আইনশৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কা
চিহ্নিত ২৩৮ শুটার
- সর্বশেষ আপডেট ১২:১১:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬
- / 43
সারাদেশের অন্তত ২৩৮ জন শুটারকে চিহ্নিত করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এক বছরে সারাদেশে গোলাগুলির ঘটনার পর দীর্ঘ তথ্যানুসন্ধানে তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে। এদের বেশির ভাগই রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়ায় রয়েছেন। বছরজুড়ে খুনের নেপথ্যে মাদক সিন্ডিকেট, সন্ত্রাসী আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সবচেয়ে বেশি খুনের ঘটনা চিহ্নিত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কার কথাও জানিয়েছে পুলিশের বিভিন্ন গোয়েন্দা ইউনিট।
যেন তারা নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণার সময় কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে না পারে তার জন্য প্রত্যেককে নজরদারিতে রাখতে সংশ্লিষ্ট এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, নজরদারিতে থাকা শুটারদের মধ্যে বেশির ভাগ সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে রয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম, খুলনা, শরীয়তপুর, সিলেট এবং সিলেটের জকিগঞ্জে।
সর্বশেষ কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলায় গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্ব ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুজনকে গুলি ও হাত-পায়ের রগ কেটে হত্যা করা হয়েছে। শুক্রবার বেলা সাড়ে ১২টায় উপজেলার বক্সগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণ আলিয়ারা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
গত বছরের ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির মাথায় গুলি করে দুর্বৃত্তরা। প্রথমে দেশে ও পরে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। এর আগে ১৭ অক্টোবর চট্টগ্রামের পটিয়ায় গাড়ি ভাঙচুর ও গুলির ঘটনা ঘটে। এ সময় গাড়ির সামনের গ্লাসে এক রাউন্ড গুলি করা হয়। গত ২৩ ডিসেম্বর নোয়াখালীর হাতিয়ায় দুই পক্ষের সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় পাঁচজন নিহত হন।
পূর্বশত্রুতার জেরে রাজধানীর জুরাইনে গত ১ ডিসেম্বর দুর্বৃত্তের গুলিতে পাপ্পু শেখ (২৬) নামে এক যুবক নিহত হন। তিনি ছিলেন সিএনজিচালক। এর আগে, ৯ নভেম্বর পুরান ঢাকার ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতালের সামনে গুলি করে হত্যা করা হয় তারিক সাইফ মামুনকে (৫৫)।
জানতে চাইলে পুলিশ সদরদপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম ও অপারেশন্স) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, যতগুলো গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে এর সঙ্গে জড়িত বেশির ভাগই গ্রেপ্তার হয়েছে। যেসব শুটার চিহ্নিত হয়েছে তারা নজরদারিতে আছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
গত ১০ জানুয়ারি চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে দুর্বৃত্তের গুলিতে জামাল উদ্দিন ওরফে ছোট জামাল (৩২) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। গুলিতে নাছির নামে আরও একজন আহত হয়েছেন।
৬ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী থানার খন্দকারপাড়া এলাকায় নির্বাচনি জনসংযোগে গুলি করার ঘটনা ঘটে। এ সময় সরোয়ার হোসেন ওরফে বাবলা নামে একজন নিহত হন।
সারাদেশের তথ্য বিশ্লেষণের পর দেখা যায় গতবছরজুড়ে শুধু খুলনা মহানগর ও জেলা ছিল ভয় আর অনিশ্চয়তার জনপদ। প্রকাশ্যে খুন, আদালত চত্বরে জোড়া হত্যাকাণ্ড, একই পরিবারের একাধিক সদস্যকে হত্যা এবং নদী থেকে একের পর এক লাশ উদ্ধারের ঘটনা আলোচনায় ছিল। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, পুরো বছরে খুলনা নগরী ও জেলায় ৮৩টি হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে মহানগর এলাকায় ৩৬ এবং জেলাপর্যায়ে ৪৭টি খুনের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। বিভিন্ন নদী থেকে অর্ধ শতাধিক অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার হয়েছে।
এর মধ্যে গত বছরের ১১ জুলাই দৌলতপুরের মহেশ্বরপাশা পশ্চিমপাড়ায় দিনদুপুরে বাড়ির সামনে গুলি ও পায়ের রগ কেটে হত্যা করা হয় মাহাবুবুর রহমান মোল্লা নামে একজনকে।
৩০ নভেম্বর খুলনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের প্রধান ফটকের সামনে হাজিরা শেষে বের হওয়ার সময় গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করা হয় হাসিব হাওলাদার ও ফজলে রাব্বি রাজনকে। ১৮ ডিসেম্বর আড়ংঘাটা থানার শলুয়া বাজারে গুলিতে নিহত হন সাংবাদিক ইমদাদুল হক মিলন। ১৪ ডিসেম্বর রাতে রূপসা উপজেলার খানজাহান আলী সেতু এলাকায় গুলিতে নিহত হন সাগর নামে আরেকজন।
পুলিশ বলছে, খুলনা নগরীর ৩৬টি খুনের ঘটনায় একাধিক কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে মাদক সিন্ডিকেট, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সবচেয়ে বেশি। পারিবারিক কলহ, পরকীয়া, জমি ও ব্যবসায়িক বিরোধ, চুরি, প্রেমঘটিত বিষয় এবং অজ্ঞাত কারণেও খুনের ঘটনা রয়েছে। ৬ জানুয়ারি রাতে কিশোরগঞ্জে ওয়াজ মাহফিল চলাকালে এয়ারগানের গুলি ছোড়ার ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ সময় গুলিতে দুজন আহত হন। খবর বাংলাদেশ প্রতিদিন অনলাইন।
































