ঢাকা ০৯:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চাঁদাবাজির মামলায় প্রতারক লিটনের জামিন নাকচ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর
  • সর্বশেষ আপডেট ০৯:৫৩:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 202

চাঁদাবাজির মামলায় প্রতারক লিটনের জামিন নাকচ

চাঁদাবাজি ও প্রতারণার নানা অভিযোগে ফরিদপুর-১ আসনের সাবেক এমপি মঞ্জুর হোসেন বুলবুলের সাবেক পিএস সিকদার লিটনের জামিন আবেদন আদালত নাকচ করেছেন। বুধবার দুপুরে ফরিদপুর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শারমিন সুলতানা সুমি তার জামিন আবেদন খারিজ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ আগস্ট ফরিদপুর শহর থেকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা লিটনকে গ্রেপ্তার করে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তৎকালীন এমপির আশ্রয়ে নানা অপরাধ কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিল সে। ঢাকায় ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে একাধিক হত্যা ও হত্যাচেষ্টার মামলায় তার নাম রয়েছে। এছাড়া শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর সময় আলফাডাঙ্গায় নাশকতার মামলাতেও সে এজাহারভুক্ত আসামি।

২০২০ সালে একাধিক মামলার পরোয়ানাভুক্ত হয়ে র‌্যাবের হাতে ভাঙ্গা থেকে ধরা পড়ে লিটন। দীর্ঘদিন কারাভোগ শেষে জামিনে বেরিয়ে এসে আবারও প্রতারণা ও মামলা বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়ে। ব্যবসায়ী, চাকরিজীবীসহ অনেকের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে অর্থ আদায় তার প্রধান কৌশল হয়ে ওঠে।

চলতি বছরের ৫ মে ঢাকার বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মামলায়ও তাকে ফরিদপুর থেকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। সাংবাদিক পরিচয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা চালানো লিটন সম্প্রতি ভুয়া মামলা বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল অর্থ উপার্জন করে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে, মাত্র তিন মাসে তার বিকাশ একাউন্টে ২২ লাখ টাকার বেশি লেনদেন হয়েছে।

৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন কারাগারে নিহত জাবেদ নামের এক যুবকের পরিবারের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও লিটন খালাতো ভাই পরিচয় দিয়ে কেরানীগঞ্জে হত্যা মামলা করে। এরপর আসামি করার ভয় দেখিয়ে বিভিন্নজনের কাছ থেকে টাকা আদায় করে। বিষয়টি ফাঁস হলে নিহত জাবেদের ভাই মাইনুদ্দীন মোহাম্মদপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।

তার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে; কারা হেফাজতে ভুয়া নির্যাতনের অভিযোগ তুলে আদালতে মামলা দায়ের, মন্ত্রী-এমপি থেকে শুরু করে কারারক্ষীদের নাম আসামি করা, স্থানীয় ব্যাংক কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে সাজানো চাঁদাবাজির মামলা দায়ের, চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ ইত্যাদি।

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গার চরডাঙ্গা গ্রামের সিদ্দিক সিকদারের ছেলে লিটনকে স্থানীয়রা প্রতারক ও ছদ্মবেশী অপরাধী হিসেবে চেনে। দুদকের চার্জশিটভুক্ত মামলার আসামিও সে। পাবনার এক ব্যবসায়ীর করা প্রতারণা মামলায় অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার প্রমাণ পায় দুদক। সংস্থাটি জানায়, প্রতারণা, দালালি ও মানুষকে ঠকানোই ছিল তার প্রধান কাজ। বর্তমানে মামলাটি বিচারাধীন।

এমনকি নিজের শ্বশুর জাপান মুন্সির বিরুদ্ধেও পাঁচটি মামলা করেছিল লিটন। অসৎ রাজনৈতিক নেতাদের আশ্রয়ে একের পর এক অপরাধ নির্বিঘ্নে চালিয়ে যায় সে। সরকারি-বেসরকারি চাকরি দেওয়ার নামেও কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

চাঁদাবাজির মামলায় প্রতারক লিটনের জামিন নাকচ

সর্বশেষ আপডেট ০৯:৫৩:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

চাঁদাবাজি ও প্রতারণার নানা অভিযোগে ফরিদপুর-১ আসনের সাবেক এমপি মঞ্জুর হোসেন বুলবুলের সাবেক পিএস সিকদার লিটনের জামিন আবেদন আদালত নাকচ করেছেন। বুধবার দুপুরে ফরিদপুর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শারমিন সুলতানা সুমি তার জামিন আবেদন খারিজ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ আগস্ট ফরিদপুর শহর থেকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা লিটনকে গ্রেপ্তার করে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তৎকালীন এমপির আশ্রয়ে নানা অপরাধ কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিল সে। ঢাকায় ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে একাধিক হত্যা ও হত্যাচেষ্টার মামলায় তার নাম রয়েছে। এছাড়া শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর সময় আলফাডাঙ্গায় নাশকতার মামলাতেও সে এজাহারভুক্ত আসামি।

২০২০ সালে একাধিক মামলার পরোয়ানাভুক্ত হয়ে র‌্যাবের হাতে ভাঙ্গা থেকে ধরা পড়ে লিটন। দীর্ঘদিন কারাভোগ শেষে জামিনে বেরিয়ে এসে আবারও প্রতারণা ও মামলা বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়ে। ব্যবসায়ী, চাকরিজীবীসহ অনেকের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে অর্থ আদায় তার প্রধান কৌশল হয়ে ওঠে।

চলতি বছরের ৫ মে ঢাকার বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মামলায়ও তাকে ফরিদপুর থেকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। সাংবাদিক পরিচয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা চালানো লিটন সম্প্রতি ভুয়া মামলা বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল অর্থ উপার্জন করে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে, মাত্র তিন মাসে তার বিকাশ একাউন্টে ২২ লাখ টাকার বেশি লেনদেন হয়েছে।

৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন কারাগারে নিহত জাবেদ নামের এক যুবকের পরিবারের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও লিটন খালাতো ভাই পরিচয় দিয়ে কেরানীগঞ্জে হত্যা মামলা করে। এরপর আসামি করার ভয় দেখিয়ে বিভিন্নজনের কাছ থেকে টাকা আদায় করে। বিষয়টি ফাঁস হলে নিহত জাবেদের ভাই মাইনুদ্দীন মোহাম্মদপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।

তার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে; কারা হেফাজতে ভুয়া নির্যাতনের অভিযোগ তুলে আদালতে মামলা দায়ের, মন্ত্রী-এমপি থেকে শুরু করে কারারক্ষীদের নাম আসামি করা, স্থানীয় ব্যাংক কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে সাজানো চাঁদাবাজির মামলা দায়ের, চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ ইত্যাদি।

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গার চরডাঙ্গা গ্রামের সিদ্দিক সিকদারের ছেলে লিটনকে স্থানীয়রা প্রতারক ও ছদ্মবেশী অপরাধী হিসেবে চেনে। দুদকের চার্জশিটভুক্ত মামলার আসামিও সে। পাবনার এক ব্যবসায়ীর করা প্রতারণা মামলায় অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার প্রমাণ পায় দুদক। সংস্থাটি জানায়, প্রতারণা, দালালি ও মানুষকে ঠকানোই ছিল তার প্রধান কাজ। বর্তমানে মামলাটি বিচারাধীন।

এমনকি নিজের শ্বশুর জাপান মুন্সির বিরুদ্ধেও পাঁচটি মামলা করেছিল লিটন। অসৎ রাজনৈতিক নেতাদের আশ্রয়ে একের পর এক অপরাধ নির্বিঘ্নে চালিয়ে যায় সে। সরকারি-বেসরকারি চাকরি দেওয়ার নামেও কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।