ঢাকা ০৬:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গুরু দন্ডে লঘু শাস্তি দিয়ে ছেড়ে দেয়া হলো ফ্লাইট পার্সার রুদাবাকে

শরিয়ত খান, বিশেষ প্রতিনিধি
  • সর্বশেষ আপডেট ১১:৫৮:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৫
  • / 175

রুদাবা সুলতানা

গুরু দন্ডে লঘু শাস্তি দিয়ে ছেড়ে দেয়া হলো বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট পার্সার রুদাবা সুলতানাকে। সোনা চোরাচালানের প্রমাণ পেয়েও শুধুমাত্র পদাবনতি দিয়ে তাকে কর্মক্ষেত্রে ফিরিয়ে নিয়েছে বিমান।

জানা যায়, ৪ আগস্ট বিকেলে রিয়াদ থেকে আসা বিজি-৩৪০ ফ্লাইটটি ঢাকায় অবতরণ করার পর রুদাবা সুলতানার দেহ তল্লাশি করে ২৩০ গ্রাম সোনা ও নতুন আইফোন জব্দ করে কাস্টমস গোয়েন্দা। পরে তাকে আটক করা হয়।

পরে ১২ আগস্টে স্বর্ণ পাচারের সময় ধরা পড়ার অভিযোগে সিনিয়র কেবিন ক্রু রুদাবা সুলতানাকে সাময়িক বরখাস্ত করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।

দীর্ঘ দুই মাস তদন্ত করার পর প্রতিবেদন দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা। যেখানে তার অপরাধ প্রমাণিত হয়। তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় দোষী সাব্যস্ত করে বাংলাদেশ বিমান কর্পোরেশন কর্মচারী (চাকরি) প্রবিধানমালা, ১৯৭৯ এর ৫৬(১) এর (ডি) এর ক্ষমতাবলে রুদাবা সুলতানাকে “পদাবনতি” দন্ড আরোপ করা হয় এবং তার সাময়িক বরখাস্ত আদেশ প্রত্যাহার করা হয়।

এভিয়েশন সংশ্লিষ্টরা জানান, অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার পরও তাকে শুধুমাত্র পদাবনতি দেয়ায় অপরাধীরা আরো উৎসাহিত হবেন।

অভিযোগ রয়েছে, রুদাবা সুলতানা রুদাবা কেবিন ক্রু ইউনিয়নের সভাপতি আবিরের বোন।

রুদাবা সুলতানার বিষয়ে তার ভাই প্রভাব খাটিয়েছেন।

১৪ আগস্ট দেয়া প্রতিবেদনে বলা হয়, রুদাবা সুলতানা, পি-৩৫৪৭৯, ফ্লাইট পার্সার-এর বিরুদ্ধে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লি: কর্তৃক গৃহীত ও অনুসৃত বাংলাদেশ বিমান কর্পোরেশন কর্মচারী (চাকরি) প্রবিধানমালা, ১৯৭৯ এর ৫৫ (১) (বি)-এর অধীন ৫৫(২) এর (বি), (সি) এবং (জেডডি) বিধি অনুযায়ী বিভাগীয় মামলা নম্বর-৩৮০৬/১৭-০৮-২০২৫খ্রি: রুজু করা হয়।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ন্যায় বিচারের স্বার্থে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হলে তদন্তকারী কর্মকর্তা অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ বিমান কর্পোরেশন কর্মচারী (চাকরি) প্রবিধানমালা, ১৯৭৯ এর ৫৫ (১) (বি)-এর অধীন ৫৫(২) এর (বি), (সি) এবং (জেডডি) বিধি তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে মর্মে প্রতিবেদন দাখিল করেন। ৫৫(২) এর (বি), (সি) এবং (জেডডি) বিধি তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় দোষী সাব্যস্ত পূর্বক বাংলাদেশ বিমান কর্পোরেশন কর্মচারী (চাকরি) প্রবিধানমালা, ১৯৭৯ এর ৫৬(১) এর (d) এর ক্ষমতাবলে মিজ রুদাবা সুলতানা, পি-৩৫৪৭৯, ফ্লাইট পার্সার-কে “পদাবনতি” দন্ড আরোপ করা হলো। রুদাবা সুলতানা, পি-৩৫৪৭৯, ফ্লাইট পার্সার-এর সাময়িক বরখাস্ত আদেশ (স্মারক নম্বর ৩০.৩৪.০০০০.০০০.০৬৯.১০.০০১১.২৫.১৯০ তারিখ ১২/০৮/২০২৫খ্রি:) এতদ্বারা প্রত্যাহার করা হলো।

উল্লেখ্য, ৪ আগস্ট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্বর্ণ পাচারের সময় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সিনিয়র কেবিন ক্রু রুদাবা সুলতানাকে আটক করে কাস্টমস গোয়েন্দা। সেদিন বিমানটি অবতরনের পর কাস্টমসের একটি দল তাকে সন্দেহজনক আচরণের জন্য চ্যালেঞ্জ করে। রুদাবার আচরণ প্রথমে ছিল উত্তেজনাপূর্ণ। কাস্টমস কর্মকর্তারা যখন তাকে স্ক্যানার কক্ষে নিয়ে যেতে চান, তখন তিনি গড়িমসি করতে থাকেন। একপর্যায়ে নিজের অন্তর্বাসে লুকিয়ে রাখা বিশেষভাবে তৈরি স্বর্ণের বার ফেলে দিয়ে তা পা দিয়ে লুকানোর চেষ্টা করেন। কাস্টমস কর্মকর্তাদের চোখ এড়িয়ে যেতে পারেননি তিনি।

পরবর্তীতে স্ক্যানিং মেশিন দিয়ে তার দেহ তল্লাশি চালিয়ে একটি নতুন আইফোনও জব্দ করা হয়। উদ্ধার হওয়া সোনার ওজন ছিল ২৩০ গ্রাম। বিনা ঘোষণায় একজন কেবিন ক্রুর এসব মূল্যবান সামগ্রী বহন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

বিমানবন্দর কাস্টমসের সহকারী কমিশনার এসএম শরাফাত হোসেন জানিয়েছিলেন, রুদাবাকে চ্যালেঞ্জ করলে তিনি প্রথমে সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে শেষ পর্যন্ত তার শরীরে লুকিয়ে রাখা সোনা ও আইফোন ধরা পড়ে। তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সূত্র জানায়, রুদাবা কেবিন ক্রু ইউনিয়নের সভাপতি আবিরের বোন। তিনি অতীতে ভিআইপি ফ্লাইটে দায়িত্ব পালন করে সাবেক সরকারপ্রধান ও মন্ত্রীদের সঙ্গে ছবি তুলে প্রভাব খাটিয়ে নানা অনৈতিক সুবিধা নিয়ে এসেছেন। সেই প্রভাব দেখিয়েও কাস্টমসের জিজ্ঞাসাবাদ এড়াতে পারেননি তিনি।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

গুরু দন্ডে লঘু শাস্তি দিয়ে ছেড়ে দেয়া হলো ফ্লাইট পার্সার রুদাবাকে

সর্বশেষ আপডেট ১১:৫৮:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৫

গুরু দন্ডে লঘু শাস্তি দিয়ে ছেড়ে দেয়া হলো বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট পার্সার রুদাবা সুলতানাকে। সোনা চোরাচালানের প্রমাণ পেয়েও শুধুমাত্র পদাবনতি দিয়ে তাকে কর্মক্ষেত্রে ফিরিয়ে নিয়েছে বিমান।

জানা যায়, ৪ আগস্ট বিকেলে রিয়াদ থেকে আসা বিজি-৩৪০ ফ্লাইটটি ঢাকায় অবতরণ করার পর রুদাবা সুলতানার দেহ তল্লাশি করে ২৩০ গ্রাম সোনা ও নতুন আইফোন জব্দ করে কাস্টমস গোয়েন্দা। পরে তাকে আটক করা হয়।

পরে ১২ আগস্টে স্বর্ণ পাচারের সময় ধরা পড়ার অভিযোগে সিনিয়র কেবিন ক্রু রুদাবা সুলতানাকে সাময়িক বরখাস্ত করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।

দীর্ঘ দুই মাস তদন্ত করার পর প্রতিবেদন দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা। যেখানে তার অপরাধ প্রমাণিত হয়। তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় দোষী সাব্যস্ত করে বাংলাদেশ বিমান কর্পোরেশন কর্মচারী (চাকরি) প্রবিধানমালা, ১৯৭৯ এর ৫৬(১) এর (ডি) এর ক্ষমতাবলে রুদাবা সুলতানাকে “পদাবনতি” দন্ড আরোপ করা হয় এবং তার সাময়িক বরখাস্ত আদেশ প্রত্যাহার করা হয়।

এভিয়েশন সংশ্লিষ্টরা জানান, অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার পরও তাকে শুধুমাত্র পদাবনতি দেয়ায় অপরাধীরা আরো উৎসাহিত হবেন।

অভিযোগ রয়েছে, রুদাবা সুলতানা রুদাবা কেবিন ক্রু ইউনিয়নের সভাপতি আবিরের বোন।

রুদাবা সুলতানার বিষয়ে তার ভাই প্রভাব খাটিয়েছেন।

১৪ আগস্ট দেয়া প্রতিবেদনে বলা হয়, রুদাবা সুলতানা, পি-৩৫৪৭৯, ফ্লাইট পার্সার-এর বিরুদ্ধে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লি: কর্তৃক গৃহীত ও অনুসৃত বাংলাদেশ বিমান কর্পোরেশন কর্মচারী (চাকরি) প্রবিধানমালা, ১৯৭৯ এর ৫৫ (১) (বি)-এর অধীন ৫৫(২) এর (বি), (সি) এবং (জেডডি) বিধি অনুযায়ী বিভাগীয় মামলা নম্বর-৩৮০৬/১৭-০৮-২০২৫খ্রি: রুজু করা হয়।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ন্যায় বিচারের স্বার্থে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হলে তদন্তকারী কর্মকর্তা অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ বিমান কর্পোরেশন কর্মচারী (চাকরি) প্রবিধানমালা, ১৯৭৯ এর ৫৫ (১) (বি)-এর অধীন ৫৫(২) এর (বি), (সি) এবং (জেডডি) বিধি তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে মর্মে প্রতিবেদন দাখিল করেন। ৫৫(২) এর (বি), (সি) এবং (জেডডি) বিধি তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় দোষী সাব্যস্ত পূর্বক বাংলাদেশ বিমান কর্পোরেশন কর্মচারী (চাকরি) প্রবিধানমালা, ১৯৭৯ এর ৫৬(১) এর (d) এর ক্ষমতাবলে মিজ রুদাবা সুলতানা, পি-৩৫৪৭৯, ফ্লাইট পার্সার-কে “পদাবনতি” দন্ড আরোপ করা হলো। রুদাবা সুলতানা, পি-৩৫৪৭৯, ফ্লাইট পার্সার-এর সাময়িক বরখাস্ত আদেশ (স্মারক নম্বর ৩০.৩৪.০০০০.০০০.০৬৯.১০.০০১১.২৫.১৯০ তারিখ ১২/০৮/২০২৫খ্রি:) এতদ্বারা প্রত্যাহার করা হলো।

উল্লেখ্য, ৪ আগস্ট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্বর্ণ পাচারের সময় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সিনিয়র কেবিন ক্রু রুদাবা সুলতানাকে আটক করে কাস্টমস গোয়েন্দা। সেদিন বিমানটি অবতরনের পর কাস্টমসের একটি দল তাকে সন্দেহজনক আচরণের জন্য চ্যালেঞ্জ করে। রুদাবার আচরণ প্রথমে ছিল উত্তেজনাপূর্ণ। কাস্টমস কর্মকর্তারা যখন তাকে স্ক্যানার কক্ষে নিয়ে যেতে চান, তখন তিনি গড়িমসি করতে থাকেন। একপর্যায়ে নিজের অন্তর্বাসে লুকিয়ে রাখা বিশেষভাবে তৈরি স্বর্ণের বার ফেলে দিয়ে তা পা দিয়ে লুকানোর চেষ্টা করেন। কাস্টমস কর্মকর্তাদের চোখ এড়িয়ে যেতে পারেননি তিনি।

পরবর্তীতে স্ক্যানিং মেশিন দিয়ে তার দেহ তল্লাশি চালিয়ে একটি নতুন আইফোনও জব্দ করা হয়। উদ্ধার হওয়া সোনার ওজন ছিল ২৩০ গ্রাম। বিনা ঘোষণায় একজন কেবিন ক্রুর এসব মূল্যবান সামগ্রী বহন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

বিমানবন্দর কাস্টমসের সহকারী কমিশনার এসএম শরাফাত হোসেন জানিয়েছিলেন, রুদাবাকে চ্যালেঞ্জ করলে তিনি প্রথমে সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে শেষ পর্যন্ত তার শরীরে লুকিয়ে রাখা সোনা ও আইফোন ধরা পড়ে। তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সূত্র জানায়, রুদাবা কেবিন ক্রু ইউনিয়নের সভাপতি আবিরের বোন। তিনি অতীতে ভিআইপি ফ্লাইটে দায়িত্ব পালন করে সাবেক সরকারপ্রধান ও মন্ত্রীদের সঙ্গে ছবি তুলে প্রভাব খাটিয়ে নানা অনৈতিক সুবিধা নিয়ে এসেছেন। সেই প্রভাব দেখিয়েও কাস্টমসের জিজ্ঞাসাবাদ এড়াতে পারেননি তিনি।