ঢাকা ০৪:২৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চিরকুট লিখে ব্যবসায়ী নিখোঁজ, রেললাইনে মিলল লাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ভাঙ্গুড়া (পাবনা)
  • সর্বশেষ আপডেট ১২:১১:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর ২০২৫
  • / 65

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় চিরকুট লিখে নিখোঁজ হন জিয়াউর রহমান (৪৫) নামে স্থায়ীয় এক টেইলার্স ব্যবসায়ী। পরে তার লাশ পাওয়া গেছে পার্শ্ববর্তী আটঘরিয়া উপজেলার মাঝপাড়া রেলওয়ে ট্র্যাকের ৯ নম্বর ব্রীজ এলাকায়। মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) দুপুর থেকে নিখোঁজ থাকার পর সন্ধ্যা ৬টার দিকে ট্রেনে কাটা অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

জিয়াউর রহমান ভাঙ্গুড়া পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের উত্তর সারুটিয়া ওয়াবদা এলাকার মৃত শাহজাহান আলীর ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ভাঙ্গুড়া বাজারে সেঞ্চুরি টেইলার্স নামে একটি টেইলারিং ব্যবসা পরিচালনা করতেন।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো সকালেই দোকানে যান জিয়াউর রহমান। দুপুরে তার ছোট ছেলে মো. ইজাজ হোসেন খাবার নিয়ে দোকানে গিয়ে বাবাকে সেখানে পাননি। আশেপাশে খোঁজ নিয়েও কোনো তথ্য মেলেনি। পরে দোকানের টেবিলে ভাঁজ করে রাখা একটি কাগজে চোখ যায় তার। কাগজটি ছিল একটি চিরকুট, তাতে লেখা ছিল— ‘দোকান-সংসার চালাইতে পারলাম না, তাই দুনিয়া ত্যাগ করিলাম। কেউ দায়ী নয়’। নিচে লেখা ছিল তার নাম ও তারিখ ১৯/১১/২০২৫।

এই চিরকুট পাওয়ার পর পরিবার ও স্বজনরা চারদিকে খোঁজ চালিয়েও কোনো তথ্য পায়নি। মুহূর্তেই এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে উদ্বেগ, আতঙ্ক ও শোকের ছায়া।

মৃত জিয়াউর রহমানের ঘনিষ্ঠ একজন ব্যবসায়ী জানান, তিনি বেশ কিছুদিন ধরে মানসিকভাবে দুর্বল ছিলেন। টেইলারিংয়ের কাজ করতে সময় লাগত বেশি। এ কারণে তার ছোট ছেলে তাকে প্রায়ই বকাঝকা ও মারধর করত বলে অভিযোগ করেন তিনি। এতে তিনি আরও ভেঙে পড়েছিলেন বলে ধারণা তার।

নিখোঁজের প্রায় তিন ঘণ্টা পর বিকাল সোয়া ৫টার দিকে মাঝপাড়া রেলওয়ে ব্রীজ এলাকায় ট্রেনে কাটা অবস্থায় একটি লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। পরে তা দেখে পরিবার ও পুলিশ গিয়ে লাশটি জিয়াউর রহমানের বলে শনাক্ত করে।

ভাঙ্গুড়া থানার (ওসি) বলেন, জিয়াউর রহমান দীর্ঘদিন ধরে মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। এর আগেও তিনি আত্মহননের চেষ্টা করেছিলেন। নিখোঁজের ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে একটি জিডি করা হয়েছিল। তদন্ত চলমান থাকা অবস্থায় আটঘরিয়া থেকে তার লাশ পাওয়া যায়।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

চিরকুট লিখে ব্যবসায়ী নিখোঁজ, রেললাইনে মিলল লাশ

সর্বশেষ আপডেট ১২:১১:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর ২০২৫

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় চিরকুট লিখে নিখোঁজ হন জিয়াউর রহমান (৪৫) নামে স্থায়ীয় এক টেইলার্স ব্যবসায়ী। পরে তার লাশ পাওয়া গেছে পার্শ্ববর্তী আটঘরিয়া উপজেলার মাঝপাড়া রেলওয়ে ট্র্যাকের ৯ নম্বর ব্রীজ এলাকায়। মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) দুপুর থেকে নিখোঁজ থাকার পর সন্ধ্যা ৬টার দিকে ট্রেনে কাটা অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

জিয়াউর রহমান ভাঙ্গুড়া পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের উত্তর সারুটিয়া ওয়াবদা এলাকার মৃত শাহজাহান আলীর ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ভাঙ্গুড়া বাজারে সেঞ্চুরি টেইলার্স নামে একটি টেইলারিং ব্যবসা পরিচালনা করতেন।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো সকালেই দোকানে যান জিয়াউর রহমান। দুপুরে তার ছোট ছেলে মো. ইজাজ হোসেন খাবার নিয়ে দোকানে গিয়ে বাবাকে সেখানে পাননি। আশেপাশে খোঁজ নিয়েও কোনো তথ্য মেলেনি। পরে দোকানের টেবিলে ভাঁজ করে রাখা একটি কাগজে চোখ যায় তার। কাগজটি ছিল একটি চিরকুট, তাতে লেখা ছিল— ‘দোকান-সংসার চালাইতে পারলাম না, তাই দুনিয়া ত্যাগ করিলাম। কেউ দায়ী নয়’। নিচে লেখা ছিল তার নাম ও তারিখ ১৯/১১/২০২৫।

এই চিরকুট পাওয়ার পর পরিবার ও স্বজনরা চারদিকে খোঁজ চালিয়েও কোনো তথ্য পায়নি। মুহূর্তেই এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে উদ্বেগ, আতঙ্ক ও শোকের ছায়া।

মৃত জিয়াউর রহমানের ঘনিষ্ঠ একজন ব্যবসায়ী জানান, তিনি বেশ কিছুদিন ধরে মানসিকভাবে দুর্বল ছিলেন। টেইলারিংয়ের কাজ করতে সময় লাগত বেশি। এ কারণে তার ছোট ছেলে তাকে প্রায়ই বকাঝকা ও মারধর করত বলে অভিযোগ করেন তিনি। এতে তিনি আরও ভেঙে পড়েছিলেন বলে ধারণা তার।

নিখোঁজের প্রায় তিন ঘণ্টা পর বিকাল সোয়া ৫টার দিকে মাঝপাড়া রেলওয়ে ব্রীজ এলাকায় ট্রেনে কাটা অবস্থায় একটি লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। পরে তা দেখে পরিবার ও পুলিশ গিয়ে লাশটি জিয়াউর রহমানের বলে শনাক্ত করে।

ভাঙ্গুড়া থানার (ওসি) বলেন, জিয়াউর রহমান দীর্ঘদিন ধরে মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। এর আগেও তিনি আত্মহননের চেষ্টা করেছিলেন। নিখোঁজের ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে একটি জিডি করা হয়েছিল। তদন্ত চলমান থাকা অবস্থায় আটঘরিয়া থেকে তার লাশ পাওয়া যায়।