ঢাকা ০৪:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গাজা শান্তি চুক্তিতে স্বাক্ষর করল যুক্তরাষ্ট্র, মিসর, কাতার ও তুরস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:২৬:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৫
  • / 102

গাজা শান্তি চুক্তিতে স্বাক্ষর করল যুক্তরাষ্ট্র, মিসর, কাতার ও তুরস্ক

দীর্ঘ দুই বছরের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর অবশেষে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় শান্তির এক নতুন অধ্যায় সূচিত হয়েছে। সোমবার (১৩ অক্টোবর) মিসরের পর্যটননগরী শারম আল শেখে আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে গাজা শান্তি চুক্তির গ্যারান্টি ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করে যুক্তরাষ্ট্র, মিসর, কাতার ও তুরস্ক। চুক্তির মাধ্যমে দেশগুলো গাজার স্থায়ী শান্তি, পুনর্গঠন ও প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।

সম্মেলনে উপস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই দিনটিকে “মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে এক নতুন সূচনা” বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, “আজ আমরা শুধু একটি চুক্তি নয়, বরং ভবিষ্যতের নিরাপদ ভিত্তি স্থাপন করছি। গাজার মানুষ বহু বছরের কষ্ট ও ধ্বংসের পর অবশেষে শান্তির ছোঁয়া পেতে যাচ্ছে।”

চুক্তি স্বাক্ষরের আগে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, এতে যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠন, প্রশাসনিক কাঠামো, মানবিক সহায়তা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিস্তারিত দিকনির্দেশনা থাকবে। তিনি বলেন, “এই চুক্তি স্থায়ী হবে—এটাই আমাদের প্রতিশ্রুতি।”

এর কয়েক ঘণ্টা আগে গাজায় বন্দি ও জিম্মি বিনিময়ের পর ট্রাম্প হঠাৎ সফরে ইসরায়েলে পৌঁছান। ইসরায়েলি পার্লামেন্টে দেওয়া ভাষণে তিনি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বের প্রশংসা করেন এবং ইসরায়েলি জনগণের দৃঢ়তা ও আত্মত্যাগের কথা উল্লেখ করেন। এরপর সরাসরি মিসরের শারম আল শেখে গিয়ে শান্তি সম্মেলনে যোগ দেন।

পার্লামেন্টে বক্তৃতাকালে ট্রাম্প বলেন, “৭ অক্টোবর থেকে আজ পর্যন্ত ইসরায়েল এক ভয়াবহ যুদ্ধের মধ্য দিয়ে গেছে। এই ভূমির মানুষ ভয় ও ক্ষতির ভার বহন করেছে বহু বছর। আজ তারা অবশেষে শান্তির আশা দেখতে পাচ্ছে।”

চুক্তির আওতায় গাজায় অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ, স্বাস্থ্যসেবা ও মানবিক সহায়তা, প্রশাসনিক সংস্কার এবং আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে নিরাপত্তা ব্যবস্থার পরিকল্পনা নেওয়া হবে। যুক্তরাষ্ট্র, মিসর, কাতার ও তুরস্ক গাজার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং নতুন করে সহিংসতা রোধে সমন্বিতভাবে কাজ করবে।

আন্তর্জাতিক মহল এই চুক্তিকে মধ্যপ্রাচ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়বদল হিসেবে দেখছে। বহু বছর ধরে চলা সংঘাত, ধ্বংস ও মানবিক বিপর্যয়ের পর গাজার মানুষ নতুন করে শান্তি ও নিরাপত্তার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে। তবে এই শান্তি কতটা টেকসই হবে, তা নির্ভর করবে সব পক্ষের আন্তরিকতা ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপের ওপর।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

গাজা শান্তি চুক্তিতে স্বাক্ষর করল যুক্তরাষ্ট্র, মিসর, কাতার ও তুরস্ক

সর্বশেষ আপডেট ০৮:২৬:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৫

দীর্ঘ দুই বছরের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর অবশেষে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় শান্তির এক নতুন অধ্যায় সূচিত হয়েছে। সোমবার (১৩ অক্টোবর) মিসরের পর্যটননগরী শারম আল শেখে আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে গাজা শান্তি চুক্তির গ্যারান্টি ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করে যুক্তরাষ্ট্র, মিসর, কাতার ও তুরস্ক। চুক্তির মাধ্যমে দেশগুলো গাজার স্থায়ী শান্তি, পুনর্গঠন ও প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।

সম্মেলনে উপস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই দিনটিকে “মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে এক নতুন সূচনা” বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, “আজ আমরা শুধু একটি চুক্তি নয়, বরং ভবিষ্যতের নিরাপদ ভিত্তি স্থাপন করছি। গাজার মানুষ বহু বছরের কষ্ট ও ধ্বংসের পর অবশেষে শান্তির ছোঁয়া পেতে যাচ্ছে।”

চুক্তি স্বাক্ষরের আগে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, এতে যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠন, প্রশাসনিক কাঠামো, মানবিক সহায়তা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিস্তারিত দিকনির্দেশনা থাকবে। তিনি বলেন, “এই চুক্তি স্থায়ী হবে—এটাই আমাদের প্রতিশ্রুতি।”

এর কয়েক ঘণ্টা আগে গাজায় বন্দি ও জিম্মি বিনিময়ের পর ট্রাম্প হঠাৎ সফরে ইসরায়েলে পৌঁছান। ইসরায়েলি পার্লামেন্টে দেওয়া ভাষণে তিনি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বের প্রশংসা করেন এবং ইসরায়েলি জনগণের দৃঢ়তা ও আত্মত্যাগের কথা উল্লেখ করেন। এরপর সরাসরি মিসরের শারম আল শেখে গিয়ে শান্তি সম্মেলনে যোগ দেন।

পার্লামেন্টে বক্তৃতাকালে ট্রাম্প বলেন, “৭ অক্টোবর থেকে আজ পর্যন্ত ইসরায়েল এক ভয়াবহ যুদ্ধের মধ্য দিয়ে গেছে। এই ভূমির মানুষ ভয় ও ক্ষতির ভার বহন করেছে বহু বছর। আজ তারা অবশেষে শান্তির আশা দেখতে পাচ্ছে।”

চুক্তির আওতায় গাজায় অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ, স্বাস্থ্যসেবা ও মানবিক সহায়তা, প্রশাসনিক সংস্কার এবং আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে নিরাপত্তা ব্যবস্থার পরিকল্পনা নেওয়া হবে। যুক্তরাষ্ট্র, মিসর, কাতার ও তুরস্ক গাজার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং নতুন করে সহিংসতা রোধে সমন্বিতভাবে কাজ করবে।

আন্তর্জাতিক মহল এই চুক্তিকে মধ্যপ্রাচ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়বদল হিসেবে দেখছে। বহু বছর ধরে চলা সংঘাত, ধ্বংস ও মানবিক বিপর্যয়ের পর গাজার মানুষ নতুন করে শান্তি ও নিরাপত্তার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে। তবে এই শান্তি কতটা টেকসই হবে, তা নির্ভর করবে সব পক্ষের আন্তরিকতা ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপের ওপর।