চীনের দ্বিতীয় শীর্ষ কর্মকর্তাসহ ৯ জেনারেল বরখাস্ত
- সর্বশেষ আপডেট ১০:৫৯:১৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫
- / 92
সামরিক বাহিনীর শীর্ষ ৯ জেনারেলকে বরখাস্ত করেছে চীনের কমিউনিস্ট পার্টি। কয়েক দশকের মধ্যে এটি দেশটির অন্যতম বৃহৎ সামরিক শুদ্ধিকরণ অভিযান হিসেবে দেখা হচ্ছে। পার্টি এই পদক্ষেপকে দুর্নীতি দমন অভিযানের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এর মধ্যে রাজনৈতিক শুদ্ধিকরণের ইঙ্গিতও থাকতে পারে।
চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মারাত্মক আর্থিক অপরাধের কারণে ওই ৯ জেনারেল সন্দেহের তালিকায় রয়েছেন। তাদের বেশিরভাগই তিন তারকা জেনারেল এবং পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য।
যে ৯ জেনারেলকে বরখাস্ত করা হয়েছে তারা হলেন—
হি ওয়েইডং (সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান),
মিয়াও হুয়া (সিএমসির রাজনৈতিক বিভাগের পরিচালক),
হে হংজুন (সিএমসির রাজনৈতিক বিভাগের নির্বাহী উপপরিচালক),
ওয়াং জিউবিন (সিএমসির জয়েন্ট অপারেশন কমান্ড সেন্টারের নির্বাহী উপপরিচালক),
লিন জিয়াংইয়াং (ইস্টার্ন থিয়েটার কমান্ডার),
কিন শুতং (সেনাবাহিনীর রাজনৈতিক কমিশনার),
ইউয়ান হুয়াজি (নৌবাহিনীর রাজনৈতিক কমিশনার),
ওয়াং হৌবিন (রকেট ফোর্সেস কমান্ডার)
ও ওয়াং চুনিং (আর্মড পুলিশ ফোর্স কমান্ডার)।
তাদের মধ্যে হি ওয়েইডং চীনের সামরিক বাহিনীর দ্বিতীয় শীর্ষ কর্মকর্তা। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের পরে তিনিই সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। গত মার্চে সর্বশেষ জনসম্মুখে দেখা গিয়েছিল তাকে। এরপর থেকে তার অনুপস্থিতি ঘিরে নানা জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়।
হি ওয়েইডং কমিউনিস্ট পার্টির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম পলিটব্যুরোরও সদস্য ছিলেন। তিনিই প্রথম পলিটব্যুরো সদস্য যিনি এমন তদন্তের মুখোমুখি হলেন।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই নয় কর্মকর্তা “দলের শৃঙ্খলা গুরুতরভাবে লঙ্ঘন করেছেন এবং দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট অপরাধে জড়িত।” তাদের বিরুদ্ধে সামরিক আদালতে বিচার চলবে। মন্ত্রণালয় এটিকে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের একটি “উল্লেখযোগ্য অর্জন” বলে উল্লেখ করেছে।
সিএমসি এর আগেই দুর্নীতিবিরোধী পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছিল। গত জুলাইয়ে তারা সামরিক বাহিনী থেকে “দূষিত প্রভাব নির্মূল” এবং কর্মকর্তা-ক্যাডারদের জন্য কঠোর আচরণবিধি প্রণয়ন করেছিল।
এর আগে সাবেক দুই প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েই ফেংহে ও লি শাংফুকেও অনিয়মের অভিযোগে অপসারণ করা হয়েছিল।
এশিয়া সোসাইটি পলিসি ইনস্টিটিউটের ফেলো নেয়ার থমাস বলেন, শি জিনপিংয়ের এই অভিযান আসলে শক্তি প্রদর্শনের অংশ। তাঁর ভাষায়, “শি’র দৃষ্টিভঙ্গি হলো দুর্নীতিগ্রস্ত ও অবিশ্বস্ত ক্যাডারদের বাদ দিয়ে পার্টির ‘আত্ম-বিপ্লব’ ঘটানো—যাতে সংগঠন পরিচ্ছন্ন, সুশৃঙ্খল ও দীর্ঘমেয়াদি শাসনের উপযুক্ত থাকে।”
থমাস আরও বলেন, এই শুদ্ধিকরণ পদক্ষেপ চীনের শাসনব্যবস্থাকে আরও কঠোর করে তুলতে পারে। এখন দৃষ্টি থাকবে ২০ অক্টোবর শুরু হতে যাওয়া কমিউনিস্ট পার্টির পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে কারা অংশ নেয়, সেদিকে।
সূত্র: বিবিসি বাংলা
































