চট্টগ্রামে আইনজীবী আলিফ হত্যা
চিন্ময় দাসসহ ৩৯ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন
- সর্বশেষ আপডেট ০৬:২৩:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬
- / 41
চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলায় সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ ৩৯ জনের বিরুদ্ধে আদালত চার্জ গঠন করেছেন।
দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. জাহিদুল হক সোমবার (২০ জানুয়ারি) মামলার এজাহার, চার্জশিট, সিসিটিভি ফুটেজ ও স্বীকারোক্তি পর্যালোচনা করে এই আদেশ দেন। মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ আগামী ২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে।
মামলার ৩৯ জন আসামির মধ্যে ২৩ জন বর্তমানে কারাগারে থাকায় তাদেরই আদালতে হাজির করা হয়। বাকিরা পলাতক। আদালত চিন্ময় দাসের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/১০৯ ধারায় এবং অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে ১৪৭/৪৪৮/৪৪৯/৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ গঠন করেন।
এসময় চিন্ময় দাস নিজেই প্রায় ২৫ মিনিট বক্তব্য উপস্থাপন করেন। পলাতক আসামিদের পক্ষে অ্যাডভোকেট দুলাল চন্দ্রনাথ, আর চিন্ময় দাসের পক্ষে অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য আদালতে বক্তব্য দেন।
বিচার শেষে আদালত প্রাঙ্গণে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে; উপস্থিত আইনজীবীরা ‘খুনী খুনী’ স্লোগান দিতে থাকেন। পুলিশি পাহারায় আসামিদের আদালত থেকে সরানো হয়।
বাদীপক্ষের আইনজীবী সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী বলেন, “এটি একটি সংবেদনশীল ও চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলা, যা জনগণ, আইনজীবী সমাজ এবং রাষ্ট্রের নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। রাষ্ট্রপক্ষ প্রমাণের আলোকে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হবে বলে দৃঢ় বিশ্বাস রাখে।”
নিহত আলিফের বাবা সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা সরকারের কাছে ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা করি। এই নৃশংস হত্যার বিচার চাই।”
মামলার শুনানিকে কেন্দ্র করে আদালত এলাকায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ১ হাজার পুলিশ সদস্য, সেনাবাহিনী, বিজিবি ও র্যাব মোতায়েন করা হয়। আদালত চত্বরে প্রবেশের জন্য পরিচয়পত্র যাচাই বাধ্যতামূলক করা হয়, এবং সাধারণ যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর চিন্ময় দাসের জামিন না মঞ্জুর হওয়ার পর চট্টগ্রাম আদালত এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ও বিজিবি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জ ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। এ ঘটনায় আইনজীবী আলিফকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।



































