ছেলের পরকীয়া ঠেকাতে বিমানে বোমার ভুয়া হুমকি
- সর্বশেষ আপডেট ০১:১৪:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ জুলাই ২০২৫
- / 220
গতকাল বিকেলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ঢাকা-কাঠমান্ডু ফ্লাইটে বোমা রয়েছে বলে অচেনা নম্বর থেকে ফোন করা হয়। বোমা থাকার আশঙ্কায় ফ্লাইটটিতে তিন ঘণ্টার নিবিড় তল্লাশি চালানো হয়। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো বোমা পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। সংস্থাটি জানিয়েছে, ঘটনাটির সঙ্গে পারিবারিক বিষয় জড়িত। ছেলে যেন পরকীয়া প্রেমিকাকে নিয়ে কাঠমান্ডুতে যেতে না পারেন, সেজন্য মা ফোন দিয়ে বলেন— বিমানে বোমা আছে।
শনিবার (১২ জুলাই) সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) একেএম শহিদুর রহমান।
ডিজি বলেন, “গতকাল ঢাকা থেকে কাঠমান্ডুগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে বোমা রয়েছে— এমন একটি ফোনকল আসে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের কাছে। ফলে ওই বিমানের যাত্রা স্থগিত করা হয় এবং তিন থেকে চার ঘণ্টা তল্লাশি চালানো হয়। এতে কিছুই পাওয়া যায়নি। এই ঘটনার ফলে এয়ারলাইন্সের ভাবমূর্তি দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়।”
তিনি আরও বলেন, “ঘটনার পরপরই আমরা অনুসন্ধান শুরু করি। রাতভর অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করি। সেনাবাহিনী ও অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থা আমাদের সহায়তা করেছে। এই ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।”
তদন্তে জানা যায়, ইমন নামে এক ব্যক্তি পরকীয়া প্রেমিকার সঙ্গে ওই ফ্লাইটে নেপাল যাচ্ছিলেন। বিষয়টি ইমনের মা ও স্ত্রী জানতে পারেন এবং যাত্রা ঠেকাতে নানা চেষ্টাও করেন। কিন্তু তারা সফল হননি। তখন ইমনের এক বন্ধু ইমরান পরামর্শ দেন— বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষে ফোন করে বোমার হুমকি দিলে যাত্রা বন্ধ হতে পারে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী ইমনের মা ফোন দিয়ে বোমা থাকার তথ্য দেন।
র্যাব ডিজি বলেন, “এটি একটি গর্হিত অপরাধ। এমন আচরণে দেশের সম্মান ও জাতীয় এয়ারলাইন্সের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঘটলে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনার দিন ১১ জুলাই বিকেলে বিজি-৩৭৩ ফ্লাইটটি ঢাকা থেকে কাঠমান্ডুর উদ্দেশে উড্ডয়নের প্রস্তুতিতে ছিল। ফ্লাইটটিতে ১৪২ জন যাত্রী ও সাতজন ক্রু ছিলেন। ঠিক সেই সময় আসে অচেনা নম্বর থেকে বোমা থাকার ফোনকল। সঙ্গে সঙ্গে ফ্লাইট থামিয়ে দেওয়া হয় এবং বিমান বাহিনীর টাস্ক ফোর্স, এভসেক, এপিবিএনের ডগ স্কোয়াড এবং র্যাবের বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল পুরো উড়োজাহাজ ও যাত্রীদের ব্যাগপত্র তল্লাশি করে। সব যাত্রীকে নামিয়ে স্ক্রিনিং শেষে লাউঞ্জে নেওয়া হয়।
রাত ৭টা ৫৮ মিনিটে তল্লাশি শেষে নিশ্চিত হওয়া যায়— বিমানে কোনো বিস্ফোরক বা সন্দেহজনক কিছু নেই।































