসহ বহু খ্যাতিমান শিল্পী। শুরুতে পরিকল্পনা ছিল মাত্র ২৫ হাজার ডলার সংগ্রহের, কিন্তু টিকিট বিক্রিতে উঠে আসে ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার এবং পরে অ্যালবাম ও চলচ্চিত্র থেকে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ ডলার। যদিও অর্থ পৌঁছাতে কিছু প্রশাসনিক জটিলতা ছিল, শেষ পর্যন্ত তা ইউনিসেফের মাধ্যমে বাংলাদেশের শরণার্থীদের সহায়তায় ব্যবহৃত হয়।

এই উদ্যোগ শুধু দাতব্য কাজের দৃষ্টান্তই স্থাপন করেনি, বরং শিল্পী হিসেবে হ্যারিসনের দায়বদ্ধতা, উদারতা ও মানবিক অবস্থানকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছিল। তার এই কাজ সংগীতের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বমানবতার ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক হয়ে আছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

জর্জ হ্যারিসনের ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’: ইতিহাস গড়া মানবতা

সর্বশেষ আপডেট ১২:০১:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ অগাস্ট ২০২৫

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও শরণার্থী সংকট বিশ্বব্যাপী আলোড়ন তুলেছিল। সেই সংকটকালে বিশ্বসংগীতের অন্যতম কিংবদন্তি জর্জ হ্যারিসন এক অভূতপূর্ব উদ্যোগ নেন, ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ আয়োজন করে ইতিহাস গড়েন তিনি। সেতারশিল্পী পণ্ডিত রবিশঙ্করের অনুরোধে জর্জ এই আয়োজনকে বিশ্বমানের এক তহবিল সংগ্রহ উৎসবে রূপ দেন। উদ্দেশ্য ছিল যুদ্ধ ও দুর্যোগে বিপর্যস্ত বাংলাদেশি শরণার্থীদের সহায়তা করা।

১৯৭১ সালের ১ আগস্ট নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে অনুষ্ঠিত হয় এই কনসার্ট, যেখানে দুটি শো আয়োজিত হয়। এর মাধ্যমে শুরু হয় সংগীতজগতের দাতব্য কার্যক্রমের এক নতুন ধারা, যা পরবর্তী সময়ে ‘লাইভ এইড’ ও ‘লাইভ এইট’-এর মতো ঐতিহাসিক কনসার্টে অনুপ্রেরণা জোগায়।

এই আয়োজনে অংশ নেন রিংগো স্টার, এরিক ক্ল্যাপটন, বব ডিলান, বিলি প্রেস্টনসহ বহু খ্যাতিমান শিল্পী। শুরুতে পরিকল্পনা ছিল মাত্র ২৫ হাজার ডলার সংগ্রহের, কিন্তু টিকিট বিক্রিতে উঠে আসে ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার এবং পরে অ্যালবাম ও চলচ্চিত্র থেকে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ ডলার। যদিও অর্থ পৌঁছাতে কিছু প্রশাসনিক জটিলতা ছিল, শেষ পর্যন্ত তা ইউনিসেফের মাধ্যমে বাংলাদেশের শরণার্থীদের সহায়তায় ব্যবহৃত হয়।

এই উদ্যোগ শুধু দাতব্য কাজের দৃষ্টান্তই স্থাপন করেনি, বরং শিল্পী হিসেবে হ্যারিসনের দায়বদ্ধতা, উদারতা ও মানবিক অবস্থানকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছিল। তার এই কাজ সংগীতের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বমানবতার ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক হয়ে আছে।