চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
- সর্বশেষ আপডেট ০৭:১৫:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৫
- / 83
রাজধানীর মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছেন এমিরেটাস অধ্যাপক ও সাহিত্যিক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম।
শনিবার (১১ অক্টোবর) বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে তার দাফন সম্পন্ন হয়। এর আগে বাদ জোহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার সামনে এবং ১১টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষ তাঁর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান।
প্রসঙ্গত, তিনি শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে রাজধানীর ল্যাব এইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ৩ অক্টোবর হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। ভর্তির পর পরীক্ষার পর রাতেই তার হার্টে দুইটি রিং বসানো হয়। ৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় অবস্থা সংকটাপন্ন হলে তাকে ভেন্টিলেশন সাপোর্টে রাখা হয়। কিছুটা উন্নতি হলে মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে তিনি স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতে পারছিলেন, তবে অবস্থা ফের খারাপ হওয়ায় লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয় এবং বিকেল ৫টার দিকে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম ১৯৫১ সালের ১৮ জানুয়ারি সিলেটে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম সৈয়দ আমীরুল ইসলাম এবং মাতার নাম রাবেয়া খাতুন। সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৬৬ সালে মাধ্যমিক সম্পন্ন করে তিনি সিলেট এমসি কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৮১ সালে কানাডার কুইন্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইয়েটস-এর কবিতায় ইমানুয়েল সুইডেনবার্গের দর্শনের প্রভাব নিয়ে পিএইচডি অর্জন করেন।
দেশে ফিরে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। ২০১৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবসর নেয়ার পর তিনি ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশে যোগ দেন। ২০২৩ সালে তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমিরেটাস অধ্যাপক করা হয়।
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম ১৯৯৬ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার এবং ২০১৮ সালে একুশে পদকে ভূষিত হন। তার লেখা প্রবন্ধ, গল্প, উপন্যাস, নন্দনতত্ত্ব ও গবেষণাধর্মী বই রয়েছে। উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে: পুস্তক প্রকাশনা ও সম্পাদনা প্রসঙ্গ, থাকা না থাকার গল্প, কাচ ভাঙ্গা রাতের গল্প, অন্ধকার ও আলো দেখার গল্প, আধখানা মানুষ্য, দিনরাত্রিগুলি, আজগুবি রাত, তিন পর্বের জীবন, নন্দনতত্ত্ব, কতিপয় প্রবন্ধ এবং অলস দিনের হাওয়া।
































