সাতজনের রিমান্ড মঞ্জুর
গুলশানের অভিজাত বারে বাউন্সারের মারধরে ব্যবসায়ীর মৃত্যু
- সর্বশেষ আপডেট ১০:৫২:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৫
- / 137
রাজধানীর গুলশানের একটি অভিজাত বারে মারধরের ঘটনায় ব্যবসায়ী দবিরুল ইসলাম (৫১) নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার সাতজনকে তিন দিন করে রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জিয়াদুর রহমানের আদালত এই রিমান্ডের আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গুলশান থানার সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা উপপরিদর্শক মোক্তার হোসেন।
তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে এ ঘটনায় হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করা হয়েছিল। পরে দবিরুলের মৃত্যু হলে সেটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।
এর আগে ঢাকা ও কুমিল্লায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ অভিযুক্ত সাতজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করে। পুলিশ তাদের সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করলে আদালত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রত্যেকের তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—শামীম আহমেদ, রাজু আহমেদ, তোফাজ্জেল হোসেন, মো. রাকিব, মো. কাউসার, রুবেল মাহমুদ এবং প্লাবন মিয়া। এদের মধ্যে শামীম আহমেদ ব্লিস আর্ট লাউঞ্জ লিমিটেড বারের ব্যবস্থাপক এবং তোফাজ্জেল হোসেন একজন গ্রাহক। বাকি পাঁচজন বারের বাউন্সার ও কর্মচারী।
ঘটনাটি ঘটে ১৪ অক্টোবর রাতে গুলশান-১ নম্বরের ব্লিস আর্ট লাউঞ্জ লিমিটেড বার ও রেস্টুরেন্টের সামনে। নিহত দবিরুলের স্ত্রী নাসরিন আক্তার পরদিন গুলশান থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, জমি কেনাবেচার ব্যবসায়ী দবিরুল ইসলাম সেদিন রাতে কাজ শেষে গুলশান-১ নম্বরের প্লট ৫১–এ অবস্থিত ওই বারে যান। রাত তিনটার দিকে পরিবারের সদস্যরা তার ফোন বন্ধ পান। পরদিন ভোরে খোঁজাখুঁজির পর জানতে পারেন, তিনি গুলশান-১ এর একটি ভবনের পেছনের রাস্তায় আহত অবস্থায় পড়ে আছেন। সেখান থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, বারের ব্যবস্থাপক শামীমের সঙ্গে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডায় জড়ান দবিরুল। একপর্যায়ে তিনি শামীমকে থাপ্পড় মারেন। এরপর শামীম ও সঙ্গে থাকা কয়েকজন কর্মচারী মিলে দবিরুলকে মারধর করেন। দবিরুল মাটিতে পড়ে গেলে একজন তার মাথায় লাথি মারেন। পরে কয়েকজন মিলে তাকে পাশের রাস্তায় ফেলে রেখে যায়।
মামলাটি বর্তমানে গুলশান থানার তদন্তকারীরা দেখছেন, এবং পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে সিসি ক্যামেরার অতিরিক্ত ফুটেজ বিশ্লেষণ চলছে।
































