চীনের রহস্যময় কার্গো উড়োজাহাজ ইরান সীমান্তে রাডারে অদৃশ্য!
- সর্বশেষ আপডেট ০২:২৫:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ জুন ২০২৫
- / 120
চীন থেকে যাত্রা করা কয়েকটি কার্গো উড়োজাহাজ ইরান সীমান্তের কাছাকাছি পৌঁছে হঠাৎ করে রাডার থেকে অদৃশ্য হয়ে গেছে—এমন রহস্যজনক ঘটনার খবর প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান-ইসরায়েলের সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যে গত শুক্রবার চীন থেকে প্রথম একটি বোয়িং ৭৪৭ ধাঁচের কার্গো উড়োজাহাজ যাত্রা করে। পরের দুদিন আরও দুটি উড়োজাহাজ উড্ডয়ন করে যথাক্রমে চীনের উপকূলীয় শহর ও সাংহাই থেকে। সবগুলো উড়োজাহাজই উত্তর চীনের ওপর দিয়ে পশ্চিম দিকে উড়ে গিয়ে কাজাখস্তান, উজবেকিস্তান ও তুর্কমেনিস্তান হয়ে ইরান সীমান্তের কাছাকাছি পৌঁছে রাডার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
ফ্লাইট পরিকল্পনা অনুযায়ী, এসব উড়োজাহাজের গন্তব্য ছিল ইউরোপের লুক্সেমবার্গ। তবে সেগুলোর কোনোটি ইউরোপীয় আকাশসীমায় প্রবেশ করেনি বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা আরও রহস্য তৈরি করেছে।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এ ধরনের কার্গো উড়োজাহাজ সাধারণত সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনে ব্যবহৃত হয়। যদিও চীন সরাসরি অস্ত্র পাঠিয়েছে কি না, তা নিশ্চিত নয়, তবুও বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকারও করা যাচ্ছে না।
চীন-মধ্যপ্রাচ্য সম্পর্ক বিশ্লেষক আন্দ্রেয়া ঘিসেলি বলেন, “ইরানের সরকার পতন চীনের জন্য কৌশলগতভাবে বিপজ্জনক হতে পারে। ফলে বেইজিং কোনো না কোনোভাবে ইরানকে সহায়তা করতে পারে—এই ধারণা অমূলক নয়।”
ইসরায়েলের একটি নিরাপত্তা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গবেষক টুভিয়া গেরিং বলেন, “চীন সরাসরি প্রতিরক্ষা সামগ্রী সরবরাহ করছে এমন প্রমাণ নেই, তবে ঘটনাটি ঘনিষ্ঠ নজরদারির দাবি রাখে।”
ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্যে আরও দেখা গেছে, কিছু উড়োজাহাজ তুর্কমেনিস্তান-ইরান সীমান্ত থেকে আবার উড্ডয়ন করে লুক্সেমবার্গের দিকে ফিরে যায়। তবে এতে কী বহন করা হয়েছে, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
লুক্সেমবার্গভিত্তিক কার্গো এয়ারলাইন্স কোম্পানি কার্গোলাক্স দাবি করেছে, তারা ইরানের আকাশসীমা ব্যবহার করে না। তবে তাদের উড়োজাহাজে কী পরিবহন করা হয়েছিল, সে প্রশ্নে তারা কোনো মন্তব্য করেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের প্রেক্ষাপটে চীন থেকে আসা এসব রহস্যময় ফ্লাইট ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
































