ছাত্রদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বলেননি শেখ হাসিনা
- সর্বশেষ আপডেট ০৪:৩৪:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ জুলাই ২০২৫
- / 566
জুলাই আন্দোলনে ছাত্রদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বলে মন্তব্য করেননি শেখ হাসিনা, এটি অপব্যাখ্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন।
সোমবার (৭ জুলাই) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ গঠনের শুনানিতে তিনি এ মন্তব্য করেন। জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ধার্য ছিল।
এদিন শেখ হাসিনার অব্যাহতির আবেদন করে আদালতে শুনানি করেন স্টেট ডিফেন্সের এই আইনজীবী।
আদালতকে তিনি বলেন, “আসামিরা নির্দোষ। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এ ছাড়া প্রসিকিউশন মামলায় প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপনে ব্যর্থ হয়েছে। সুতরাং আসামিরা অব্যাহতি পাওয়ার যোগ্য।”
প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। শুনানি শেষে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আদেশের জন্য আগামী ১০ জুলাই দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।
এর আগে, জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গণহত্যার ঘটনায় শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামাল ও চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য ১ জুলাই দিন নির্ধারণ করা হয়।
১৬ জুন ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান কামালকে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এক সপ্তাহের মধ্যে হাজির হতে নির্দেশ দেন। ১৭ জুন আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়ে তাদের নামে নোটিশও জারি করা হয়। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সাত দিনের মধ্যে হাজির না হলে অনুপস্থিতিতেই বিচার চলবে বলে জানায় ট্রাইব্যুনাল।
মামলার আরেক আসামি সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন। মামলায় শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ ১ জুন আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল। একই দিন তাদের বিরুদ্ধে নতুন করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি হয়।
সেদিন আদালতে অভিযোগ পড়ে শোনান চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর আব্দুস সোবহান তরফদার ও মিজানুল ইসলাম। এই অভিযোগপত্র সব গণমাধ্যমে সম্প্রচারযোগ্য করা হয়।
১২ মে তদন্ত সংস্থা জুলাই-আগস্টের গণহত্যার ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে, যেখানে শেখ হাসিনাকে ‘নির্দেশদাতা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
১৮ ফেব্রুয়ারি ট্রাইব্যুনাল তদন্ত শেষ করার সময়সীমা ২০ এপ্রিল পর্যন্ত বেঁধে দেয়। পরে প্রসিকিউশনের আবেদনের ভিত্তিতে এই আদেশ দেওয়া হয়।
এরও আগে, গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর দুই মামলায় শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদেরসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত দুই মাসের মধ্যে শেষ করতে নির্দেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচার গুলি চালিয়ে হত্যার নির্দেশদাতা ও পরিকল্পনাকারী হিসেবে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার চলছে। আন্দোলন দমন করতে আওয়ামী লীগ সরকার দেড় হাজারের বেশি মানুষ হত্যা করে বলে অভিযোগ রয়েছে।
































