ইন্টারনেট বন্ধ রেখে জুলাইয়ে হত্যাযজ্ঞ
জয়-পলকের বিচার শুরু
- সর্বশেষ আপডেট ০৩:২৪:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬
- / 27
চব্বিশের ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থান দমনে ইন্টারনেট বন্ধ করে হত্যাকাণ্ডে উসকানি ও সহায়তার অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। একই সঙ্গে প্রসিকিউশনের প্রারম্ভিক বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর জন্য আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করা হয়।
এদিন অভিযোগ গঠনের শুনানিতে গ্রেপ্তার পলককে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। অন্যদিকে, পলাতক দেখিয়ে সজীব ওয়াজেদ জয়ের অনুপস্থিতিতেই মামলার বিচার চলবে বলে আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।
শুনানিতে পলকের পক্ষে অব্যাহতির আবেদন করেন আইনজীবী লিটন আহমেদ। জয়ের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মনজুর আলম। তবে শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল উভয় আসামির অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে অভিযোগ গঠন করেন।
এর আগে গত ১১ জানুয়ারি চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানিতে তিনটি অভিযোগ পাঠ করে শোনান এবং আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরুর আবেদন জানান।
অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই রাতে সজীব ওয়াজেদ জয়ের নির্দেশে জুনাইদ আহমেদ পলক ফেসবুকে উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। এর পরদিন ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সশস্ত্র বাহিনী হামলা চালায়। একই সঙ্গে ইন্টারনেট বন্ধ রেখে মারণাস্ত্র ব্যবহারে উসকানি ও প্ররোচনার অভিযোগ আনা হয় তাদের বিরুদ্ধে।
প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আসামিরা হত্যায় সহায়তা করেন। ফলে পুলিশ ও দলীয় সন্ত্রাসী বাহিনীর হামলায় রাসেল, মোসলেহ উদ্দিনসহ অন্তত ২৮ জন নিহত হন। পাশাপাশি তৃতীয় অভিযোগে উত্তরা এলাকায় সংঘটিত ৩৪টি হত্যাকাণ্ডে সহায়তার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
মানবতাবিরোধী অপরাধের এসব অভিযোগে প্রসিকিউশন গত ৪ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করলে ট্রাইব্যুনাল তা আমলে নেন। পরে ১০ ডিসেম্বর সজীব ওয়াজেদ জয়কে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়ে দুটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আদেশ দেন আদালত।
































