ঢাকা ০৯:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চার সাংবাদিকের মুক্তির জন্য প্রধান উপদেষ্টাকে চিঠি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৬:৩২:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 62

কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)

বাংলাদেশে কারাবন্দি চার সাংবাদিকের মুক্তির জন্য প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে চিঠি দিয়েছে কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)। সংস্থার দাবি, ওই সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো প্রতিহিংসামূলক এবং প্রমাণের অভাব রয়েছে। তারা মনে করে, সাংবাদিকতা ও রাজনৈতিক কার্যক্রমের কারণে এই মামলা করা হয়েছে।

চার সাংবাদিক হলেন—ফারজানা রূপা, শাকিল আহমেদ, মোজাম্মেল বাবু ও শ্যামল দত্ত। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসের আগে গত সোমবার ই-মেইলে এই চিঠি পাঠানো হয়। চিঠিতে প্রধান উপদেষ্টাকে সাংবাদিকদের মুক্তি দিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

নিউইয়র্কভিত্তিক সিপিজে তাদের পরিবার থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, কারাবন্দি সাংবাদিকদের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে ৩৬ বর্গফুটের সেলে রাখা হয়েছে। সেলে দরজার বদলে লোহার শিক থাকায় তারা শীত ও মশার সমস্যা ভোগ করছে। কংক্রিটের মেঝেতে কোনো তোশক ছাড়াই ঘুমাতে হচ্ছে, পর্যাপ্ত খাবার ও চিকিৎসাসেবাও নেই।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের নভেম্বরে এক সাক্ষাৎকারে ড. ইউনূস স্বীকার করেছিলেন, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে তড়িঘড়ি করে হত্যা মামলা দেওয়া হচ্ছে এবং সরকার তা বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছে। তবে তার দায়িত্ব নেওয়ার পরও চার সাংবাদিকের বিরুদ্ধে নতুন করে হত্যা মামলা করা হয়েছে। বারবার তাদের জামিন নাকচ হয়েছে।

বাংলাদেশের সংবিধান ও আন্তর্জাতিক আইনের ওপর ভিত্তি করে সিপিজে জানায়, সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদ এবং ইন্টারন্যাশনাল কভেনেন্ট অন সিভিল অ্যান্ড পলিটিক্যাল রাইটস-এ বাক ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সুরক্ষিত। তাই আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উদযাপনের অংশ হিসেবে কারাবন্দি সাংবাদিকদের মুক্তি দিয়ে পরিবারের কাছে ফেরানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

একই দিনে সিপিজে জানিয়েছে, শুধু বাংলাদেশ নয়, এশিয়ার আরও ছয়টি দেশ—ভারত, আফগানিস্তান, কম্বোডিয়া ও ফিলিপাইনেও কারাবন্দি সাংবাদিকদের মুক্তির জন্য চিঠি পাঠানো হয়েছে। সিপিজে তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে কারাবন্দি সাংবাদিকদের মধ্যে ৩০ শতাংশের বেশি এশিয়ায় রয়েছেন। এশিয়ায় সবচেয়ে বেশি কারাবন্দি সাংবাদিক রয়েছে চীন, মিয়ানমার ও ভিয়েতনামে। ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এশিয়ায় অন্তত ১০৬ জন সাংবাদিক কারাগারে রয়েছেন, যার মধ্যে চীনে ৫০, মিয়ানমারে ২৭ এবং ভিয়েতনামে ১৬ জন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

চার সাংবাদিকের মুক্তির জন্য প্রধান উপদেষ্টাকে চিঠি

সর্বশেষ আপডেট ০৬:৩২:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশে কারাবন্দি চার সাংবাদিকের মুক্তির জন্য প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে চিঠি দিয়েছে কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)। সংস্থার দাবি, ওই সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো প্রতিহিংসামূলক এবং প্রমাণের অভাব রয়েছে। তারা মনে করে, সাংবাদিকতা ও রাজনৈতিক কার্যক্রমের কারণে এই মামলা করা হয়েছে।

চার সাংবাদিক হলেন—ফারজানা রূপা, শাকিল আহমেদ, মোজাম্মেল বাবু ও শ্যামল দত্ত। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসের আগে গত সোমবার ই-মেইলে এই চিঠি পাঠানো হয়। চিঠিতে প্রধান উপদেষ্টাকে সাংবাদিকদের মুক্তি দিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

নিউইয়র্কভিত্তিক সিপিজে তাদের পরিবার থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, কারাবন্দি সাংবাদিকদের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে ৩৬ বর্গফুটের সেলে রাখা হয়েছে। সেলে দরজার বদলে লোহার শিক থাকায় তারা শীত ও মশার সমস্যা ভোগ করছে। কংক্রিটের মেঝেতে কোনো তোশক ছাড়াই ঘুমাতে হচ্ছে, পর্যাপ্ত খাবার ও চিকিৎসাসেবাও নেই।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের নভেম্বরে এক সাক্ষাৎকারে ড. ইউনূস স্বীকার করেছিলেন, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে তড়িঘড়ি করে হত্যা মামলা দেওয়া হচ্ছে এবং সরকার তা বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছে। তবে তার দায়িত্ব নেওয়ার পরও চার সাংবাদিকের বিরুদ্ধে নতুন করে হত্যা মামলা করা হয়েছে। বারবার তাদের জামিন নাকচ হয়েছে।

বাংলাদেশের সংবিধান ও আন্তর্জাতিক আইনের ওপর ভিত্তি করে সিপিজে জানায়, সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদ এবং ইন্টারন্যাশনাল কভেনেন্ট অন সিভিল অ্যান্ড পলিটিক্যাল রাইটস-এ বাক ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সুরক্ষিত। তাই আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উদযাপনের অংশ হিসেবে কারাবন্দি সাংবাদিকদের মুক্তি দিয়ে পরিবারের কাছে ফেরানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

একই দিনে সিপিজে জানিয়েছে, শুধু বাংলাদেশ নয়, এশিয়ার আরও ছয়টি দেশ—ভারত, আফগানিস্তান, কম্বোডিয়া ও ফিলিপাইনেও কারাবন্দি সাংবাদিকদের মুক্তির জন্য চিঠি পাঠানো হয়েছে। সিপিজে তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে কারাবন্দি সাংবাদিকদের মধ্যে ৩০ শতাংশের বেশি এশিয়ায় রয়েছেন। এশিয়ায় সবচেয়ে বেশি কারাবন্দি সাংবাদিক রয়েছে চীন, মিয়ানমার ও ভিয়েতনামে। ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এশিয়ায় অন্তত ১০৬ জন সাংবাদিক কারাগারে রয়েছেন, যার মধ্যে চীনে ৫০, মিয়ানমারে ২৭ এবং ভিয়েতনামে ১৬ জন।