ঢাকা ০৪:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চবি এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি

নিজস্ব প্রতিবেদক, চবি
  • সর্বশেষ আপডেট ০৪:২১:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫
  • / 84

গত রাত থেকে থমথমে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুরে হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিন স্বাক্ষরিত আদেশ থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

হাটহাজারী উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট বাজারের পূর্ব সীমা থেকে পূর্ব দিকের রেলগেট পর্যন্ত রাস্তার উভয় পাশে আজ বেলা ২টা থেকে আগামীকাল সোমবার রাত ১২টা পর্যন্ত ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ১৪৪ ধারার এই আদেশ জারি করা হয়।

আদেশে বলা হয়, এই সময় উল্লেখিত এলাকায় সব ধরনের সভা, সমাবেশ, বিক্ষোভ মিছিল, গণজমায়েত, বিস্ফোরক দ্রব্য, আগ্নেয়াস্ত্র ও সব ধরনের দেশীয় অস্ত্র বহনসহ এসব এলাকায় পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির একত্রে অবস্থান বা চলাফেলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হলো।

এর আগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ফের স্থানীয় ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছেন প্রায় ২০ জনের মতো শিক্ষার্থী। এ সময় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন স্থানীয়দের ধাওয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েন।

রোববার (৩১ আগস্ট) সকালে শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা ফের মুখোমুখি অবস্থানে আসে। এ সময় তিনি (উপ-উপাচার্য) উপস্থিত হয়ে সমাধানের চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন শিক্ষার্থীদের ধাওয়া করলে তিনি আহত হন।

 

জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা করছে। রোববার সকাল থেকে প্রধান ফটক বন্ধ করে জিরো পয়েন্ট এলাকায় বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।

 

এ সময় হামলায় জড়িতদের বিচার দাবি করেন তারা। একপর্যায়ে ক্যাম্পাসের পাশে রাতের সংঘর্ষের স্থানে গেলে স্থানীয় লোকজনও লাঠিসোঁটা নিয়ে এগিয়ে আসেন। এতে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।

 

শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ২ নম্বর গেটের কাছে শাহাবুদ্দীন ভবন নামের একটি বাসায় বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শন বিভাগের প্রথম বর্ষের নারী শিক্ষার্থীকে দারোয়ান কর্তৃক মারধরের মাধ্যমে ঘটনার সূত্রপাত হয়। পরে সময়ে এ ঘটনার উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে ক্যাম্পাসজুড়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো থেকে দলে দলে শিক্ষার্থীরা বেরিয়ে আসে ২ নম্বর গেটের দিকে।

 

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী ওই মেয়ে শিক্ষার্থী রাত করে আসায় বাসার দরজা খুলতে অপারগতা জানান দারোয়ান। পরে ওই বাসার আরও কিছু মেয়ে শিক্ষার্থী এসে দরজা খোলার জন্য জোর করে। পরে গেট খোলার পর ওই দারোয়ান ও মেয়ে শিক্ষার্থীর মধ্যে হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে ওই মেয়ে শিক্ষার্থীর গায়ে হাত তুলে দারোয়ান।

 

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বলেন, আমি রাত ১১টা ২০ মিনিটে বাসায় আসি, তখন গেট লাগানো ছিল। এমনিতে রাত ১২টা পর্যন্ত বাসায় ঢোকা যায়। আমি অনেকক্ষণ ধরে ডাকছিলাম গেট খোলার জন্য কিন্তু দারোয়ান গেট খুলছিলেন না। একপর্যায়ে যখন আমার রুমমেটরা দরজা খুলতে তাকে বাধ্য করল তখন তিনি আমার ওপর চড়াও হন। আমাকে মারধর করেন আমার গায়ে হাত তোলেন। ঘাড়ে চড় মারেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

চবি এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি

সর্বশেষ আপডেট ০৪:২১:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুরে হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিন স্বাক্ষরিত আদেশ থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

হাটহাজারী উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট বাজারের পূর্ব সীমা থেকে পূর্ব দিকের রেলগেট পর্যন্ত রাস্তার উভয় পাশে আজ বেলা ২টা থেকে আগামীকাল সোমবার রাত ১২টা পর্যন্ত ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ১৪৪ ধারার এই আদেশ জারি করা হয়।

আদেশে বলা হয়, এই সময় উল্লেখিত এলাকায় সব ধরনের সভা, সমাবেশ, বিক্ষোভ মিছিল, গণজমায়েত, বিস্ফোরক দ্রব্য, আগ্নেয়াস্ত্র ও সব ধরনের দেশীয় অস্ত্র বহনসহ এসব এলাকায় পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির একত্রে অবস্থান বা চলাফেলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হলো।

এর আগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ফের স্থানীয় ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছেন প্রায় ২০ জনের মতো শিক্ষার্থী। এ সময় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন স্থানীয়দের ধাওয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েন।

রোববার (৩১ আগস্ট) সকালে শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা ফের মুখোমুখি অবস্থানে আসে। এ সময় তিনি (উপ-উপাচার্য) উপস্থিত হয়ে সমাধানের চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন শিক্ষার্থীদের ধাওয়া করলে তিনি আহত হন।

 

জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা করছে। রোববার সকাল থেকে প্রধান ফটক বন্ধ করে জিরো পয়েন্ট এলাকায় বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।

 

এ সময় হামলায় জড়িতদের বিচার দাবি করেন তারা। একপর্যায়ে ক্যাম্পাসের পাশে রাতের সংঘর্ষের স্থানে গেলে স্থানীয় লোকজনও লাঠিসোঁটা নিয়ে এগিয়ে আসেন। এতে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।

 

শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ২ নম্বর গেটের কাছে শাহাবুদ্দীন ভবন নামের একটি বাসায় বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শন বিভাগের প্রথম বর্ষের নারী শিক্ষার্থীকে দারোয়ান কর্তৃক মারধরের মাধ্যমে ঘটনার সূত্রপাত হয়। পরে সময়ে এ ঘটনার উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে ক্যাম্পাসজুড়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো থেকে দলে দলে শিক্ষার্থীরা বেরিয়ে আসে ২ নম্বর গেটের দিকে।

 

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী ওই মেয়ে শিক্ষার্থী রাত করে আসায় বাসার দরজা খুলতে অপারগতা জানান দারোয়ান। পরে ওই বাসার আরও কিছু মেয়ে শিক্ষার্থী এসে দরজা খোলার জন্য জোর করে। পরে গেট খোলার পর ওই দারোয়ান ও মেয়ে শিক্ষার্থীর মধ্যে হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে ওই মেয়ে শিক্ষার্থীর গায়ে হাত তুলে দারোয়ান।

 

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বলেন, আমি রাত ১১টা ২০ মিনিটে বাসায় আসি, তখন গেট লাগানো ছিল। এমনিতে রাত ১২টা পর্যন্ত বাসায় ঢোকা যায়। আমি অনেকক্ষণ ধরে ডাকছিলাম গেট খোলার জন্য কিন্তু দারোয়ান গেট খুলছিলেন না। একপর্যায়ে যখন আমার রুমমেটরা দরজা খুলতে তাকে বাধ্য করল তখন তিনি আমার ওপর চড়াও হন। আমাকে মারধর করেন আমার গায়ে হাত তোলেন। ঘাড়ে চড় মারেন।