ঢাকা ০৪:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামে সালিশ বৈঠকে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:৩৮:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ অগাস্ট ২০২৫
  • / 199

চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার চৌধুরী হাট এলাকার সন্দীপ কলোনিতে সালিশ বৈঠকে মারধরের ঘটনায় ফখরুল ইসলাম (৫৮) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। পারিবারিক বিরোধ মীমাংসার উদ্দেশ্যে আয়োজিত ওই বৈঠকে হাতাহাতির একপর্যায়ে তিনি গুরুতর আহত হন এবং পরে হাসপাতালে মৃত্যু হয়।

ঘটনার সূত্রপাত ফখরুল ইসলামের করা এক সাধারণ ডায়েরি (জিডি) থেকে, যেখানে তিনি অভিযোগ করেন, তার মেয়েকে রিফাত নামে এক যুবক অপহরণ করে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নিয়ে বিয়ে করেছে। পুলিশ তদন্ত করে মেয়েটিকে নোয়াখালী থেকে উদ্ধার করে। এরপর সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, সালিশে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। মেয়েটির পরিবার ও ছেলেপক্ষের লোকজনের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতি শুরু হয়। বিশৃঙ্খলার মধ্যে ফখরুল মাটিতে পড়ে যান এবং গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হন। স্থানীয়রা তাকে দ্রুত একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী জাহাঙ্গীর আলম জানান, সালিশে উপস্থিত সমাজপতিরা বলেছিলেন, মেয়েটি যদি স্বেচ্ছায় ছেলেটির সঙ্গে যেতে চায়, তবে তার পরিবার অনুমতি দেবে। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয় এবং পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। জাহাঙ্গীর বলেন, “আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছিলাম, কিন্তু হঠাৎই দেখি মেয়েটির বাবা মাটিতে পড়ে গেছেন।”

ফখরুলের প্রতিবেশী আল আমিন জানান, “ছেলেটির খালা এই এলাকায় থাকেন, আর তার পরিবার নোয়াখালীতে। মাঝেমধ্যে এখানে আসতো বলেই মেয়েটির সঙ্গে তার পরিচয়।”

স্থানীয়দের দাবি, সংঘর্ষের দিন ছেলেপক্ষের প্রায় ৫০-৬০ জন লোক উপস্থিত ছিল, যাদের মধ্যে অনেকে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য।

মেয়েটির স্কুলের পরিচালক কামরুজ্জামান বলেন, “আমি কাউকে মেয়েটিকে জোর করে নিয়ে যেতে দেখিনি।”

হাটহাজারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু কাউসার মো. হোসেন জানিয়েছেন, এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে এবং আসামিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

এই ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

চট্টগ্রামে সালিশ বৈঠকে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

সর্বশেষ আপডেট ০৮:৩৮:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ অগাস্ট ২০২৫

চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার চৌধুরী হাট এলাকার সন্দীপ কলোনিতে সালিশ বৈঠকে মারধরের ঘটনায় ফখরুল ইসলাম (৫৮) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। পারিবারিক বিরোধ মীমাংসার উদ্দেশ্যে আয়োজিত ওই বৈঠকে হাতাহাতির একপর্যায়ে তিনি গুরুতর আহত হন এবং পরে হাসপাতালে মৃত্যু হয়।

ঘটনার সূত্রপাত ফখরুল ইসলামের করা এক সাধারণ ডায়েরি (জিডি) থেকে, যেখানে তিনি অভিযোগ করেন, তার মেয়েকে রিফাত নামে এক যুবক অপহরণ করে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নিয়ে বিয়ে করেছে। পুলিশ তদন্ত করে মেয়েটিকে নোয়াখালী থেকে উদ্ধার করে। এরপর সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, সালিশে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। মেয়েটির পরিবার ও ছেলেপক্ষের লোকজনের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতি শুরু হয়। বিশৃঙ্খলার মধ্যে ফখরুল মাটিতে পড়ে যান এবং গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হন। স্থানীয়রা তাকে দ্রুত একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী জাহাঙ্গীর আলম জানান, সালিশে উপস্থিত সমাজপতিরা বলেছিলেন, মেয়েটি যদি স্বেচ্ছায় ছেলেটির সঙ্গে যেতে চায়, তবে তার পরিবার অনুমতি দেবে। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয় এবং পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। জাহাঙ্গীর বলেন, “আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছিলাম, কিন্তু হঠাৎই দেখি মেয়েটির বাবা মাটিতে পড়ে গেছেন।”

ফখরুলের প্রতিবেশী আল আমিন জানান, “ছেলেটির খালা এই এলাকায় থাকেন, আর তার পরিবার নোয়াখালীতে। মাঝেমধ্যে এখানে আসতো বলেই মেয়েটির সঙ্গে তার পরিচয়।”

স্থানীয়দের দাবি, সংঘর্ষের দিন ছেলেপক্ষের প্রায় ৫০-৬০ জন লোক উপস্থিত ছিল, যাদের মধ্যে অনেকে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য।

মেয়েটির স্কুলের পরিচালক কামরুজ্জামান বলেন, “আমি কাউকে মেয়েটিকে জোর করে নিয়ে যেতে দেখিনি।”

হাটহাজারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু কাউসার মো. হোসেন জানিয়েছেন, এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে এবং আসামিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

এই ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।