ঢাকা ০৭:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রাম বন্দরে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি, অচলাবস্থা

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৫:৩২:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 2

অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ডাকে চট্টগ্রাম বন্দরে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। (ফাইল ফটো)

বিদেশী প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে চট্টগ্রাম বন্দরে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে যাচ্ছেন শ্রমিক ও কর্মচারীরা। এর ফলে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের কার্যক্রমে অচলাবস্থা আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

মঙ্গলবার বিকেলে চট্টগ্রাম বন্দর ভবনের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে কর্মসূচির ঘোষণা দেন চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবির ও ইব্রাহিম খোকন।

বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আর এর প্রতিবাদেই এই কর্মসূচী পালন করছেন শ্রমিকরা।

এর আগে শনিবার থেকে টানা তিন দিন প্রতিদিন আট ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করেন বন্দর শ্রমিকরা। পরে মঙ্গলবার সকাল আটটা থেকে ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি শুরু হয়। তবে সেই কর্মসূচি শেষ হওয়ার আগেই আন্দোলনকারীরা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা দেন। ফলে বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে মো. হুমায়ুন কবির বলেন, শবে বরাতের কথা বিবেচনায় নিয়ে কর্মসূচি শিথিল করার বিষয়ে তারা ভাবছিলেন। কিন্তু ঢাকায় বিডা কার্যালয়ে নেগোসিয়েশন কমিটির ওপর চাপ সৃষ্টি করে চুক্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

তিনি অভিযোগ করেন, শুরুতে কনটেইনার হ্যান্ডলিং চার্জ নিয়ে আলোচনা হলেও এখন রাজস্ব ভাগাভাগির বিষয় সামনে আনা হয়েছে। তার মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম বন্দর অচিরেই লোকসানি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে।

ইব্রাহিম খোকন বলেন, ঢাকায় তাদের প্রতিনিধিদের কার্যত আটকে রেখে জোরপূর্বক চুক্তি সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে। এ অবস্থায় আন্দোলন শিথিল করার সুযোগ নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

কর্মবিরতির চতুর্থ দিনে মঙ্গলবার সকাল থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের মূল জেটিতে জাহাজ আনা-নেওয়ার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এতে ছয়টি জাহাজ নির্ধারিত সময়েও জেটিতে ভেড়ানো সম্ভব হয়নি।

তবে বন্দর সূত্র জানিয়েছে, পতেঙ্গার আরএসজিটি টার্মিনাল এবং দুটি বিশেষায়িত জেটিতে সীমিত পরিসরে তিনটি জাহাজ পরিচালনা করা হয়েছে।

বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, জাহাজ চলাচলের জন্য পাইলট ও টাগবোট পরিচালনা করা হয় ডক অফিসের মাধ্যমে। মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে আন্দোলনকারীরা ডক অফিসে অবস্থান নিয়ে কর্মীদের বের করে দেন এবং বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে দেন। ফলে পাইলট পরিবহনের জন্য কোনো নৌযান ছাড়ানো সম্ভব হয়নি।

জোয়ারের সময় সকাল ১০টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত জেনারেল কার্গো বার্থ, চিটাগং কনটেইনার টার্মিনাল ও নিউমুরিং টার্মিনালে ছয়টি জাহাজ পরিচালনার কথা থাকলেও আন্দোলনের কারণে সব কার্যক্রম স্থগিত থাকে।

এ অবস্থায় দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র চট্টগ্রাম বন্দরে অচলাবস্থা আরও গভীর হচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

চট্টগ্রাম বন্দরে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি, অচলাবস্থা

সর্বশেষ আপডেট ০৫:৩২:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বিদেশী প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে চট্টগ্রাম বন্দরে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে যাচ্ছেন শ্রমিক ও কর্মচারীরা। এর ফলে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের কার্যক্রমে অচলাবস্থা আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

মঙ্গলবার বিকেলে চট্টগ্রাম বন্দর ভবনের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে কর্মসূচির ঘোষণা দেন চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবির ও ইব্রাহিম খোকন।

বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আর এর প্রতিবাদেই এই কর্মসূচী পালন করছেন শ্রমিকরা।

এর আগে শনিবার থেকে টানা তিন দিন প্রতিদিন আট ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করেন বন্দর শ্রমিকরা। পরে মঙ্গলবার সকাল আটটা থেকে ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি শুরু হয়। তবে সেই কর্মসূচি শেষ হওয়ার আগেই আন্দোলনকারীরা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা দেন। ফলে বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে মো. হুমায়ুন কবির বলেন, শবে বরাতের কথা বিবেচনায় নিয়ে কর্মসূচি শিথিল করার বিষয়ে তারা ভাবছিলেন। কিন্তু ঢাকায় বিডা কার্যালয়ে নেগোসিয়েশন কমিটির ওপর চাপ সৃষ্টি করে চুক্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

তিনি অভিযোগ করেন, শুরুতে কনটেইনার হ্যান্ডলিং চার্জ নিয়ে আলোচনা হলেও এখন রাজস্ব ভাগাভাগির বিষয় সামনে আনা হয়েছে। তার মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম বন্দর অচিরেই লোকসানি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে।

ইব্রাহিম খোকন বলেন, ঢাকায় তাদের প্রতিনিধিদের কার্যত আটকে রেখে জোরপূর্বক চুক্তি সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে। এ অবস্থায় আন্দোলন শিথিল করার সুযোগ নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

কর্মবিরতির চতুর্থ দিনে মঙ্গলবার সকাল থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের মূল জেটিতে জাহাজ আনা-নেওয়ার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এতে ছয়টি জাহাজ নির্ধারিত সময়েও জেটিতে ভেড়ানো সম্ভব হয়নি।

তবে বন্দর সূত্র জানিয়েছে, পতেঙ্গার আরএসজিটি টার্মিনাল এবং দুটি বিশেষায়িত জেটিতে সীমিত পরিসরে তিনটি জাহাজ পরিচালনা করা হয়েছে।

বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, জাহাজ চলাচলের জন্য পাইলট ও টাগবোট পরিচালনা করা হয় ডক অফিসের মাধ্যমে। মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে আন্দোলনকারীরা ডক অফিসে অবস্থান নিয়ে কর্মীদের বের করে দেন এবং বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে দেন। ফলে পাইলট পরিবহনের জন্য কোনো নৌযান ছাড়ানো সম্ভব হয়নি।

জোয়ারের সময় সকাল ১০টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত জেনারেল কার্গো বার্থ, চিটাগং কনটেইনার টার্মিনাল ও নিউমুরিং টার্মিনালে ছয়টি জাহাজ পরিচালনার কথা থাকলেও আন্দোলনের কারণে সব কার্যক্রম স্থগিত থাকে।

এ অবস্থায় দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র চট্টগ্রাম বন্দরে অচলাবস্থা আরও গভীর হচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।