ঢাকা ০৬:৫৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চুন্নুর বিদায়ে জাপায় তীব্র অভিঘাত

বিশেষ প্রতিনিধি
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:১৬:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ জুলাই ২০২৫
  • / 140

চুন্নুর বিদায়ে জাপায় তীব্র অভিঘাত

জাতীয় পার্টিতে (জাপা) আবারও বিভক্তির ইঙ্গিত সুষ্পষ্ট হয়েছে। মুজিবুল হক চুন্নুকে সরিয়ে ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারীকে মহাসচিব পদে নিয়োগ দেওয়ায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দলের সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এবং কো-চেয়ারম্যান এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার। এ যেন পাঁচ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দলটির অভ্যন্তরীণ তীব্র অভিঘাত

এক যৌথ বিবৃতিতে তাঁরা এই নিয়োগকে অগণতান্ত্রিক, অসাংবিধানিক ও স্বেচ্ছাচারিতার বহিঃপ্রকাশ বলে উল্লেখ করেন। বিবৃতিতে বলা হয়, ঘোষিত কাউন্সিলের আগে চেয়ারম্যানের একক সিদ্ধান্তে কোনো ধরনের নিয়োগ, বহিষ্কার বা অব্যাহতি সম্পূর্ণ অবৈধ।

তাঁরা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “মুজিবুল হক চুন্নুই জাতীয় পার্টির বৈধ ও সম্মানিত মহাসচিব।” তারা আরও দাবি করেন, দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী যেকোনো বড় সিদ্ধান্ত নিতে হলে প্রেসিডিয়ামের অনুমোদন লাগবে, যা এই ক্ষেত্রে মানা হয়নি।

জাপার এই শীর্ষ নেতারা অভিযোগ করেন, “মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে আমাদের মতো নিয়মিত চাঁদা প্রদানকারী প্রেসিডিয়াম সদস্যদের অব্যাহতির চিঠি দেওয়া হয়েছে, যা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও নীতিহীনতার বহিঃপ্রকাশ।”

তাঁরা বলেন, জাতীয় পার্টিকে ব্যক্তিকেন্দ্রিক নয়, গঠনতন্ত্র ও আদর্শের ভিত্তিতে পরিচালনা করতে হবে। দলের ভেতরে গণতন্ত্র ও সম্মিলিত নেতৃত্ব ফিরিয়ে আনার দাবিও জানান তাঁরা।

এর আগে দলীয় দফতর থেকে জানানো হয়, জাতীয় পার্টির গঠনতন্ত্রের ২০(ক) ধারার ক্ষমতাবলে চুন্নুকে মহাসচিব পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে নতুন মহাসচিব নিয়োগ দেন জিএম কাদের।

তবে জাপা মহলে আগে থেকেই বিরোধের বাতাস বইছিল। ২৮ জুনের জাতীয় কাউন্সিল ঘিরে শুরু হয় দ্বন্দ্ব, যেখানে চেয়ারম্যান ও মহাসচিব পদে নতুন নেতৃত্ব আসার আভাস দিয়েছিলেন বিদ্রোহী নেতারা। পরে সেই সম্মেলন ভ্যেনু সংকটের অজুহাতে স্থগিত করেন জিএম কাদের।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, একের পর এক ভাঙনে জর্জরিত জাতীয় পার্টি এখন অস্তিত্ব সংকটে। নতুন মহাসচিব নিয়োগ দিয়ে জিএম কাদের নিজের অবস্থান মজবুত করার চেষ্টা করলেও বিরোধী বলয়ের প্রতিক্রিয়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

বর্তমান সময়ে এমনিতেই চাপে থাকা জাতীয় পার্টির নতুন করে ভাঙন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে কি প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয় বলে মনে করে দলটির মধ্যে বিভক্ত নেতাকর্মীরা।

স্বৈরাচার খেতাব পাওয়া সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের হাতেগড়া দল জাতীয় পার্টি প্রতিষ্ঠার পর থেকে বারবার ভাঙনের মুখে পড়ে। এর মধ্যে নব্বইয়ের গণআন্দোলনে এরশাদের পতনের পর প্রথমবারের মতো ভাঙন ধরে জাতীয় পার্টিতে। দ্বিতীয় দফার ভাঙন হয় ১৯৯৭ সালে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ও শেখ শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে। কাজী জাফর ও শাহ মোয়াজ্জেমের নেতৃত্বে ১৯৯৮ সালে, ২০০১ সালে নাজিউর রহমানের নেতৃত্বে চতুর্থ দফা এবং ২০১৩ সালের ২০ ডিসেম্বর বিশেষ কাউন্সিলের মাধ্যমে জাপায় পঞ্চমবারের মতো ভাঙন ধরে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

চুন্নুর বিদায়ে জাপায় তীব্র অভিঘাত

সর্বশেষ আপডেট ০৮:১৬:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ জুলাই ২০২৫

জাতীয় পার্টিতে (জাপা) আবারও বিভক্তির ইঙ্গিত সুষ্পষ্ট হয়েছে। মুজিবুল হক চুন্নুকে সরিয়ে ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারীকে মহাসচিব পদে নিয়োগ দেওয়ায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দলের সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এবং কো-চেয়ারম্যান এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার। এ যেন পাঁচ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দলটির অভ্যন্তরীণ তীব্র অভিঘাত

এক যৌথ বিবৃতিতে তাঁরা এই নিয়োগকে অগণতান্ত্রিক, অসাংবিধানিক ও স্বেচ্ছাচারিতার বহিঃপ্রকাশ বলে উল্লেখ করেন। বিবৃতিতে বলা হয়, ঘোষিত কাউন্সিলের আগে চেয়ারম্যানের একক সিদ্ধান্তে কোনো ধরনের নিয়োগ, বহিষ্কার বা অব্যাহতি সম্পূর্ণ অবৈধ।

তাঁরা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “মুজিবুল হক চুন্নুই জাতীয় পার্টির বৈধ ও সম্মানিত মহাসচিব।” তারা আরও দাবি করেন, দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী যেকোনো বড় সিদ্ধান্ত নিতে হলে প্রেসিডিয়ামের অনুমোদন লাগবে, যা এই ক্ষেত্রে মানা হয়নি।

জাপার এই শীর্ষ নেতারা অভিযোগ করেন, “মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে আমাদের মতো নিয়মিত চাঁদা প্রদানকারী প্রেসিডিয়াম সদস্যদের অব্যাহতির চিঠি দেওয়া হয়েছে, যা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও নীতিহীনতার বহিঃপ্রকাশ।”

তাঁরা বলেন, জাতীয় পার্টিকে ব্যক্তিকেন্দ্রিক নয়, গঠনতন্ত্র ও আদর্শের ভিত্তিতে পরিচালনা করতে হবে। দলের ভেতরে গণতন্ত্র ও সম্মিলিত নেতৃত্ব ফিরিয়ে আনার দাবিও জানান তাঁরা।

এর আগে দলীয় দফতর থেকে জানানো হয়, জাতীয় পার্টির গঠনতন্ত্রের ২০(ক) ধারার ক্ষমতাবলে চুন্নুকে মহাসচিব পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে নতুন মহাসচিব নিয়োগ দেন জিএম কাদের।

তবে জাপা মহলে আগে থেকেই বিরোধের বাতাস বইছিল। ২৮ জুনের জাতীয় কাউন্সিল ঘিরে শুরু হয় দ্বন্দ্ব, যেখানে চেয়ারম্যান ও মহাসচিব পদে নতুন নেতৃত্ব আসার আভাস দিয়েছিলেন বিদ্রোহী নেতারা। পরে সেই সম্মেলন ভ্যেনু সংকটের অজুহাতে স্থগিত করেন জিএম কাদের।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, একের পর এক ভাঙনে জর্জরিত জাতীয় পার্টি এখন অস্তিত্ব সংকটে। নতুন মহাসচিব নিয়োগ দিয়ে জিএম কাদের নিজের অবস্থান মজবুত করার চেষ্টা করলেও বিরোধী বলয়ের প্রতিক্রিয়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

বর্তমান সময়ে এমনিতেই চাপে থাকা জাতীয় পার্টির নতুন করে ভাঙন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে কি প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয় বলে মনে করে দলটির মধ্যে বিভক্ত নেতাকর্মীরা।

স্বৈরাচার খেতাব পাওয়া সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের হাতেগড়া দল জাতীয় পার্টি প্রতিষ্ঠার পর থেকে বারবার ভাঙনের মুখে পড়ে। এর মধ্যে নব্বইয়ের গণআন্দোলনে এরশাদের পতনের পর প্রথমবারের মতো ভাঙন ধরে জাতীয় পার্টিতে। দ্বিতীয় দফার ভাঙন হয় ১৯৯৭ সালে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ও শেখ শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে। কাজী জাফর ও শাহ মোয়াজ্জেমের নেতৃত্বে ১৯৯৮ সালে, ২০০১ সালে নাজিউর রহমানের নেতৃত্বে চতুর্থ দফা এবং ২০১৩ সালের ২০ ডিসেম্বর বিশেষ কাউন্সিলের মাধ্যমে জাপায় পঞ্চমবারের মতো ভাঙন ধরে।