ঢাকা ০৯:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

গায়ের জোরে কিছু চাপালে দায় নিতে হবে সরকারকে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঠাকুরগাঁও
  • সর্বশেষ আপডেট ০৪:৩৯:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫
  • / 49

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নয় মাস ধরে সব দলের সঙ্গে আলোচনা করে যে বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে, তার বাইরে কোনো কিছু জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হলে এর সব দায় সরকারকেই নিতে হবে।

মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বড়গাঁও ইউনিয়নের কিসমত কেশুরবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সতর্কবার্তা দেন।

তিনি বলেন, “জোর করে পিআর (অনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) পদ্ধতি চাপিয়ে দিতে চায় সরকার। কিন্তু সাধারণ মানুষ এ পদ্ধতি বোঝে না, আমরাও এটি মানি না। আমরা তো সবসময়ই প্রার্থীকে দেখে ভোট দিয়ে এসেছি। পিআর হচ্ছে মানুষকে বিভ্রান্ত করা ও নির্বাচন পেছানোর কৌশল।”

নির্বাচন পেছানোর সুযোগ নেই জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “এবার নির্বাচন বিলম্বিত হলে দেশ ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হবে। বিএনপি শুধু সেই সিদ্ধান্তের পক্ষেই থাকবে, যা নিয়ে ঐকমত্য হয়েছে।”

সরকারপ্রধানকে উদ্দেশ্য করে ফখরুল বলেন, “শেখ হাসিনা ভারতে বসে দেশের সর্বনাশ করছেন। এত সাহস থাকলে দেশে ফিরে আসুন। আমরাও জেল খেটেছি, আপনিও কিছুদিন খাটুন।” তিনি দাবি করেন, গণভবনের কাছে জনতা পৌঁছালে একসময় হাসিনা হেলিকপ্টারে পালিয়ে গিয়েছিলেন।

জামায়াতকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “কিছু দল প্রচার করছে, তারা নাকি একমাত্র দেশপ্রেমিক ও সৎ দল, এমনকি ‘বেহেশতের টিকিট’ বিক্রি করছে। অথচ বেহেশতের টিকিট দিতে পারেন শুধু আল্লাহ ও তাঁর নবী। যারা এমন কথা বলে, তারা ইসলামের অপব্যাখ্যা দিচ্ছে।”

তিনি আহ্বান জানান, “মোনাফেকদের থেকে সাবধান থাকতে হবে। তারা ইসলামকে বিকৃত করছে, এটি প্রকৃত ধর্ম নয়।”

বিএনপির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে ফখরুল বলেন, “দল ক্ষমতায় গেলে তারেক রহমানের পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৫ মাসে ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান করা হবে। মা-বোনদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু হবে, যাতে ন্যায্যমূল্যে পণ্য পাওয়া যায়। কৃষকদের সার, বীজ ও সেচ সুবিধায় থাকবে ‘ফার্মাস কার্ড’। পাশাপাশি বিচার বিভাগ হবে স্বাধীন, যাতে বিচারকরা নির্ভয়ে ন্যায়বিচার দিতে পারেন।”

জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “তিনি সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ যুক্ত করেছিলেন এবং আল্লাহর প্রতি অবিচল আস্থা ও বিশ্বাসের ধারা স্থাপন করেছিলেন। তিনিই ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’-এর ধারণা দেন, যেখানে সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে বসবাস করতে পারে।”

সভায় ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি ডা. আহম্মদ আলীর সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন, সাধারণ সম্পাদক মো. পয়গাম আলী, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদ, সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান তুহিনসহ স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

গায়ের জোরে কিছু চাপালে দায় নিতে হবে সরকারকে

সর্বশেষ আপডেট ০৪:৩৯:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নয় মাস ধরে সব দলের সঙ্গে আলোচনা করে যে বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে, তার বাইরে কোনো কিছু জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হলে এর সব দায় সরকারকেই নিতে হবে।

মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বড়গাঁও ইউনিয়নের কিসমত কেশুরবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সতর্কবার্তা দেন।

তিনি বলেন, “জোর করে পিআর (অনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) পদ্ধতি চাপিয়ে দিতে চায় সরকার। কিন্তু সাধারণ মানুষ এ পদ্ধতি বোঝে না, আমরাও এটি মানি না। আমরা তো সবসময়ই প্রার্থীকে দেখে ভোট দিয়ে এসেছি। পিআর হচ্ছে মানুষকে বিভ্রান্ত করা ও নির্বাচন পেছানোর কৌশল।”

নির্বাচন পেছানোর সুযোগ নেই জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “এবার নির্বাচন বিলম্বিত হলে দেশ ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হবে। বিএনপি শুধু সেই সিদ্ধান্তের পক্ষেই থাকবে, যা নিয়ে ঐকমত্য হয়েছে।”

সরকারপ্রধানকে উদ্দেশ্য করে ফখরুল বলেন, “শেখ হাসিনা ভারতে বসে দেশের সর্বনাশ করছেন। এত সাহস থাকলে দেশে ফিরে আসুন। আমরাও জেল খেটেছি, আপনিও কিছুদিন খাটুন।” তিনি দাবি করেন, গণভবনের কাছে জনতা পৌঁছালে একসময় হাসিনা হেলিকপ্টারে পালিয়ে গিয়েছিলেন।

জামায়াতকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “কিছু দল প্রচার করছে, তারা নাকি একমাত্র দেশপ্রেমিক ও সৎ দল, এমনকি ‘বেহেশতের টিকিট’ বিক্রি করছে। অথচ বেহেশতের টিকিট দিতে পারেন শুধু আল্লাহ ও তাঁর নবী। যারা এমন কথা বলে, তারা ইসলামের অপব্যাখ্যা দিচ্ছে।”

তিনি আহ্বান জানান, “মোনাফেকদের থেকে সাবধান থাকতে হবে। তারা ইসলামকে বিকৃত করছে, এটি প্রকৃত ধর্ম নয়।”

বিএনপির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে ফখরুল বলেন, “দল ক্ষমতায় গেলে তারেক রহমানের পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৫ মাসে ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান করা হবে। মা-বোনদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু হবে, যাতে ন্যায্যমূল্যে পণ্য পাওয়া যায়। কৃষকদের সার, বীজ ও সেচ সুবিধায় থাকবে ‘ফার্মাস কার্ড’। পাশাপাশি বিচার বিভাগ হবে স্বাধীন, যাতে বিচারকরা নির্ভয়ে ন্যায়বিচার দিতে পারেন।”

জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “তিনি সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ যুক্ত করেছিলেন এবং আল্লাহর প্রতি অবিচল আস্থা ও বিশ্বাসের ধারা স্থাপন করেছিলেন। তিনিই ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’-এর ধারণা দেন, যেখানে সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে বসবাস করতে পারে।”

সভায় ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি ডা. আহম্মদ আলীর সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন, সাধারণ সম্পাদক মো. পয়গাম আলী, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদ, সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান তুহিনসহ স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা।