ঢাকা ১১:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গুমের ২৫৩ অভিযোগের সত্যতা মিলেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০১:৪২:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ জুন ২০২৫
  • / 129

অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী

বাংলাদেশে গুমের ঘটনায় ২৫৩টি অভিযোগের সত্যতা মিলেছে বলে জানিয়েছেন গুম কমিশনের সভাপতি ও অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী। বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) সকালে গুলশানে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, “কমিশনে জমা পড়া ১ হাজার ৮৫০টি অভিযোগের মধ্যে তদন্ত শেষে ২৫৩টি গুমের ঘটনা প্রমাণিত হয়েছে। এগুলো বিচ্ছিন্ন বা ভুলবশত কোনো ঘটনা নয়। বরং এগুলো একটি সুসংগঠিত ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দমন নীতির অংশ ছিল, যার মাধ্যমে বিরোধী কণ্ঠগুলোকে স্তব্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছে।”

বিচারপতি মইনুল জানান, ওই সময় ‘জঙ্গিবাদ দমন’ নামের ছদ্মাবরণ ব্যবহার করে একটি নির্দিষ্ট শ্রেণির মানুষকে টার্গেট করা হয়েছিল। এর মাধ্যমে রাজনৈতিক বিরোধীদের নির্মূল, আন্তর্জাতিক মহলের সহানুভূতি অর্জন ও ক্ষমতায় দীর্ঘদিন টিকে থাকার কৌশল বাস্তবায়ন করা হয়।

তিনি বলেন, “মেধাবী শিক্ষার্থী, চিকিৎসক, সাংবাদিক, রাজনৈতিক কর্মী ও পেশাজীবীদের টার্গেট করে গুম করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, আর বিচারব্যবস্থাকে করা হয়েছে নিপীড়নের হাতিয়ার।”

মইনুল ইসলাম আরও বলেন, “এখনও যেসব ভুক্তভোগী ফিরে আসেননি, তাদের মধ্যে ১২ জনের বিষয়ে প্রাথমিক অনুসন্ধান সম্পন্ন হয়েছে। কারা তাদের গুমে জড়িত, সেটাও আমরা শনাক্ত করতে পেরেছি। তবে তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত প্রকাশ করা যাচ্ছে না।”

র‌্যাবকে গুমের ঘটনায় সবচেয়ে বেশি দায়ী করে তিনি বলেন, “এই অপরাধে র‍্যাবের সংশ্লিষ্টতা সবচেয়ে বেশি। এছাড়া দেশের কিছু গোয়েন্দা সংস্থা এবং ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদেরও সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মিলেছে। তবে ভারতীয়দের বিরুদ্ধে আমাদের এখতিয়ার নেই, দেশের যাদের সংশ্লিষ্টতা আছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি বলেন, “এটা কোনো ‘দু-একজন অসাবধান কর্মকর্তা’র বিচ্ছিন্ন আচরণ নয়। এটি ছিল রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ভেতর থেকে পরিচালিত একটি পরিকল্পিত অপারেশন। গুমের নামে মানুষকে বেআইনিভাবে আটক করে ভারতের নিরাপত্তা বাহিনীর কাছেও হস্তান্তর করা হয়েছে—যা চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের উদাহরণ।”

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

গুমের ২৫৩ অভিযোগের সত্যতা মিলেছে

সর্বশেষ আপডেট ০১:৪২:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ জুন ২০২৫

বাংলাদেশে গুমের ঘটনায় ২৫৩টি অভিযোগের সত্যতা মিলেছে বলে জানিয়েছেন গুম কমিশনের সভাপতি ও অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী। বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) সকালে গুলশানে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, “কমিশনে জমা পড়া ১ হাজার ৮৫০টি অভিযোগের মধ্যে তদন্ত শেষে ২৫৩টি গুমের ঘটনা প্রমাণিত হয়েছে। এগুলো বিচ্ছিন্ন বা ভুলবশত কোনো ঘটনা নয়। বরং এগুলো একটি সুসংগঠিত ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দমন নীতির অংশ ছিল, যার মাধ্যমে বিরোধী কণ্ঠগুলোকে স্তব্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছে।”

বিচারপতি মইনুল জানান, ওই সময় ‘জঙ্গিবাদ দমন’ নামের ছদ্মাবরণ ব্যবহার করে একটি নির্দিষ্ট শ্রেণির মানুষকে টার্গেট করা হয়েছিল। এর মাধ্যমে রাজনৈতিক বিরোধীদের নির্মূল, আন্তর্জাতিক মহলের সহানুভূতি অর্জন ও ক্ষমতায় দীর্ঘদিন টিকে থাকার কৌশল বাস্তবায়ন করা হয়।

তিনি বলেন, “মেধাবী শিক্ষার্থী, চিকিৎসক, সাংবাদিক, রাজনৈতিক কর্মী ও পেশাজীবীদের টার্গেট করে গুম করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, আর বিচারব্যবস্থাকে করা হয়েছে নিপীড়নের হাতিয়ার।”

মইনুল ইসলাম আরও বলেন, “এখনও যেসব ভুক্তভোগী ফিরে আসেননি, তাদের মধ্যে ১২ জনের বিষয়ে প্রাথমিক অনুসন্ধান সম্পন্ন হয়েছে। কারা তাদের গুমে জড়িত, সেটাও আমরা শনাক্ত করতে পেরেছি। তবে তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত প্রকাশ করা যাচ্ছে না।”

র‌্যাবকে গুমের ঘটনায় সবচেয়ে বেশি দায়ী করে তিনি বলেন, “এই অপরাধে র‍্যাবের সংশ্লিষ্টতা সবচেয়ে বেশি। এছাড়া দেশের কিছু গোয়েন্দা সংস্থা এবং ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদেরও সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মিলেছে। তবে ভারতীয়দের বিরুদ্ধে আমাদের এখতিয়ার নেই, দেশের যাদের সংশ্লিষ্টতা আছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি বলেন, “এটা কোনো ‘দু-একজন অসাবধান কর্মকর্তা’র বিচ্ছিন্ন আচরণ নয়। এটি ছিল রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ভেতর থেকে পরিচালিত একটি পরিকল্পিত অপারেশন। গুমের নামে মানুষকে বেআইনিভাবে আটক করে ভারতের নিরাপত্তা বাহিনীর কাছেও হস্তান্তর করা হয়েছে—যা চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের উদাহরণ।”