গুমের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড রেখে অধ্যাদেশ জারি
- সর্বশেষ আপডেট ০৭:৩৮:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৫
- / 67
গুম প্রতিরোধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা রেখে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করেছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। সোমবার (২ ডিসেম্বর) এই অধ্যাদেশের গেজেট প্রকাশ করা হয়। এর আগে ৬ নভেম্বর উপদেষ্টা পরিষদ খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়।
অধ্যাদেশে জানানো হয়েছে, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হবে। এই আইনের আওতায় সংঘটিত অপরাধ সমূহ হবে জামিনযোগ্য নয় এবং আপসের অযোগ্য।
অধ্যাদেশ অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মচারী বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য যদি কাউকে গ্রেপ্তার, আটক বা অপহরণের পর তা অস্বীকার করেন, অথবা তার অবস্থান ও পরিণতি গোপন করেন এবং এর ফলে ওই ব্যক্তি আইনগত সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হন—তাহলে তা গুম হিসেবে গণ্য হবে। এ ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা অনধিক ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
গুমের ফলে কোনো ব্যক্তির মৃত্যু ঘটলে, বা পাঁচ বছর পরও তাকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় খুঁজে পাওয়া না গেলে দায়ী ব্যক্তির সর্বোচ্চ শাস্তি হবে মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। গুমের উদ্দেশ্যে সাক্ষ্যপ্রমাণ নষ্ট করা কিংবা গোপন আটককেন্দ্র নির্মাণ, স্থাপন বা ব্যবহারের অপরাধে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
এছাড়া, অধস্তনদের মাধ্যমে এ ধরনের অপরাধ সংঘটনের ক্ষেত্রে কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা যদি নির্দেশ, অনুমতি, সম্মতি বা প্ররোচনা দেন, কিংবা নিজে অংশ নেন, তবে তাকেও মূল অপরাধের মতোই দণ্ড ভোগ করতে হবে। আবার তার অবহেলা বা তদারকিতে ব্যর্থতার ফলে অধস্তনরা যদি গুমের মতো অপরাধে জড়ায়, তাহলেও সেই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দায়ী থাকবেন এবং শাস্তির মুখোমুখি হবেন।
অধ্যাদেশে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা, শৃঙ্খলা ও নিয়ন্ত্রণে অবহেলার কারণেও গুম-সংক্রান্ত অপরাধে জড়ানোর দায় এড়ানো যাবে না।
































