চট্টগ্রামের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাস্থলে নাগরিক প্রতিনিধিদল
- সর্বশেষ আপডেট ০৬:৩৩:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 17
চট্টগ্রামের রাউজানের সুলতানপুর পৌরসভা এলাকায় ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বাড়িঘরে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এক নাগরিক প্রতিনিধি দল।
আজ রবিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ এর অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস এর নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে ছিলেন নাগরিক উদ্যোগ এর প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন, কবি ও সাংবাদিক হাফিজ রশিদ খান, মানবাধিকার কর্মী দীপায়ন খীসা, বাংলাদেশ আদিবাসী যুব ফোরাম এর আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক সতেজ চাকমা, ব্লাস্ট, চট্টগ্রাম ইউনিট এর স্টাফ আইনজীবী তাসনিয়া আল সুলতানা, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুসন্ধান কর্মকর্তা তাওহীদ আহমেদ রানা, পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ এর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ সম্পাদক প্রিয় জ্যোতি চাকমা রিবেক।
উক্ত নাগরিক প্রতিনিধি দলের ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় রাউজান পৌরসভা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সদীপ দে (সজীব) এবং একই সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক দীপ্ত চৌধুরী। রাউজান পৌরসভা পূজা উদযাপন পক্ষ থেকে আরো উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি তপন চৌধুরী ( মনু), উপদেষ্টা অরুন বিশ্বাস সাংগঠনিক সম্পাদক ত্রিফল চৌধুরী, উল্লাস ধর, শংকর দে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় অগ্নিসংযোগে ক্ষতিগ্রস্থ আরতি শীল এর পোড়াভিটায় সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেন পরিদর্শনরত নাগরিক প্রতিনিধি দল। এসময় অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, আমরা দেখছি নির্বাচনের আগে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর এ ধরণের হামলা করার মধ্য দিয়ে একটা আতংক তৈরীর চেষ্টা করা হয়েছে। যাদের বাড়িঘরে আগুন দেয়া হয়েছে তারা অনেকেই এখন মনোক্ষতের মধ্যে আছে। কিন্তু আমরা প্রায় সময় দেখি নির্বাচন আসলে প্রার্থীদের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে কথা বলি। কিন্তু ভোটারদের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে কথা বলি না। এদেশের সব ভোটর কী নির্ভয়ে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে? যেমন এখানে যারা আক্রান্ত হয়েছেন তারা কী নিরাপদে ভোট দিতে পারবে, তার নিশ্চয়তা তো নেই।
রোবায়োত ফেরদৌস আরো বলেন, আসন্ন নির্বাচনে সব নাগরিক যেন ভোটাধিকার প্রদান করতে পারে তা সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে। অন্যদিকে এখানে যেসব জায়গায় বাড়ি ঘর পোড়ানো হয়েছে তাদের ক্ষতিপূরণের একটা এসেসমেন্ট করতে হবে এবং ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার জন্য সরকারকে আহ্বান জানাই। একই সাথে এই সংখ্যালঘুরা যেন নিরাপদে থাকতে পারে তার জন্য আতংক দূর করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
নাগরিক উদ্যোগ এর প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন বলেন, আজকে ১ ফেব্রুয়ারি এবং আসন্ন নির্বাচন ১২ ফেব্রুয়ারী। কাজেই আগামী এগারটা দিন খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমরা আশা করছি নির্বাচনের পর নতুন সরকার দায়িত্ব নিলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে। তবে নির্বাচন প্রাক্কাল মূহুর্তে এসব সংখ্যালঘু জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরী। তাছাড়া এখানে দেখলাম সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো ধরণের উদ্যোগ নেয়া হয়নি। আমি প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ করবো তারা যেন ক্ষতিগ্রস্তদের একটা তালিকা তৈরী করে অতি দ্রুত ক্ষতির পরিমাণ নিরূপন করে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করেন। আর এ ধরণের খুচরা সহায়তা দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব না। আমরা আশা করবো এ ঘটনায় যে মামলা হয়েছে সেগুলোর মাধ্যমে যেন সত্যিকার আসামীরা আইনের আওতায় আসে।
এসময় ব্লাস্ট এর চট্টগ্রাম ইউনিটের আইনজীবী তাসনিয়া আল সুলতানা বলেন, আমরা এসে দেখলাম এখানকার মানুষ এখন আতংকিত। তারা যদি ঘুমিয়ে পড়ে তবে মনে আতংক নিয়েই ঘুমায়, কখন আগুন দেয়। আর যে মামলা হয়েছে তার একটা হচ্ছে GR261/25। এ মামলাটির পুলিশ রিপোর্ট প্রদানের সময় ছিল ২৫ জানুয়ারি ২০২৬। কিন্তু তখনো রিপোর্ট দিলো না। এখন রিপোর্ট প্রদানের নতুন তারিখ ঠিক করা হয়েছে আগামী এপ্রিল মাসের ৭ তারিখ। আমার অভিজ্ঞতা বলছে এভাবে যদি একের পর এক পুলিশ রিপোর্ট দেয়া পেছাইতে থাকে তবে বিচার পাওয়া দুরুহ ব্যাপার হবে। আমরা আশা করবো অন্তত এ মামলাগুলোর মাধ্যমে একটা আইনি সুরক্ষা পাবে ভুক্তভোগীরা।
পরিদর্শনের সময় ভুক্তভোগী মিঠুন শীল পরিদর্শক দলকে বলেন, ঘটনার দিন আমাদেরকে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে আগুন দেয়া হয়েছে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল আগুন দিয়ে আমাদেরকে মেরে ফেলার। আমরা যারা বাড়িতে ছিলাম তাদের মধ্যে বুড়ো বাবা মা, ছোট বাচ্চাসহ নয় জনে কোনো মতে দা’ দিয়ে বে০া কেটে বের হয়েছি। অগ্নিসংযোগের কারণে আমার পাসপোর্ট এবং কাতার যাওয়ার ওয়ার্ক পারমিট এবং ফ্লাইট টিকেট সব পুড়ে গেছে। আমরা এখন সর্বস্ব হারিয়ে অসহায়। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো সহায়তা দেয়া হয়নি। ইউএনও স্যার যদিও বলেছেন আমাদেরকে সহায়তা করা হবে।
ভুক্তভোগীরা পরিদর্শক দলকে আরো বলেন, বহুকাল ধরে এ অঞ্চলে হিন্দু মুসলিমরা ভালোভাবে ছিলাম। মূলত তফসিল ঘোষণার পর থেকে রাউজানের সুলতানপুর এলাকায় বিভিন্ন স্থানে রাতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এতে অন্তত ৯ টি বাড়িতে তালা লাগিয়ে অগ্নিসংযোগ করা হয়। অগ্নিসংযোগের পরের প্রত্যক ঘটনায় এক একটি ব্যানারও টানানো হয়। উক্ত ব্যানারে স্থানীয় এনসিপি ও জামায়াতের নেতাদের নামও লেখা থাকে। তবে নমিনেশন ফাইনাল হওয়ার পর থেকে এ ধরণের ঘটনা কমে গেছে। এখনও আমরা স্থানীয়রা রাতে গ্রাম পাহাড়া দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিতের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।






























