আদালতে জালাল আহমদ
ঘটনা সাজানো, রুমমেট অবৈধভাবে হলে ছিলেন
- সর্বশেষ আপডেট ০৭:৩৭:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৫
- / 77
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে স্বতন্ত্র ভিপি (সহ-সভাপতি) প্রার্থী জালাল আহমদ বা ‘জ্বালাময়ী জালাল’ রুমমেটকে আঘাত করার ঘটনায় আদালতে হাজির হন। তিনি আদালতে দাবি করেন, ঘটনা সাজানো এবং তার রুমমেট অবৈধভাবে হলে অবস্থান করছিল।
বুধবার (২৭ আগস্ট) শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক মো. আসাদুল ইসলাম জালালকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মিনহাজুর রহমানের আদালতে হাজির করেন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে রাখার আবেদন করা হয়।
জালালের পক্ষে অ্যাডভোকেট জায়েদুর রহমান বলেন, রুমমেট অবৈধভাবে হলে অবস্থান করছিল এবং তার সঙ্গে কথাকাটাকাটি হয়। রুমমেট তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে। তিনি বলেন, রিমান্ডের প্রয়োজন নেই এবং ভিকটিমের মেডিকেল সার্টিফিকেটও নেই। রাষ্ট্রপক্ষের কাইয়ুম হোসেন নয়ন জামিনের বিরোধিতা করেন।
আদালতে জালাল জানান, তার রুমমেট হল ত্যাগ করার কথা থাকলেও যাননি। তিনি হাইকোর্টে রিটের মাধ্যমে অছাত্রদের হল ত্যাগ করানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। বিষয়টি জানতে পেরে রুমমেট তাকে আঘাত করে এবং পরে তাকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগে মামলা করে। জালাল বিচারককে হাত দেখিয়ে বলেন, “আমাকে মারতে গেলে ধরে ফেলি, হাতে আঘাত পাই। বলা হচ্ছে, আমি তাকে আঘাত করেছি; টেস্ট দিন।”
আদালত তার স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জামিন আবেদনের শুনানি শেষে নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। শাহবাগ থানার প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই জিন্নাত আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
অভিযোগপত্র অনুযায়ী, জালাল আহমদ ২০১৩-১৪ সেশনের শিক্ষার্থী। তিনি ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী মো. রবিউল হককে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করেছেন। ঘটনার রাতে জালাল রুমে প্রবেশ করে বৈদ্যুতিক লাইট জ্বালিয়ে চেয়ার টানাহেঁচড়া শুরু করেন। তর্কবিতর্কের একপর্যায়ে কাঠের চেয়ার ও টিউব লাইট দিয়ে রবিউলের মাথা ও বুকে আঘাত করেন। গুরুতর জখম হওয়া রবিউলকে অন্যান্য রুমের শিক্ষার্থীরা উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জালাল ঘটনার কিছু অংশ স্বীকার করেছেন। তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানান, মামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং আসামির পলাতক হওয়ার সম্ভাবনা এড়াতে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে রাখা জরুরি।
































