ঢাকা ১০:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল খেলে ওজন বেড়ে যায়!

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৭:২৬:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ জুলাই ২০২৫
  • / 1171

জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল খেলে ওজন বেড়ে যায়!

বর্তমান যুগে জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল নারীদের জন্য একটি পরিচিত এবং কার্যকর গর্ভনিরোধক পদ্ধতি। তবে, এর ব্যবহার নিয়ে সমাজে রয়েছে নানা ধরনের ভুল ধারণা, ভয় ও কুসংস্কার। এই ধারণাগুলোর বেশিরভাগই বিজ্ঞানের ভিত্তিতে ভুল এবং সঠিক তথ্য জানার অভাবে ছড়িয়েছে।

 

ভুল ধারণা ১: “পিল খেলে বন্ধ্যা হয়ে যাব”

এটি সবচেয়ে বেশি প্রচলিত একটি ভয়, বিশেষ করে তরুণীদের মধ্যে। বাস্তবে, জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল বন্ধ্যাত্ব সৃষ্টি করে না। পিল খাওয়া বন্ধ করার কিছুদিনের মধ্যেই অধিকাংশ নারীর স্বাভাবিক প্রজনন ক্ষমতা ফিরে আসে। অনেক নারী পিল বন্ধ করার ১-২ মাসের মধ্যেই গর্ভধারণ করেন। বরং কিছু ক্ষেত্রে, অনিয়মিত মাসিক বা ওভারিয়ান সিস্ট থাকলে পিল ব্যবহার করলে মাসিক নিয়মিত হতে পারে।

ভুল ধারণা ২: “পিল খেলে ক্যান্সার হয়”

বেশিরভাগ নারী ভাবেন, হরমোনযুক্ত পিল দীর্ঘদিন খেলে স্তন ক্যান্সার বা জরায়ু ক্যান্সারের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এই ধারণাটি আংশিকভাবে বিভ্রান্তিকর। গবেষণা অনুযায়ী, কিছু পিলে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি সামান্য বাড়তে পারে, তবে একই সঙ্গে এটি ডিম্বাশয় ও জরায়ুর ক্যান্সারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও (WHO) জানিয়েছে, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ও নির্দিষ্ট মেয়াদে পিল গ্রহণ করলে এটি নিরাপদ।

ভুল ধারণা ৩: “পিল খেলে ওজন বেড়ে যায়”

অনেক নারী মনে করেন, পিল খাওয়া শুরু করলে হঠাৎ করেই ওজন বেড়ে যাবে। প্রকৃতপক্ষে, কিছু হরমোনযুক্ত পিলে সাময়িকভাবে শরীরে পানি জমে থাকতে পারে, যার কারণে ওজন সামান্য বাড়তে পারে। তবে এটি অস্থায়ী এবং নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম ও সুষম খাদ্যগ্রহণের মাধ্যমে সহজেই নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। বর্তমানে বাজারে যেসব আধুনিক পিল রয়েছে, সেগুলোর হরমোন ডোজ অনেক কম এবং এ ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কম হয়।

ভুল ধারণা ৪: “পিল খাওয়া শুরু করলেই সঙ্গে সঙ্গে কাজ করে”

অনেকে মনে করেন, পিল খাওয়া শুরু করলেই সঙ্গে সঙ্গে গর্ভধারণের সম্ভাবনা বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু বাস্তবে, পিল পুরোপুরি কার্যকর হতে কয়েকদিন সময় লাগে। সাধারণভাবে, মাসিকের প্রথম দিনে পিল খাওয়া শুরু করলে তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়। তবে অনেক চিকিৎসক প্রথম সাতদিন অতিরিক্ত সুরক্ষা (যেমন কনডম) ব্যবহারের পরামর্শ দেন।

ভুল ধারণা ৫: “বিয়ের আগে পিল খাওয়া অশোভন”

এই ধারণা মূলত সামাজিক ট্যাবু থেকে তৈরি। পিল কোনোভাবেই বিবাহ বা অবিবাহিত অবস্থার সঙ্গে জড়িত নয়। এটি একটি মেডিকেল গর্ভনিরোধক পদ্ধতি, যা যেকোনো প্রজননক্ষম নারী চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ব্যবহার করতে পারেন – বিবাহিত হোন বা না হোন। বিশেষ করে যারা অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ এড়াতে চান, তাদের জন্য এটি নিরাপদ ও কার্যকর একটি উপায়।

ভুল ধারণা ৬: “পিল খেলে ভবিষ্যতের সন্তান অসুস্থ হবে”

এই ভুল ধারণা অনেক মেয়ের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করে। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, পিল গ্রহণ বন্ধের পর গর্ভধারণ হলে শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও জন্মপ্রক্রিয়া ঘটে। পিলের কোনো প্রভাব ভবিষ্যতের সন্তানের স্বাস্থ্যে পড়ে না, যদি তা নিয়মমাফিক ব্যবহার করে ও যথাসময়ে বন্ধ করা হয়।

করণীয় ও পরামর্শ

জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল ব্যবহারের আগে একজন প্রশিক্ষিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। কারণ, সবার শরীর, হরমোন ভারসাম্য ও স্বাস্থ্যগত অবস্থা ভিন্ন। কিছু বিশেষ অবস্থা যেমন উচ্চ রক্তচাপ, ধূমপান, বা ৩৫ বছরের বেশি বয়সের নারীদের ক্ষেত্রে পিল ব্যবহারে কিছু ঝুঁকি থাকতে পারে। এছাড়া পিল নিয়মিত এবং সঠিক সময়মতো খাওয়া জরুরি, না হলে এটি কার্যকারিতা হারাতে পারে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল খেলে ওজন বেড়ে যায়!

সর্বশেষ আপডেট ০৭:২৬:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ জুলাই ২০২৫

বর্তমান যুগে জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল নারীদের জন্য একটি পরিচিত এবং কার্যকর গর্ভনিরোধক পদ্ধতি। তবে, এর ব্যবহার নিয়ে সমাজে রয়েছে নানা ধরনের ভুল ধারণা, ভয় ও কুসংস্কার। এই ধারণাগুলোর বেশিরভাগই বিজ্ঞানের ভিত্তিতে ভুল এবং সঠিক তথ্য জানার অভাবে ছড়িয়েছে।

 

ভুল ধারণা ১: “পিল খেলে বন্ধ্যা হয়ে যাব”

এটি সবচেয়ে বেশি প্রচলিত একটি ভয়, বিশেষ করে তরুণীদের মধ্যে। বাস্তবে, জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল বন্ধ্যাত্ব সৃষ্টি করে না। পিল খাওয়া বন্ধ করার কিছুদিনের মধ্যেই অধিকাংশ নারীর স্বাভাবিক প্রজনন ক্ষমতা ফিরে আসে। অনেক নারী পিল বন্ধ করার ১-২ মাসের মধ্যেই গর্ভধারণ করেন। বরং কিছু ক্ষেত্রে, অনিয়মিত মাসিক বা ওভারিয়ান সিস্ট থাকলে পিল ব্যবহার করলে মাসিক নিয়মিত হতে পারে।

ভুল ধারণা ২: “পিল খেলে ক্যান্সার হয়”

বেশিরভাগ নারী ভাবেন, হরমোনযুক্ত পিল দীর্ঘদিন খেলে স্তন ক্যান্সার বা জরায়ু ক্যান্সারের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এই ধারণাটি আংশিকভাবে বিভ্রান্তিকর। গবেষণা অনুযায়ী, কিছু পিলে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি সামান্য বাড়তে পারে, তবে একই সঙ্গে এটি ডিম্বাশয় ও জরায়ুর ক্যান্সারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও (WHO) জানিয়েছে, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ও নির্দিষ্ট মেয়াদে পিল গ্রহণ করলে এটি নিরাপদ।

ভুল ধারণা ৩: “পিল খেলে ওজন বেড়ে যায়”

অনেক নারী মনে করেন, পিল খাওয়া শুরু করলে হঠাৎ করেই ওজন বেড়ে যাবে। প্রকৃতপক্ষে, কিছু হরমোনযুক্ত পিলে সাময়িকভাবে শরীরে পানি জমে থাকতে পারে, যার কারণে ওজন সামান্য বাড়তে পারে। তবে এটি অস্থায়ী এবং নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম ও সুষম খাদ্যগ্রহণের মাধ্যমে সহজেই নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। বর্তমানে বাজারে যেসব আধুনিক পিল রয়েছে, সেগুলোর হরমোন ডোজ অনেক কম এবং এ ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কম হয়।

ভুল ধারণা ৪: “পিল খাওয়া শুরু করলেই সঙ্গে সঙ্গে কাজ করে”

অনেকে মনে করেন, পিল খাওয়া শুরু করলেই সঙ্গে সঙ্গে গর্ভধারণের সম্ভাবনা বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু বাস্তবে, পিল পুরোপুরি কার্যকর হতে কয়েকদিন সময় লাগে। সাধারণভাবে, মাসিকের প্রথম দিনে পিল খাওয়া শুরু করলে তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়। তবে অনেক চিকিৎসক প্রথম সাতদিন অতিরিক্ত সুরক্ষা (যেমন কনডম) ব্যবহারের পরামর্শ দেন।

ভুল ধারণা ৫: “বিয়ের আগে পিল খাওয়া অশোভন”

এই ধারণা মূলত সামাজিক ট্যাবু থেকে তৈরি। পিল কোনোভাবেই বিবাহ বা অবিবাহিত অবস্থার সঙ্গে জড়িত নয়। এটি একটি মেডিকেল গর্ভনিরোধক পদ্ধতি, যা যেকোনো প্রজননক্ষম নারী চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ব্যবহার করতে পারেন – বিবাহিত হোন বা না হোন। বিশেষ করে যারা অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ এড়াতে চান, তাদের জন্য এটি নিরাপদ ও কার্যকর একটি উপায়।

ভুল ধারণা ৬: “পিল খেলে ভবিষ্যতের সন্তান অসুস্থ হবে”

এই ভুল ধারণা অনেক মেয়ের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করে। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, পিল গ্রহণ বন্ধের পর গর্ভধারণ হলে শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও জন্মপ্রক্রিয়া ঘটে। পিলের কোনো প্রভাব ভবিষ্যতের সন্তানের স্বাস্থ্যে পড়ে না, যদি তা নিয়মমাফিক ব্যবহার করে ও যথাসময়ে বন্ধ করা হয়।

করণীয় ও পরামর্শ

জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল ব্যবহারের আগে একজন প্রশিক্ষিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। কারণ, সবার শরীর, হরমোন ভারসাম্য ও স্বাস্থ্যগত অবস্থা ভিন্ন। কিছু বিশেষ অবস্থা যেমন উচ্চ রক্তচাপ, ধূমপান, বা ৩৫ বছরের বেশি বয়সের নারীদের ক্ষেত্রে পিল ব্যবহারে কিছু ঝুঁকি থাকতে পারে। এছাড়া পিল নিয়মিত এবং সঠিক সময়মতো খাওয়া জরুরি, না হলে এটি কার্যকারিতা হারাতে পারে।