ঢাকা ০৮:১৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চোর সন্দেহে যুবককে পিটিয়ে হত্যা: প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর
  • সর্বশেষ আপডেট ০৩:৩৮:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 56

চোর সন্দেহে যুবককে পিটিয়ে হত্যা: প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় মোটরসাইকেল চুরি সন্দেহে ট্রাক্টরচালক সোহেল রানাকে (২৮) পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলার প্রধান আসামি হাফিজুর রহমানকে (৫৫) গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। গতকাল রবিবার রাতে রাজধানীর পল্লবী এলাকার মাটিকাটা রোড থেকে তাকে আটক করা হয়।

র‌্যাব–১৩ এর জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) বিপ্লব কুমার গোস্বামী আজ সোমবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গ্রেপ্তার হাফিজুর রহমান রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার জলাইডাঙ্গা পশ্চিমপাড়া এলাকার মৃত আব্দুল হামিদের ছেলে।

র‌্যাবের তথ্য অনুযায়ী, ২৭ অক্টোবর সোহেল রানাকে মোটরসাইকেল চোর সন্দেহে আটক করার জন্য হাফিজুর আগে থেকেই পরিকল্পনা করেন। এরপর কয়েকজন সহযোগীর সাহায্যে সোহেলকে জোর করে মোটরসাইকেলে তোলা হয় এবং এলাকাবাসীর চায়ের দোকানের সামনে নিয়ে গিয়ে হাত-পা বেঁধে বেধড়ক মারধর করা হয়।

মারধরের পাশাপাশি সোহেলকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার দুই পায়ের হাঁটুর নিচে বৈদ্যুতিক শকও দেওয়া হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে পড়েন।

পরিবার জানায়, সোহেল বাড়ি ফেরেনি বুঝতে পেরে তারা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। ঠিক সেই সময় হাফিজুর ও তার সহযোগীরা গুরুতর জখম অবস্থায় সোহেলকে বাড়িতে ফিরিয়ে দিয়ে ভয়ভীতির মধ্যে তিনটি নন–জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে সই করিয়ে নেয়। তারা এই স্ট্যাম্পগুলোকে ‘মুক্তিপণ ও দায়মুক্তির’ কাগজ বলে দাবি করে।

আঘাতের কারণে সোহেলের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার প্রস্তুতিকালে তিনি মারা যান।

ঘটনার পর সোহেলের বাবা মিঠাপুকুর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার পর র‌্যাব–১৩ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্তে অভিযান চালায়। অবশেষে রবিবার রাতে রাজধানীর পল্লবী এলাকায় অভিযান চালিয়ে হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাব–১৩ এর কর্মকর্তা বিপ্লব কুমার গোস্বামী জানান, দীর্ঘ নজরদারি ও তথ্য যাচাইয়ের পর প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। তাকে মিঠাপুকুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

চোর সন্দেহে যুবককে পিটিয়ে হত্যা: প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

সর্বশেষ আপডেট ০৩:৩৮:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় মোটরসাইকেল চুরি সন্দেহে ট্রাক্টরচালক সোহেল রানাকে (২৮) পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলার প্রধান আসামি হাফিজুর রহমানকে (৫৫) গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। গতকাল রবিবার রাতে রাজধানীর পল্লবী এলাকার মাটিকাটা রোড থেকে তাকে আটক করা হয়।

র‌্যাব–১৩ এর জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) বিপ্লব কুমার গোস্বামী আজ সোমবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গ্রেপ্তার হাফিজুর রহমান রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার জলাইডাঙ্গা পশ্চিমপাড়া এলাকার মৃত আব্দুল হামিদের ছেলে।

র‌্যাবের তথ্য অনুযায়ী, ২৭ অক্টোবর সোহেল রানাকে মোটরসাইকেল চোর সন্দেহে আটক করার জন্য হাফিজুর আগে থেকেই পরিকল্পনা করেন। এরপর কয়েকজন সহযোগীর সাহায্যে সোহেলকে জোর করে মোটরসাইকেলে তোলা হয় এবং এলাকাবাসীর চায়ের দোকানের সামনে নিয়ে গিয়ে হাত-পা বেঁধে বেধড়ক মারধর করা হয়।

মারধরের পাশাপাশি সোহেলকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার দুই পায়ের হাঁটুর নিচে বৈদ্যুতিক শকও দেওয়া হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে পড়েন।

পরিবার জানায়, সোহেল বাড়ি ফেরেনি বুঝতে পেরে তারা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। ঠিক সেই সময় হাফিজুর ও তার সহযোগীরা গুরুতর জখম অবস্থায় সোহেলকে বাড়িতে ফিরিয়ে দিয়ে ভয়ভীতির মধ্যে তিনটি নন–জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে সই করিয়ে নেয়। তারা এই স্ট্যাম্পগুলোকে ‘মুক্তিপণ ও দায়মুক্তির’ কাগজ বলে দাবি করে।

আঘাতের কারণে সোহেলের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার প্রস্তুতিকালে তিনি মারা যান।

ঘটনার পর সোহেলের বাবা মিঠাপুকুর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার পর র‌্যাব–১৩ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্তে অভিযান চালায়। অবশেষে রবিবার রাতে রাজধানীর পল্লবী এলাকায় অভিযান চালিয়ে হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাব–১৩ এর কর্মকর্তা বিপ্লব কুমার গোস্বামী জানান, দীর্ঘ নজরদারি ও তথ্য যাচাইয়ের পর প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। তাকে মিঠাপুকুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে।