ঢাকা ০৯:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ছাত্রলীগ নেতার প্যারোল: এমএসএফের নিন্দা

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:০৯:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 7

মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন

কারাবন্দী স্বামীকে দেখাতে স্ত্রী ও শিশুপুত্রের মরদেহ কারাফটকে দেখানোয় মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ) নিন্দা জানিয়েছে। এই সঙ্গে এই ঘটনার নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও দ্রুত তদন্ত দাবি করছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরিবারকে প্রয়োজনীয় মানসিক, সামাজিক ও আইনি সহায়তা প্রদানের আহ্বান জানাচ্ছে।

বাগেরহাটে এক মর্মান্তিক ঘটনায় এক গৃহবধূ ও তাঁর নয় মাস বয়সী শিশুপুত্রের মৃত্যুর ঘটনা গভীর উদ্বেগ ও শোকের সৃষ্টি করেছে। নিহত গৃহবধূ কানিজ সুবর্ণা (২২) নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের বাগেরহাট সদর উপজেলা সভাপতি জুয়েল হাসানের স্ত্রী। জুয়েল হাসান বর্তমানে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী।

গত ২৪ জানুয়ারি , বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রাম থেকে কানিজ সুবর্ণার ঝুলন্ত মরদেহ এবং তাঁর শিশুপুত্র সেজাদ হাসানের নিথর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

আজ রবিবার ( ২৫ জানুয়ারি) ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ দুটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। কারা কর্তৃপক্ষর ও স্থানীয় প্রশাসন জুয়েলকে মৃত তাঁর স্ত্রী ও শিশুপুত্রকে দেখার ব্যবস্থা না করল না তা কি অপরাধ নয় ? এ প্রশ্ন কিন্তু উঠছে সর্বস্থরে।

মানবিক বিবেচনায় বিকেল সোয়া চারটার দিকে লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ দুটি যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়। সেখানে কারাফটকে দাঁড়িয়ে বন্দী জুয়েল হাসান শেষবারের মতো তাঁর স্ত্রী ও সন্তানকে দেখেন। কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, প্যারোলে মুক্তির জন্য জেলা প্রশাসকের অনুমোদন না থাকলেও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে কারাফটকে এই সুযোগ দেওয়া হয়।

পরিবারের সদস্যরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে স্বামী কারাবন্দী থাকায় কানিজ সুবর্ণা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। নিহতের বাবা আজ সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন, যেখানে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এই মর্মান্তিক ঘটনা আবারও কারাবন্দী ব্যক্তিদের পরিবার, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা এবং সামাজিক সহায়তার বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে। একটি শিশুর জন্মের পর বাবার কোলে ওঠার সুযোগ না পাওয়া এবং শেষ পর্যন্ত এমন করুণ পরিণতি আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের বিষয়ে গভীরভাবে ভাবতে বাধ্য করে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ছাত্রলীগ নেতার প্যারোল: এমএসএফের নিন্দা

সর্বশেষ আপডেট ০৮:০৯:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

কারাবন্দী স্বামীকে দেখাতে স্ত্রী ও শিশুপুত্রের মরদেহ কারাফটকে দেখানোয় মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ) নিন্দা জানিয়েছে। এই সঙ্গে এই ঘটনার নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও দ্রুত তদন্ত দাবি করছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরিবারকে প্রয়োজনীয় মানসিক, সামাজিক ও আইনি সহায়তা প্রদানের আহ্বান জানাচ্ছে।

বাগেরহাটে এক মর্মান্তিক ঘটনায় এক গৃহবধূ ও তাঁর নয় মাস বয়সী শিশুপুত্রের মৃত্যুর ঘটনা গভীর উদ্বেগ ও শোকের সৃষ্টি করেছে। নিহত গৃহবধূ কানিজ সুবর্ণা (২২) নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের বাগেরহাট সদর উপজেলা সভাপতি জুয়েল হাসানের স্ত্রী। জুয়েল হাসান বর্তমানে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী।

গত ২৪ জানুয়ারি , বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রাম থেকে কানিজ সুবর্ণার ঝুলন্ত মরদেহ এবং তাঁর শিশুপুত্র সেজাদ হাসানের নিথর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

আজ রবিবার ( ২৫ জানুয়ারি) ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ দুটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। কারা কর্তৃপক্ষর ও স্থানীয় প্রশাসন জুয়েলকে মৃত তাঁর স্ত্রী ও শিশুপুত্রকে দেখার ব্যবস্থা না করল না তা কি অপরাধ নয় ? এ প্রশ্ন কিন্তু উঠছে সর্বস্থরে।

মানবিক বিবেচনায় বিকেল সোয়া চারটার দিকে লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ দুটি যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়। সেখানে কারাফটকে দাঁড়িয়ে বন্দী জুয়েল হাসান শেষবারের মতো তাঁর স্ত্রী ও সন্তানকে দেখেন। কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, প্যারোলে মুক্তির জন্য জেলা প্রশাসকের অনুমোদন না থাকলেও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে কারাফটকে এই সুযোগ দেওয়া হয়।

পরিবারের সদস্যরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে স্বামী কারাবন্দী থাকায় কানিজ সুবর্ণা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। নিহতের বাবা আজ সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন, যেখানে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এই মর্মান্তিক ঘটনা আবারও কারাবন্দী ব্যক্তিদের পরিবার, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা এবং সামাজিক সহায়তার বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে। একটি শিশুর জন্মের পর বাবার কোলে ওঠার সুযোগ না পাওয়া এবং শেষ পর্যন্ত এমন করুণ পরিণতি আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের বিষয়ে গভীরভাবে ভাবতে বাধ্য করে।