ঢাকা ১০:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ভিজিএফ বিতরণে অনিয়মের সংবাদের জের

গৌরনদীতে সাংবাদিকদের হুমকি দিলেন বিএনপি নেতা

নিজস্ব প্রতিবেদক, গৌরনদী (বরিশাল)
  • সর্বশেষ আপডেট ০৬:৪৭:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ জুন ২০২৫
  • / 383

গৌরনদীতে সাংবাদিকদের হুমকি দিলেন বিএনপি নেতা

ঈদুল আজহা উপলক্ষে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়া ইউনিয়নে ভিজিএফ চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ইউনিয়ন আহ্বায়ক সজল সরকার। বুধবার (৪ জুন) গৌরনদী প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাংবাদিকদের ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ আখ্যা দিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষমা না চাইলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দেন।

এর আগে ভিজিএফ চাল বিতরণে সজল সরকারের স্বাক্ষরিত অনিয়মিত স্লিপ ব্যবহারের তথ্য উঠে আসে গণমাধ্যমে। যদিও সংবাদ সম্মেলনে সজল দাবি করেন, “আমি কোনো জালিয়াতি করিনি, মাত্র ১২ জন গরিব নারীর জন্য সুপারিশ করেছিলাম।” অথচ ৩ জুন তিনি নিজেই ওই বিতরণ তালিকায় নিজের সংশ্লিষ্টতা স্বীকার করেছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের উদ্দেশে সজল আরও বলেন, “যারা আমার বিরুদ্ধে রিপোর্ট করেছেন, তারা হলুদ সাংবাদিকতা করছেন, বিএনপিকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছেন এবং পরাজিত শক্তির সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন।” একই সঙ্গে তিনি সাংবাদিকদের লিখিত ব্যাখ্যা ও ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান—তা না হলে আইনের আশ্রয়ে যাওয়ার কথা বলেন।

এই বক্তব্যে প্রেসক্লাবে উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। গৌরনদী প্রেসক্লাবের একাধিক সদস্য বলেন, “গণমাধ্যমের স্বাধীনতা দায়িত্বের সঙ্গেই চর্চা করা হয়। সংবাদ সম্মেলনের নামে সাংবাদিকদের হুমকি দেওয়া অনভিপ্রেত ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বিরোধী।”

তারা আরও জানান, “ভিজিএফের মতো স্পর্শকাতর ইস্যুতে ব্যাখ্যা দেওয়ার সুযোগ সবার আছে, তবে সাংবাদিকদের অপমান করে সেটি করা সাংবাদিকতা ও গণতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ।”

এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং সাংবাদিক সমাজ বিষয়টিকে ন্যায্য ও পেশাগত মর্যাদার প্রশ্ন হিসেবে দেখছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ভিজিএফ বিতরণে অনিয়মের সংবাদের জের

গৌরনদীতে সাংবাদিকদের হুমকি দিলেন বিএনপি নেতা

সর্বশেষ আপডেট ০৬:৪৭:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ জুন ২০২৫

ঈদুল আজহা উপলক্ষে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়া ইউনিয়নে ভিজিএফ চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ইউনিয়ন আহ্বায়ক সজল সরকার। বুধবার (৪ জুন) গৌরনদী প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাংবাদিকদের ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ আখ্যা দিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষমা না চাইলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দেন।

এর আগে ভিজিএফ চাল বিতরণে সজল সরকারের স্বাক্ষরিত অনিয়মিত স্লিপ ব্যবহারের তথ্য উঠে আসে গণমাধ্যমে। যদিও সংবাদ সম্মেলনে সজল দাবি করেন, “আমি কোনো জালিয়াতি করিনি, মাত্র ১২ জন গরিব নারীর জন্য সুপারিশ করেছিলাম।” অথচ ৩ জুন তিনি নিজেই ওই বিতরণ তালিকায় নিজের সংশ্লিষ্টতা স্বীকার করেছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের উদ্দেশে সজল আরও বলেন, “যারা আমার বিরুদ্ধে রিপোর্ট করেছেন, তারা হলুদ সাংবাদিকতা করছেন, বিএনপিকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছেন এবং পরাজিত শক্তির সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন।” একই সঙ্গে তিনি সাংবাদিকদের লিখিত ব্যাখ্যা ও ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান—তা না হলে আইনের আশ্রয়ে যাওয়ার কথা বলেন।

এই বক্তব্যে প্রেসক্লাবে উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। গৌরনদী প্রেসক্লাবের একাধিক সদস্য বলেন, “গণমাধ্যমের স্বাধীনতা দায়িত্বের সঙ্গেই চর্চা করা হয়। সংবাদ সম্মেলনের নামে সাংবাদিকদের হুমকি দেওয়া অনভিপ্রেত ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বিরোধী।”

তারা আরও জানান, “ভিজিএফের মতো স্পর্শকাতর ইস্যুতে ব্যাখ্যা দেওয়ার সুযোগ সবার আছে, তবে সাংবাদিকদের অপমান করে সেটি করা সাংবাদিকতা ও গণতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ।”

এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং সাংবাদিক সমাজ বিষয়টিকে ন্যায্য ও পেশাগত মর্যাদার প্রশ্ন হিসেবে দেখছে।