ঢাকা ০৮:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ছাত্রদলের কেন ইসি ঘেরাও কর্মসূচি?

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৩:১০:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 80

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল

নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক কিছু সিদ্ধান্ত ও ভূমিকা ঘিরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল যে প্রশ্ন তুলেছে, তা শুধু একটি সংগঠনের অভিযোগ হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকছে না। বরং পোস্টাল ব্যালট, বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন এবং কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ মিলিয়ে ইসির নিরপেক্ষতা নিয়ে একটি বড় রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিতর্ক সামনে এসেছে।

রবিবার (১৮ জানুয়ারী) নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচির মাধ্যমে ছাত্রদল যখন ইসির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, তখন তার আগে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত দেশের পাঁচটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল পরাজিত হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে তাদের অভিযোগগুলোকে অনেকেই সাম্প্রতিক নির্বাচনী অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত করে দেখছেন।

ছাত্রদলের বক্তব্য অনুযায়ী, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট হওয়া এবং কমিশনের সিদ্ধান্তে বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর প্রভাব দৃশ্যমান হয়ে ওঠায় তারা প্রকাশ্যে অবস্থান নিতে বাধ্য হয়েছেন। সভাপতি রকিবুল ইসলাম বলেন, দাবি আদায় না হলে এবং ইসি তাদের বক্তব্যে গুরুত্ব না দিলে সারারাত ভবনটি অবরুদ্ধ করে রাখা হবে।

সংগঠনটির সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব যে অভিযোগগুলো তুলেছেন, সেগুলোর একটি বড় অংশ বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচনকেন্দ্রিক। তিনি বলেছেন, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়( শাবিপ্রবি) এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচনে বারবার তারিখ পরিবর্তন ও স্থগিতাদেশের বিষয়টি তারা ইসির অস্বাভাবিক হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছে।

ছাত্রদলের সভাপতি যুক্তি দিয়ে বলেছেন , এসব সিদ্ধান্ত একটি নির্দিষ্ট ছাত্র সংগঠনকে সুবিধা দিতে নেওয়া হয়েছে, যা কমিশনের নিরপেক্ষ অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

আরও গুরুতর যে অভিযোগটি সংগঠনটি তুলেছে , তা হলো একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর নির্বাচন কমিশনে অবাধ যাতায়াত এবং নিয়মিত কমিশনারদের সঙ্গে সাক্ষাৎ।

ছাত্রদলের সভাপতির দাবি অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর কোনো আনুষ্ঠানিক কাজ না থাকলেও তারা সচিবালয় ও কমিশনে উপস্থিত থেকে সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার করছে। এই অভিযোগ সত্য হলে, তা কমিশনের স্বাধীনতা ও পেশাদারিত্ব নিয়ে বড় প্রশ্ন তোলে।

শাবিপ্রবিতে পাঁচ দিন নির্বাচন বন্ধ রেখে পুনরায় চালু করার ঘটনাকে ছাত্রদল একটি নজিরবিহীন উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন তিনি।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নিজস্ব প্রশাসনিক সেটআপ, নির্দিষ্ট ওএমআর মেশিন এবং পছন্দের ভিসি ও প্রক্টর ছাড়া ওই গোষ্ঠী নির্বাচন করতে আগ্রহী নয়। ফলে যেখানে সেই কাঠামো নেই, সেখানে নির্বাচন বিলম্বিত বা স্থগিত করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

ছাত্রদল আরও দাবি করছে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন হল সংসদ নির্বাচনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সমর্থনে তারা ভালো ফল করছে। এই ধারাবাহিকতা ঠেকাতে এবং দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের কৌশল হিসেবেই নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে তাদের ধারণা।

এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠছে, ছাত্রদলের অভিযোগগুলো কতটা রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া আর কতটা বাস্তব উদ্বেগের প্রতিফলন।

নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে সর্বোচ্চ নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখার দায়ে রয়েছে।

কমিশনের সিদ্ধান্তে যদি ধারাবাহিকভাবে রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগ ওঠে এবং তার সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না আসে, তাহলে সেই প্রশ্ন উপেক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে। ঘেরাও কর্মসূচির মাধ্যমে ছাত্রদল স্পষ্ট করেছে, তারা এটিকে সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছে।

জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির কথা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। ফলে বিষয়টি এখন শুধু ছাত্র রাজনীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং নির্বাচন কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর আস্থার সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত হয়ে পড়েছে।

আজকের কমিশন ঘেরাও কর্মসূচিতে ছাত্রদলের তিনটি অভিযোগ তুলে ধরেছে -এক,পোস্টাল ব্যালট নিয়ে কমিশনের সিদ্ধান্ত যথেষ্ট স্বচ্ছ না হওয়ায় নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

দুই, বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর চাপের মুখে দ্রুত ও অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত কমিশনের স্বাধীনতা ও পেশাদার অবস্থানকে দুর্বল করেছে বলে অভিযোগ।

তিন, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন ঘিরে নজিরবিহীন প্রজ্ঞাপন বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে গণতান্ত্রিক চর্চার ভবিষ্যৎ নিয়েই উদ্বেগ তৈরি করেছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ছাত্রদলের কেন ইসি ঘেরাও কর্মসূচি?

সর্বশেষ আপডেট ০৩:১০:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক কিছু সিদ্ধান্ত ও ভূমিকা ঘিরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল যে প্রশ্ন তুলেছে, তা শুধু একটি সংগঠনের অভিযোগ হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকছে না। বরং পোস্টাল ব্যালট, বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন এবং কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ মিলিয়ে ইসির নিরপেক্ষতা নিয়ে একটি বড় রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিতর্ক সামনে এসেছে।

রবিবার (১৮ জানুয়ারী) নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচির মাধ্যমে ছাত্রদল যখন ইসির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, তখন তার আগে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত দেশের পাঁচটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল পরাজিত হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে তাদের অভিযোগগুলোকে অনেকেই সাম্প্রতিক নির্বাচনী অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত করে দেখছেন।

ছাত্রদলের বক্তব্য অনুযায়ী, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট হওয়া এবং কমিশনের সিদ্ধান্তে বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর প্রভাব দৃশ্যমান হয়ে ওঠায় তারা প্রকাশ্যে অবস্থান নিতে বাধ্য হয়েছেন। সভাপতি রকিবুল ইসলাম বলেন, দাবি আদায় না হলে এবং ইসি তাদের বক্তব্যে গুরুত্ব না দিলে সারারাত ভবনটি অবরুদ্ধ করে রাখা হবে।

সংগঠনটির সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব যে অভিযোগগুলো তুলেছেন, সেগুলোর একটি বড় অংশ বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচনকেন্দ্রিক। তিনি বলেছেন, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়( শাবিপ্রবি) এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচনে বারবার তারিখ পরিবর্তন ও স্থগিতাদেশের বিষয়টি তারা ইসির অস্বাভাবিক হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছে।

ছাত্রদলের সভাপতি যুক্তি দিয়ে বলেছেন , এসব সিদ্ধান্ত একটি নির্দিষ্ট ছাত্র সংগঠনকে সুবিধা দিতে নেওয়া হয়েছে, যা কমিশনের নিরপেক্ষ অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

আরও গুরুতর যে অভিযোগটি সংগঠনটি তুলেছে , তা হলো একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর নির্বাচন কমিশনে অবাধ যাতায়াত এবং নিয়মিত কমিশনারদের সঙ্গে সাক্ষাৎ।

ছাত্রদলের সভাপতির দাবি অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর কোনো আনুষ্ঠানিক কাজ না থাকলেও তারা সচিবালয় ও কমিশনে উপস্থিত থেকে সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার করছে। এই অভিযোগ সত্য হলে, তা কমিশনের স্বাধীনতা ও পেশাদারিত্ব নিয়ে বড় প্রশ্ন তোলে।

শাবিপ্রবিতে পাঁচ দিন নির্বাচন বন্ধ রেখে পুনরায় চালু করার ঘটনাকে ছাত্রদল একটি নজিরবিহীন উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন তিনি।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নিজস্ব প্রশাসনিক সেটআপ, নির্দিষ্ট ওএমআর মেশিন এবং পছন্দের ভিসি ও প্রক্টর ছাড়া ওই গোষ্ঠী নির্বাচন করতে আগ্রহী নয়। ফলে যেখানে সেই কাঠামো নেই, সেখানে নির্বাচন বিলম্বিত বা স্থগিত করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

ছাত্রদল আরও দাবি করছে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন হল সংসদ নির্বাচনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সমর্থনে তারা ভালো ফল করছে। এই ধারাবাহিকতা ঠেকাতে এবং দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের কৌশল হিসেবেই নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে তাদের ধারণা।

এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠছে, ছাত্রদলের অভিযোগগুলো কতটা রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া আর কতটা বাস্তব উদ্বেগের প্রতিফলন।

নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে সর্বোচ্চ নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখার দায়ে রয়েছে।

কমিশনের সিদ্ধান্তে যদি ধারাবাহিকভাবে রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগ ওঠে এবং তার সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না আসে, তাহলে সেই প্রশ্ন উপেক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে। ঘেরাও কর্মসূচির মাধ্যমে ছাত্রদল স্পষ্ট করেছে, তারা এটিকে সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছে।

জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির কথা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। ফলে বিষয়টি এখন শুধু ছাত্র রাজনীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং নির্বাচন কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর আস্থার সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত হয়ে পড়েছে।

আজকের কমিশন ঘেরাও কর্মসূচিতে ছাত্রদলের তিনটি অভিযোগ তুলে ধরেছে -এক,পোস্টাল ব্যালট নিয়ে কমিশনের সিদ্ধান্ত যথেষ্ট স্বচ্ছ না হওয়ায় নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

দুই, বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর চাপের মুখে দ্রুত ও অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত কমিশনের স্বাধীনতা ও পেশাদার অবস্থানকে দুর্বল করেছে বলে অভিযোগ।

তিন, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন ঘিরে নজিরবিহীন প্রজ্ঞাপন বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে গণতান্ত্রিক চর্চার ভবিষ্যৎ নিয়েই উদ্বেগ তৈরি করেছে।