বেইজিংয়ের আশ্বাসের কথা বললেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
চীনের বাঁধে পানি প্রত্যাহার হবে না
- সর্বশেষ আপডেট ০৯:০২:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই ২০২৫
- / 253
ব্রহ্মপুত্রের উজানে চীনের নতুন জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে বাংলাদেশকে আশ্বস্ত করেছে বেইজিং। প্রকল্পটিতে কোনো সেচ প্রকল্প নেই এবং পানি প্রত্যাহারেরও কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানানো হয়েছে। তাই এ নিয়ে বাংলাদেশের বিচলিত হওয়ার কারণ নেই বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।
বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
তৌহিদ হোসেন বলেন, চীনের রাষ্ট্রদূত আমার সঙ্গে দেখা করে ব্যাখ্যা দিয়েছেন, তারা যেভাবে হাইড্রোপাওয়ার করে, এবার সেই পদ্ধতিতে বাঁধ তৈরি করা হবে না। বরং তারা একটি নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন, যেখানে কয়েক ধাপে পানির প্রবাহ ব্যবহার করা হবে।
তিনি বলেন, “রাষ্ট্রদূত আমাকে নিশ্চিত করেছেন যে এতে কোনো সেচ সমস্যা নেই, পানি প্রত্যাহারেরও কোনো পরিকল্পনা নেই। কাজেই আমাদের বিচলিত হওয়ার প্রয়োজন নেই।”
তৌহিদ হোসেন আরও বলেন, “আমরা আমাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছি—আমরা চাই হাইড্রোলজিক্যাল তথ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে আদান-প্রদান হোক এবং তা বিচার-বিশ্লেষণ করা হোক। তবে তার মানে এই নয় যে তারা তাদের ড্যাম নিয়ে এগোবে না। আমাদের যতটা সম্ভব কম ক্ষতি হয়, সে চেষ্টাই থাকবে।”
ভারতের বিষয়েও মন্তব্য করে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “এখানে ভারতেরও স্বার্থ আছে এবং ভারত বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের নদীগুলোর উৎস আমাদের দেশে নয়। এসব নদীর ওপরে বিভিন্ন ধরনের স্ট্রাকচার তৈরি হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও হবে। আমরা তা ঠেকাতে পারব না। আমাদের দেখতে হবে, এসব উন্নয়নের ফলে যেন আমাদের ক্ষতি না হয়—আর হলেও সেটা যেন সীমিত থাকে। আমরা সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাব।”
চীন বর্তমানে তিব্বতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণ করছে। দেশটির দাবি, প্রকল্পটি পূর্ণ উৎপাদনে গেলে এটি যুক্তরাজ্যের এক বছরের সমপরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম হবে। এই প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৭ হাজার কোটি মার্কিন ডলার।
চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, তিব্বতের এই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন সক্ষমতা এতটাই বিশাল হবে যে, এটি বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র থ্রি গর্জেস বাঁধকেও ছাড়িয়ে যাবে—যেটি চীনই নির্মাণ করেছে।
তবে ভাটির দেশগুলো, বিশেষ করে বাংলাদেশ ও ভারত, এই প্রকল্প নিয়ে উদ্বিগ্ন। কারণ তিব্বতের ইয়ারলুং জাংপো নদীর ওপর গড়ে ওঠা এই প্রকল্পটির পানি ভারতের অরুণাচল হয়ে ব্রহ্মপুত্র নামে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। আর এই নদীর ওপর নির্ভর করে বাংলাদেশ ও ভারতের কোটি কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি ও পানি নিরাপত্তা।































