চিনির প্রতি টান বেশি? নিয়ন্ত্রণের সহজ উপায়
- সর্বশেষ আপডেট ০২:০৬:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬
- / 55
মিষ্টি খেতে ভালোবাসেন না—এমন মানুষ খুব কমই আছেন। তবে অনেক সময় এই মিষ্টির প্রতি আকর্ষণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। হঠাৎ করে চকলেট, কেক, আইসক্রিম বা মিষ্টি পানীয় খাওয়ার তীব্র ইচ্ছা জাগে—এ অবস্থাকেই বলা হয় চিনির আকাঙ্ক্ষা। বিষয়টি কেবল স্বাদের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়; এর পেছনে রক্তে শর্করার ওঠানামা, ঘুমের অভাব, মানসিক চাপ ও অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস বড় ভূমিকা রাখে।
বারবার অতিরিক্ত চিনি গ্রহণ স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এতে ওজন বৃদ্ধি, টাইপ–২ ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, ফ্যাটি লিভার এমনকি উদ্বেগ ও বিষণ্নতার ঝুঁকিও বাড়তে পারে। তবে কিছু সচেতন অভ্যাস গড়ে তুললে চিনির প্রতি এই অতিরিক্ত টান অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত কড়াকড়ি ডায়েট এড়িয়ে চলা জরুরি। খুব কম ক্যালরি বা কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ করলে শরীর খাবারের অভাব অনুভব করে এবং উল্টোভাবে মিষ্টি ও জাঙ্ক ফুডের প্রতি আকর্ষণ বাড়ে। তাই খাবারের সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখাও চিনির আকাঙ্ক্ষা কমাতে সাহায্য করে। দ্রুত হজম হয় এমন খাবার রক্তে শর্করা হঠাৎ বাড়িয়ে আবার কমিয়ে দেয়, ফলে মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছা বাড়ে। তাই ধীরে হজম হয়—এমন খাবার বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদরা।
খাবারে প্রোটিন ও ফাইবারের পরিমাণ বাড়ালে দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকে এবং অপ্রয়োজনীয় খাওয়ার প্রবণতা কমে। ডিম, মাছ, ডাল, দই, শাকসবজি, ফল, ওটস ও বাদাম এ ক্ষেত্রে ভালো উৎস।
পর্যাপ্ত ঘুমও গুরুত্বপূর্ণ। ঘুমের ঘাটতি হলে ক্ষুধা ও মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছা বেড়ে যায়। প্রতিদিন অন্তত সাত ঘণ্টা ঘুমানোর পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন। চাপ বাড়লে শরীর স্বস্তি পেতে মিষ্টি খাবারের দিকে ঝুঁকে পড়ে। হাঁটা, ব্যায়াম, গান শোনা বা পছন্দের কাজে সময় দিলে চাপ কমতে পারে।
খাবারের বিষয়ে অতিরিক্ত কঠোর না হয়ে নমনীয় থাকা জরুরি। কোনো খাবার একেবারে নিষিদ্ধ করলে সেটার প্রতিই আকাঙ্ক্ষা বাড়ে। মাঝেমধ্যে প্রিয় মিষ্টি খেলে অপরাধবোধ না করে পরিমাণের দিকে নজর দেওয়া ভালো।
আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের মতে, নারীদের জন্য দিনে সর্বোচ্চ ৬ চা-চামচ এবং পুরুষদের জন্য ৯ চা-চামচ চিনি গ্রহণ নিরাপদ। তবে বিশেষজ্ঞদের মত, যত কম চিনি খাওয়া যায়, ততই স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।





































